রফিকুল ইসলাম বাবু ঃ চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদি রোডে অবস্থিত হাফিজিয়া মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগের এক শিশু ছাত্রকে বেদম প্রহারের অভিযোগে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষককে রোববার রাতে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত শিক্ষকের নাম মাহমুদুল হাসান। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার বড়–য়া উপজেলায় বলে জানা গেছে। সে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হয়।
জানা যায়, হেফজ বিভাগের আনুমানিক সাত বছর বয়সী ছাত্র আব্দুল আহাদ পড়ালেখায় তেমন একটা মনযোগী নয়। এ জন্য গত এক সপ্তাহ ধরে ওই শিক্ষক তাকে বেদম মারধোর করে আসছে। শনিবার সকালে তাকে মারতে মারতে তার হাত-পা ফুলিয়ে ও রক্তাক্ত করে ফেলা হয়। স্থানীয় ফার্মেসী থেকে জ্বর ও ব্যাথার কিছু ঔষধ এনে তাকে খাওয়ায়। রোববার বিকেলে শিশুটি মাদ্রাসা লাগোয়া ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা তার নানা সম্পর্কীয় এক আতœীয়কে বিষয়টি জানায়। তিনি তাকে তার বাসা ও মাদ্রাসা সংলগ্ন ঢালী মসজিদে নিয়ে আসেন। আসর নামাজের পর কৃষি ব্যাংকের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সহকারি মহাব্যবস্থাপক ও মাদ্রাসা লাগোয়া ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা তসলিম চৌধুরী বিষয়টি এলাকার কয়েকজন মুসল্লিকে জানায়। এতে এলাকাবাসী ক্ষুব্দ হয়ে উঠে।সাংবাদিক তাৎক্ষণিক চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে চাঁদপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মাদ্রাসার শিক্ষককে গ্রেফতার করে আহত শিশুটিকেসহ থানায় নিয়ে যায়। সন্ধ্যার পর পর ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লা আল মাহমুদ জামান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টিও তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা দেখতে পেয়ে মাদ্রাসার মোহতামিম ওসমান গণিকে সোমবার সকালে শিশুটিকে নিয়ে তার কার্যালয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। জানা যায়, আবাসিক ওই মাদ্রাসায় শিশু শ্রেণী থেকে ৫ম’ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। মাদ্রাসায় নূরাণী বিভাগ, হেফজ বিভাগসহ আরো কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। এই মাদ্রাসায় মোট ছাত্র সংখ্যা ১শ’২০ জন। চার তলা বিশিষ্ট এই মাদ্রাসাটি ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে টাকার বিনিময়ে ছাত্রদের পড়ালেখা করতে ও থাকতে হয়। এসব বিষয়ে মাদ্রাসার মোহতামিম ওসমান গণির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, একটা ভুল হয়ে গেছে। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। তদন্তে আসা চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লা আল মাহমুদ জামান জানান, শিশু নির্যাতনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। নির্যাতনকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
