
শাহরিয়ার খান কৌশিক,
করোনার উপসর্গ নিয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে
চিকিৎসাধীন সোহাগ মিজি নামে এক যুবক মারা গেছে। তার বয়স আনুমানিক ৩৩ বছর।
মারা যাওয়া যুবকের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলা ১৩ নং হানারচর ইউনিয়ন ৯ নং
ওয়ার্ডের আখন ঘাট ছৈয়দ আলী মিজির ছেলে।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ
পারিবারিক কলহের জেরে পিটিয়ে ও তল পেটে লাথি মেরে হত্যা করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন যাবৎ সোহাগ ফরিদগঞ্জে উপজেলার ৯ নং গুবিন্দপুর ইউনিয়নের মধ্য
হরিনা গ্রামে তার শ্বশুর বাড়িতে থাকতো। সোহাগের স্ত্রী তানিয়ার মাঝে সব
সময় ঝগড়া বিবাদ হতো। পরে স্ত্রী তানিয়া ও শ্বশুর তোফাজ্জল হোসেন মিজি সহ
বাড়ির লোকজন তার তলপেটে লাথি মারলে শ্বাস নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।
সোমবার দিবাগত রাতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে
আসে কর্তব্যরত ডাক্তার কে ভুল তথ্য দেয়। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহভাজন
রোগী হিসেবে তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার
সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত সোহাগের মা
বেলি খাতুন ও বাবা সৈয়দ আলী গাজী জানায়, করুণা ভাইরায়ে ছেলের মৃত্যু
হয়নি, তাকে তলপেটে লাথি মেরে হত্যা করা হয়েছে। সোহাগ সুস্থ ছিল, দুই দিন
পূর্বে বাড়ি থেকে গিয়েছে। শশুর বাড়ী যাওয়ার পর রাতে ঝগড়া হলে তাকে
পিটিয়ে হত্যা করে। আমরা তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিচারের দাবী জানাই।
সদর হাসপাতালের আরএমও ও করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা
রুবেল জানান, রাত ৩টার কিছু পরে ওই যুবক প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে চাঁদপুর
সদর হাসপাতালে আসে।
করোনার উপসর্গ থাকায় সন্দেহজনক রোগী হিসেবে রাতেই
তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি কর হয়। সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটের দিকে
রোগী মারা যায়।তিনি আরো জানান, করোনা টেস্টের জন্য মৃতের নমুনা সংগ্রহ করা
হয়েছ।
বিকেলে নিহত সোহাগের লাশ চাঁদপুর সরকারি হাসপাতাল থেকে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের এম্বুলেন্সে উঠিয়ে তার বাবার বাড়িতে নিয়ে আসে।
পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
