
রফিকুল ইসলাম বাবু ॥
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামে চোর সন্দেহে খোরশেদ বেপারী (১৮) নামের এক কিশোরকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। ৩ অক্টোবর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মাঝি বাড়ির আমান মাঝির বসত ঘরে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে নির্যাতনের চিহ্ন নিয়ে অসহায় কিশোর চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে। খোরশেদ হাইমচর খা বাড়ির আবুল হোসেন খান। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বাখরপুর গ্রামের আবু তাহের মাঝির ডেকোরেটরের দোকানে আবুল হোসেন নামের এক শিশু দীর্ঘ ৮ বছর ধরে কাজ করতো। কাজের সুবাদে ওই কিশোরকে তাহের পাটওয়ারীরর বাড়িতে ঘুমাতো। ঘটনার রাতে সে ঘরের ছিটকনি লাগিয়ে ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলো। হঠাৎ করে কে বা কারা ঘরের ভেতরে চোর আছে বলে চিৎকার করে। ঘটনার এক পর্যায়ে স্থানীয় দুলাল খান,শিমুল, খোকনসহ আশপাশের লোক ঘরের দড়জা খুলে অন্ধকারে ঘুমন্ত অবস্থায় কিশোরটিকে মারধর শুরু করে। তারা কিশোর আবুল হোসেনকে গলায় রশী পেঁচিয়ে টেনে হিচঁড়ে ঘরে বাইরে এনে সুপারী গাছের সাথে বেঁধে রাখে।এসময় কিশোরটি বাঁচার জন্য কান্নাকাটি করলেও তাকে আরো বেশী নির্যাতন করে বাড়ির উঠানে ফেলে রাখে।সকালে খোরশেদের স্বজনরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়।ঘটনার শিকার খোরশেতের ভাই জানায়, আমার ভাই দীর্ঘ ৮বছর ধরে তাদের ডেকেরেটরের দোকানে কাজ করতো। প্রায় সে আবু তাহের মাঝির বাড়িতে ঘুমাতো। ঘটনার রাতে আমার ভাই ওনাদের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলো। অথচ চোর সন্দেহে আমার ভাইকে তারা নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে। শুধু তাই নয়, আমার ভাইয়ের গলায় রশী পেঁচিয়ে বাড়ির উঠানে টেনে হিঁচড়ে নেয়া হয়েছে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু তাহের মাঝির ভাই আমান মাঝি জানায়, সে চুরির উদ্দেশ্যে আমার ঘরে ঠুকে ভেতর থেকে ছিটকনি লাগিয়ে রাখে। পরে আমরা বহু ডাকাডাকির পর সে দরজা না খোলায় আমরা দড়জা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকি। ভেতরে ঢুকে দেখতে পাই, সে ড্রয়ার ভাঙার চেষ্টা করছিলো। পরে চোরের খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত উৎসুক জনতা তাকে মারধর করে। কেউ তাকে গলায় রশী পেঁচায়নি বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ডের মেম্বার কালু খান জানায়, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ছেলেটিকে উদ্ধার করি। পরে তাকে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিয়েছি। এদিকে এই ঘটনায় এলাকাতে ব্যপক চাঞ্চল্যোর সৃষ্টি হয়েছে।
