
শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥ চাঁদপুর মেঘনা নদীতে কুমিল্লা থেকে গুরতে এসে প্রেমিক শামিম(২২) ও প্রেমিকা তাছতিয়া সুলতানা তানিয়া(১৮) সোনার তরি লঞ্চের ধাক্কায় নৌকা ডুবে মৃত্যু বরন করে। প্রেমিকা তাছতিয়া সুলতানা তানিয়ার তার পিতা আবুল কাশেমের আবেদনের প্রেক্ষিতে চাঁদপুর জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আমির আবদুল্লা মোহম্মদ মঞ্জুরুল করিম এর অনুমতি ক্রমে আজ রবিবার সন্ধায় চাঁদপুর পৌর কবরস্থান থেকে উত্তোলন করা হয়। এ সময় মডেল থানার উপ-পরিদর্শক হামিদুর রহমান ও তানিয়ার পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। পরে এ্যাম্বোলেন্স যোগে তানিয়ার বাবা আবুল কাশেম, কাকা নজরুল ইসলাম, ভাই রফিকুল ইসলাম রনি, মোঃ আরিফুল ইসলাম জনি ও অন্যান্য আত্বীয় স্বজন লাশ কুমিল্লা সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে জানাজার নামাজ শেষে পূনরায় লাশ পারিবারিক দাফন করা হয় বলে তার স্বজনরা জানায়।
উল্লেখ্য, চাঁদপুর মেঘনা মোহনায় ২৭ সেপ্টোম্বর রবিবার দুপুরে বাগের হাটের প্রস্তাবিত সোনার তরী লঞ্চের সাথে ধাক্কায় নৌকা ডুবিতে ২জন নিখোঁজ হয়। নিহত অজ্ঞাত পরিচয়ে নারীর বেওয়ারিশ লাশ পুলিশ ২৯ সেপ্টোম্বর মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার করে চাঁদপুর আঞ্জুমানে খাদেমুল ইনসান এর মাধ্যমে পৌর কবর স্থানে দাফন করে। লাশ দাফন করার পরদিন অনলাইন পত্রিকা চাঁদপুর নিউজে ছবি ও নিউজ দেখে কুমিল্লা থেকে নিহত তাছকিয়া সুলতানা তানিয়ার বড় ভাই রনি ও পরিবারের লোকজন চাঁদপুরে আসে ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে তার পরিচয় ও লাশ সনাক্ত করা হয়। চাঁদপুর সদর উপজেলার বহরিয়ায় মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারী কুমিল্লা সদরের গোবিন্দপুর এলাকার আবুল কাশেমের মেয়ে তাছকিয়া সুলাতানা তানিয়া (১৮)। তাছকিয়ার ভাই রনি চাঁদপুর মডেল থানায় এসে পরনের জামা-কাপড় হাত ঘড়ি পায়ের নূপুর দেখে তাকে চিহ্নিত করে। ঘর থেকে এইসব জামা-কাপড় পড়ে সেই রবিবার সকালে জন্মদিন উপলক্ষে তার বন্ধু শামিমকে নিয়ে বের হয়েছিলো বলে তাছতিয়ার ভাই রনি জানান।
তাছতিয়া সুলতানা তানিয়া কসবা টিআলি কলেজের ১য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলো। তার প্রতিবেশী আবুল কালামের ছেলে শামীমের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। ২৭ সেপ্টেম্বর পরিবারের অজান্তে তারা একসাথে বের হয়েছে বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন। লঞ্চের ধাক্কায় নৌকা ডুবিতে তারা ২জন প্রান হারায়। ৩০ অক্টোবর শামীমের লাশ পায় ভোলা পুলিশ এবং তাকে ১ অক্টোবর পরিবারের লোকজন কুমিল্লা নিয়ে দাফন করে।
