চাঁদপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির সভা গতকাল রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোঃ ইসমাইল হোসেনের সভাপ্রধানে অনুষ্ঠিত সভায় বিগত ক’ মাসের জেলার আইনশৃঙ্খলার চিত্র তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আমীর আবদুল্লাহ মোঃ মঞ্জুরুল করীম। এরপর আইনশৃঙ্খলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বিভিন্ন প্রতারক চক্র মানুষকে নানাভাবে ধোকা দিয়ে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয়। বিষয়টি প্রথমে জেল সুপার আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জেলখানার আসামীদের নিয়ে একটি চক্র প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। সমপ্রতি তিনটি ঘটনার কথা তিনি সভায় উল্লেখ করেন। এর মধ্যে সর্বশেষ ঘটনাটি হচ্ছে- জেল সুপার পরিচয় দিয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় ফোন করে বলা হয় যুবদল সভাপতি শাহজালাল মিশন গুরুতর অসুস্থ তাকে ঢাকা পাঠাতে হবে। তার পরিবারের লোকজন যাতে তার সাথে যোগাযোগ করে। এরপর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার মনির আহমেদ ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাছির চোকদারকে ফোন করে বলেন, মিশনের পরিবারের সদস্যরা যাতে এ বিষয়ে যোগাযোগ করেন। পরে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ বাহার জেল সুপারের সাথে যোগাযোগ করলে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। এমনিভাবে হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়রও প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েন বলে জানান জেল সুপার। তার এই বক্তব্যের পর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালও বলেন, তিনিও এমন প্রতারকের খপ্পরে পড়েন। তাকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের বরাত দিয়ে ফোন করে ধোকা দেয়া হয়। এমনিভাবে সভায় উপস্থিত আরো কয়েকজন বলেন, তাদেরও এমন ভুয়া ফোন করা হয়। জেল সুপার সভায় জানান, জেলখানার আসামীদের নিয়ে এমন প্রতারণা সারাদেশেই হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে এ জেলায় ২ বছর ৮ মাস তাঁর কর্মকালীন সফলতার কথা তুলে ধরেন। আর এ সফলতার জন্যে জেলার সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সহযোগিতার কথা তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এ জেলার প্রতি আমার ভালোবাসা জন্মে গেছে। আমি খুব হ্যাপী। জেলা প্রশাসক হিসেবে যিনি আসছেন তাঁকেও সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাদকের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। এ ব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা লাগবে। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডাঃ রথীন্দ্রনাথ মজুমদার, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ প্রদীপ কুমার দত্ত, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এএসএম দেলওয়ার হোসেন, ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী প্রমুখ।

