চাঁদপুরের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের আর মাস শেষে বিল কপি নিয়ে বিল জমা দিতে হবে না। অথবা মিটার রিডিংম্যানদেরও আর মিটারের গোড়ায় গিয়ে রিডিং আনতে হবে না এবং বিল কপিও আর গ্রাহকদের কাছে পেঁৗছাতে হবে না। মোবাইল কার্ড রিচার্জের মতো বিদ্যুতের বেলায়ও ‘প্রি-পেইড’ কার্ড রিচার্জের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে। এর জন্যে গ্রাহকদের ‘প্রি-পেইড’ মিটার সরবরাহ করা হবে। চাঁদপুর পিডিবি এই ‘প্রি-পেইড’ মিটার সংযোগ কার্যক্রম চলতি জুন মাস থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
চাঁদপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রি-পেইড মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার চালু হয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে প্রায় ১ লাখ গ্রাহক প্রি-পেইড মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। চাঁদপুরে এ সিস্টেম চলতি জুন মাস থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করবে পিডিবি। চাঁদপুর পিডিবির (বিক্রয় ও বিতরণ) নির্বাহী প্রকৌশলী আ.ফ.ম. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ পদ্ধতি চালু হলে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবে এবং হয়রানির শিকার হবে না। মোবাইল একাউন্টের মতোই বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারে গ্রাহকের টাকা জমা থাকবে। বিদ্যুৎ খরচ অনুযায়ী মিটারে বিল কাটা হবে। গ্রাহক যত টাকার প্রি-পেইড কার্ড ক্রয় করবে তত টাকারই বিদ্যুৎ খরচ করতে পারবে। কার্ডের টাকা শেষ হয়ে গেলে অটোমেটিক বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাবে। আবার কার্ড কিনলে বিদ্যুৎ পাবে। এ পদ্ধতি চালু হলে মিটার রিডিং নিয়ে গ্রাহকদের যে হয়রানির অভিযোগ ছিলো তা আর হবে না।
চাঁদপুর পিডিবির উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ ইসমাইল হোসেন চাঁদপুরে প্রি-পেইড মিটার প্রসঙ্গে জানান, পিডিবি’র আওতাধীন চাঁদপুরে যতোগুলো মিটার রয়েছে সেগুলো ফিডার ভিত্তিক পর্যায়ক্রমে প্রি-পেইড মিটারিং সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ২ হাজার প্রি-পেইড মিটার ইতোমধ্যে চলে এসেছে। এসব মিটার সাপ্লাই দিচ্ছে চায়না। তিনি জানান, পিডিবির আওতায় চাঁদপুরে সর্বমোট ৪৬ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহককে ক্রমান্বয়ে ডিজিটাল ও এনালগ মিটার পাল্টে প্রি-পেইড মিটার দেয়া হবে। এক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো টাকা পয়সা নেয়া হবে না। তবে নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে প্রি-পেইড মিটারে অবশ্যই খরচ লাগবে। তিনি আরো জানান, এই প্রি-পেইড মিটারিং সিস্টেমের জন্যে চাঁদপুর বিদ্যুৎ কার্যালয়ে বুথ খোলা হবে। এখান থেকেই মিটার নম্বর অনুযায়ী প্রত্যেক গ্রাহককে একটি করে মিটার কার্ড দেয়া হবে। গ্রাহকরা মোবাইলে রিচার্জ কার্ডের মতোই প্রি-পেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করবেন। রিচার্জকৃত টাকা মিটারেই জমা থাকবে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ খরচ অনুযায়ী মিটার থেকে বিল কাটা হবে। এই প্রি-পেইড মিটার যদি চালু হয় তাহলে একদিকে যেমন অবৈধ সংযোগ ও বিদ্যুৎ অপচয় কমবে অন্যদিকে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ ব্যবহারে অনেক সাশ্রয়ী হবেন।
