এম আর ইসলাম বাবু : চাঁদপুর জেলা কোষ্টগার্ড কর্তৃক আটককৃত জেলেদের উপর অমানবিক নির্যাতন শেষে পরবর্তিতে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা কোষ্টগার্ড কর্তৃক আটককৃত ৪৬ জেলেদের সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত কোষ্টগার্ড পন্টুনে উত্তপ্ত রোদ্রে বসিয়ে রেখে জেল হাজতে প্রেরণের কাগজ পত্র তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়াও নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট ও কোষ্টগার্ড ষ্টেসন কমান্ডারের আগমনের পূর্বে কোষ্টগার্ড ফোর্স সদস্যরা আটক জেলেদের উপরে দফায় দফায় প্রহার করতে থাকে। গতকাল ১ম ধাপে কোষ্টগার্ড কর্তৃক আটকদের শরীর এমন ভাবে রশি দিয়ে বাঁধ দেওয়া হয় যেন তারা সোজা হয়ে দাঁড়াতে না পারে। তার পর প্রচন্ড রোদে উত্তপ্ত পন্টুনের লোহার গরম মেঝেতে বসিয়ে রাখে ঘন্টার পর ঘন্টা। এরপর ২য় ধাপে কোষ্টগার্ড সদস্যরা একের পর এক শুরু করে তাদের খবরদারি। কোষ্টগার্ড সদস্য শাহজাহান গতকাল আটক প্রায় প্রত্যেক জেলেকে তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে গরু পেটা করতে থাকে। তারা চিৎকার করলে তাদের উপরে আরো চড়াও হয়। এসময় কোষ্টগার্ড সদস্য মুকবুল এসে তাকে বাঁধা প্রদান করে।
এ সময় রাতভর না খেয়ে থাকা অনেক জেলে এ ধরনের অত্যাচার সইতে না পেরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। আটক জেলেদেরকে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিলে তাদেরকে যেতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে আটককৃতদের অধিকাংশের পরিবারের লোকজন কোষ্টগার্ড এরিয়ার বাহিরে অপেক্ষারত থাকে। আটককৃতদের উপর এরকম নির্যাতন দেখে অপেক্ষমান স্বজনরাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে দেখা যায়। তাদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, আমাদেরকে অভয়াশ্রম চলাকালে কোন রকম সরকারি সাহায্য দেয়া হয়নি। অথচ মুখ পরিচিত এমন অনেককেই কার্ড দেওয়া হয়েছে যারা মাছ ধরা পেশার সাথে জড়িত নয়, তারা অনেকেই ডাঙ্গায় দোকানদারি, কাচা মালের ব্যাবসা করেন বলে অনেকে জানান। তাই অনেক জেলেই সরকারি সাহায্যের তালিকাভুক্তি না হওয়ায় পেটের তাগিদে নদীতে নামছে। এছাড়াও তারা আক্ষেপ করে বলেন সরকার কারেন্টে জাল উৎপাদন বন্ধ করতে পারেনা অথচ আমাদেরকে ধরে এনে মাসের পর মাস সাজা দিতে পারে, জাল পোড়াতে পারে। সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কেউ একটি বারের জন্যও ভাবেনা যে পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যাক্তিটি ২ মাস জেল হাজতে আটক থাকলে অসহায় পরিবারটি কি খেয়ে বাঁচবে? যেহেতু আমাদের উপার্জনশীল ব্যাক্তিটি অভয়াআশ্রম চলাকালে জেল হাজতে থাকবে সেহেতু আমাদেরতো আর নদীতে নামবার কোন উপায় নেই। আমাদের ভাতের ব্যাবস্থা সরকারকেই করতে হবে। তা না হলে আমাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।
শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
