শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক।। চাঁদপুর সদর মডেল থানায় উদ্ধার হওয়ায় কিশোরি পুলিশি হেফাজতে ৪ দিন থাকার পর তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে নিখোজ হওয়ায় কিশোরি নাছিমা আক্তার(১৬)কে অবশেষে তার মা হালিমা বেগমের কাছে বুঝিয়ে দেয়।
জানা যায়, গত ১৫ দিন পূর্বে লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার পশ্চিম বিঘা গ্রামের হালিমা বেগমের মেয়ে বাড়ি থেকে বের হবার পর নিখোজ হয়। তার বাবা শাহআলম মারা যাবার পর মা হালিমার ঐ গ্রামের রিস্কা চালক মনির হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। কিশোরি নাছিমা মায়ের কাছেই থাকতো। ঘটনারদিন তার মা তাকে একা রেখে নানার বাড়িতে যাওয়ার পরে কিশোরি বাড়ি থেকে বেড় হবার পর নিখোজ হয়। গত ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে মডেল থানা পুলিশ মহামায়া বাজার এলাকায় কিশোরিকে কাঁদতে দেখে সেখান থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তার পরিবারের মোবাইল নাম্বারে ফোন করে থানায় আসতে বলে। কিন্তু হতদরিদ্র মা টাকার অভাবে গাড়ি ভাড়া জোগার না করতে পারায় খবর পেয়েও চাঁদপুরে আসতে বিলম্ভ করে। মায়ের কাছে যেতে না পেরে কিশোরি থানায় অজোর ধারায় কাঁদতে থাকে। মা আসতে দেরি করার কারনে কিশোরি তার মাথা নিজেই মডেল থানার দেওয়ালের সাথে আঘাত করে ফাঁটিয়ে ফেলে। পরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে থানায় নিয়ে আসে।
কিশোরির মায়ের গাড়ি ভাড়ার জন্য চাঁদপুর মডেল থানার এসআই আওলাদ নিজের ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে টাকা বিকাশে পাঠায়। টাকা পেয়ে অবশেষে হতদরিদ্র মা হালিমা বেগম চাঁদপুরে এসে তার মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়।
পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আওলাদ জানায়, রাস্তায় কাঁদতে দেখে নিখোজ হওয়া কিশোরিকে পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ ৪ দিন তাকে থানা হেফাজতে রাখে। টাকার অভাবে তার মা আসতে না পারায় ওসি ইবরাহিম খলিলের নির্দেশ্যে বিকাশে ভাড়ার টাকা পাঠানো হয়। পরে কিশোরির মা ও সৎ
বাবা আসার পর তাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
