প্রতিনিধি
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এবার অপ্রাপ্ত বয়সের এক স্কুল ছাত্রীকে প্রাপ্ত বয়সের মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ডাক্তার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মেডিকেল সার্টিফিকেট বাণিজ্য করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু কোনো অভিযোগ করেও তার কিছুই হয়নি। যে কারণে তিনি ফ্রি স্টাইলে সার্টিফিকেট বাণিজ্য করে আসছেন।
এবার অপ্রাপ্ত মেয়েকে সার্টিফিকেট দেয়ার অভিযোগ করেছেন শাহিনা বেগম (৩৪), স্বামী- মোস্তাফিজ কাজী, সাং- মধ্য বালিয়া, চাঁদপুর সদর। তিনি জানান, ১৯৯৮ সালের ২০ আগস্ট তার বিয়ে হয়। বিয়ের কাবিননামা অনুযায়ী বর্তমানে তার বিয়ের বয়স ১৫ বছর কয়েক মাস। শাহিনা বেগমের প্রথম সন্তান মাহমুদা খাতুনের বয়স ১৪ থেকে প্রায় ১৫ বছর হবে। সম্প্রতি এলাকার এক লম্পট ছেলে অন্যদের সহযোগিতায় তার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৩১, তারিখ ১৩/০৩/২০১৪। পুলিশ মেয়েকে উদ্ধার করলে আদালত মেয়ে মাহমুদার বয়স অপ্রাপ্ত দেখে তাকে তার মায়ের জিম্মায় দিয়ে দেয়। আসামী রাসেল হাওলাদার, পিতা শাহজাহান হাওলাদারকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। এমতাবস্থায় মাহমুদা খাতুনকে প্রাপ্ত বয়স দেখানোর জন্য বিবাদী পক্ষ কৌশলে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের ওই চিকিৎসককে ম্যানেজ করে মেয়ের বয়স ১৭ থেকে ১৮ বছর এ মর্মে একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট করিয়ে নেন। ডাঃ সিরাজুল ইসলাম মেয়ের বয়স সার্টিফিকেট গত ২১ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে ইস্যু করেন। আসামী পক্ষ এটিকে কাজে লাগানোর জন্য মেয়ের বয়স বাড়ানোর মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। মাহমুদা খাতুন নবম শ্রেণী পাস করে বালিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন মেয়েটির বয়স ১৪ বছর কয়েক মাস হবে। জন্ম নিবন্ধনেও তার বয়স ১৫ বছরের কাছাকাছি। অপ্রাপ্ত বয়সের সকল তথ্য প্রমাণাদি থাকা সত্ত্বেও কিভাবে স্কুল পড়�য়া একটি মেয়েকে প্রাপ্ত বয়স দেখানোর জন্য বয়সের মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদান করা হলো। তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শাহিনা বেগম ও তার পরিবার। তিনি ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান।
