চাঁদপুর নিউজ রিপোর্ট
চাঁদপুর শহরের মরহুম আঃ করিম পাটওয়ারী সড়কে অবস্থিত কর্ণফুলী হাসপাতালে টিউমার অপারেশন করানোর ১দিন পর ২ সন্তানের জননীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত নাজমা বেগম নাজুর (৩৭) লাশ তার মা ও বোনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে মৃত নাজমার পক্ষে ৭/৮জন যুবক হাসপাতালে এসে হট্টগোল করার চেষ্টা করে। এ সময় যুবকরা একটি প্লাস্টিকের মোরা ভাংচুর করে।
জানা যায়, গত শুক্রবার নাজমা বেগম নাজু আবু কালাম নামের জনৈক ব্যক্তির মাধ্যমে জরায়ু টিউমার অপারেশনের জন্য কর্ণফুলী হাসপাতালে ভর্তি হয়। ওই দিন দুপুর আড়াইটায় সার্জারি চিকিৎসক হাসানুজ্জামান নাজমা বেগমের সফল অস্ত্রপচার করে টিউমার অপসারণ করেন। রাতে নাজমা বেগমের খিঁচুনি দেখা দেয়। ওই সময় কর্ণফুলী হাসপাতালের ডিউটিরত চিকিৎসক মাহমুদ হাসান বাপ্পি রাতে নাজমা বেগমের চিকিৎসা করেন। অপারেশনের সময় ৩ ব্যাগ রক্ত যোগার করে রাখা হয়। প্রয়োজন হয়নি বলে তা রোগীকে দেয়া হয়নি।
শনিবার ১ ব্যাগ রক্ত নাজমার শরীরে দেয়া হয়। নাজমা বেগম নাজু মারা যায়। সকাল ৭টায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নাজমার পরিবার ৫ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নাজমা বেগমের লাশ তার মা ও ছোট বোনকে বুঝিয়ে দিয়ে তাদের অ্যাম্বুলেন্সযোগে পুরাণবাজার নিতাইগঞ্জে পাঠিয়ে দেয়। পরে মৃত নাজমার ভাই শাহাদাত বোনের মৃত্যুতে ক্ষিপ্ত হয়ে কর্ণফুলী হাসপাতালে তার কয়েক বন্ধু নিয়ে হাসপাতালে এসে নাজমার মৃত্যু ও কেন লাশ তড়িগড়ি করে বাড়িতে পাঠানো হলো তা নিয়ে উত্তেজিত হয়ে একটি প্লাস্টিকের মোড়া ভাংচুর করে। চেয়ার টেবিলে লাথি মারে।
ডাঃ হাসানুজ্জামানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রোগীর শরীর সুস্থ্য না হলে আমরা রক্ত পুশ করিনা। তার জন্য আনা বি পজেটিভ রক্ত ক্রসমিকশন করে রাখা হয়েছিলো। অপারেশনে প্রয়োজন হয়নি বিধায় দেয়া হয়নি। শনিবার রোগীর রক্তের প্রয়োজন হয়েছে বলে রক্ত দেয়া হয়েছে সকালে। সন্ধ্যার পর রোগীর খিঁচুনি দেখা দেয় ও হার্টব্রিট ফেলিউর হয়। রাতে ডাঃ সোহেল আহমেদ রোগীকে দেখে ব্যবস্থা নেয়। হার্ট ফেলিউর হওয়ার কারণে রোগী মারা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ডাক্তারদের কি করণীয় রয়েছে। তিনি আরো বলেন, কোনো চিকিৎসক চায়না তার চিকিৎসাধীন রোগী মারা যাক।
পরে দীর্ঘসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ও মৃত নাজমা বেগমের পরিবারের লোকদের মাঝে সমঝোতা করে গরীব অসহায় ও অবুঝ শিশু রাসেল (১৪) ও মুন্না (৬)-এর কথা চিন্তা করে কর্ণফুলী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত নাজমার পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা দিয়ে দেয়। তবে উল্লেখ্য ইতিপূর্বে এই হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলা আর গাফিলতিতে বেশ কয়েকজন রোগীর মৃত্যুর গুঞ্জন রয়েছে।
শিরোনাম:
শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
