
শওকত আলী ঃ
চাঁদপুরে প্রান্তিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠি সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী খাস জমি বরাদ্ধ পাচ্ছেনা। তাদের কেহ একান্ত সরকারি খাস ভূমি বরাদ্ধ পায়নি বলে তাদের সাথে আলাপ করে জানাগেছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সরকারি খাস ভূমি প্রাপ্তিতে তাদের চলমান উদ্যোগ থাকলেও তারা ভূমি প্রাপ্তিতে যথাযথ সহযোগীতা না পাওয়ায় তারা বরাদ্ধ পাওয়া থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পথ খুজে পাচ্ছেনা। যার ফলে তাদের উদ্যোগ পিছিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন তাদের পক্ষে থাকলেও তারা বৈষম্যের কারনে পিছিয়ে রয়েছে। প্রশাসন তাদেরকে পথ দেখালেও তারা সে পথে এগিয়ে যেতে পারছেনা। প্রান্তিকরা ভূমি প্রাপ্তিতে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং তারা এসব জটিলতার জন্য ভূমি বরাদ্ধ পাচ্ছেনা। এ সমস্য সমাধানের একমাত্র উপায় হচ্ছে রাজনৈতিক ভাবে এদের জন্য একটি সঠিক নিয়মনীতি তৈরি করে এদেরকে সহযোগীতা করা। তাহলে প্রান্তিকরা অতি সহজে তাদের ভূমিহিন অবস্থা থেকে ভূমি বরাদ্ধ পেয়ে এক খন্ড ভূমির মালিক হতে প্রান্তিকদের সহজ হবে। রাজনৈতিক সহযোগীতা পেলে প্রশাসন তাদের জন্য শতভাগ সহযোগীতা করার ক্ষেত্রে একমত রয়েছে। এদেশের যে সব প্রান্তিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠি রয়েছে, তারা দীর্ঘ প্রায় ২শ’ বছর যাবত এদেশে একখন্ড জমি পাওয়ার জন্য তাদের উৎসাহ ও উদ্যোগ রয়েছে। তারা অর্থ সংকটের কারনে জমি ক্রয় করতে পারছেনা। তারপরও তারা জমির মালিক হয়ে স্থায়ী ভাবে বসবাস করার ব্যাপক আশা আকাঙ্খা লালন করে যাচ্ছে। অনেকে সরকারি খাস ভূমি বরাদ্ধ পাওয়ার চেস্ট করেও ভূমির বরাদ্ধ পেতে বঞ্চিত রয়েছে। তারপরও তারা বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের সরকারের কাছে তাদের ব্যাপক আকাঙ্খা রয়েছে জমি বরাদ্ধ প্রাপ্তিতে। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র সহায়তা ও উাদ্যোগের প্রয়োজন। তাহলে প্রান্তিকরা খাস জমি পেয়ে স্থায়ী বসতি করতে পারে এদেশে প্রকৃত নাগরিক হিসেবে। চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে হরিজন কলোনি, পুরানবাজার হরিজন কলোনি, স্বর্ণখোলা হরিজন কলোনিসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রান্তিক সংখ্যালঘুরা দলিত-হরিজন,ডোম,ঋষি, মনিঋষি, রবিদাস, মুচিসহ এ সম্প্রদায়ের প্রায় ২০ হাজার অসহায় মানুষ বসবাস করছে বলে এক জরিপে জানাগেছে। এরা সবাই এ দেশে বসবাস করছে ২শ’ থেকে আড়াইশ বছর পূর্ব থেকে। এরা যে স্থানে বসবাস করছে সে ভূমির মালিক চাঁদপুর পৌরসভা,বাংলাদেশ রেলওয়ে, জেলা প্রশাসন। তাদের পূর্ব পুরুষরা এখানে বসবাস করে গেছে। এদের একমাত্র দায়িত¦ হচ্ছে শহরের বিভিন্ন অফিস, আদালত, রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা করা। এ দায়িত্ব এক সময় সিমিত লোকেরা করলেও এখন এদের বংশ বৃদ্ধি হয়ে এরা হাজার হাজার মানুষে পরিনত হয়েছে। এদের বংশ বৃদ্ধি ২শ’ আড়াশ বছর যাবত হলেও এদের বাসস্থানের জায়গার পরিধি বারেনি। তারা একই স্থানে কস্ট শিকার করে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। কালের পরিবর্তনেও এদেশের মানুষের সংখ্যা কোটি কোটি গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রান্তিক হরিজন সম্প্রদায়ের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তারাও দেশের মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এরপরও তাদের নিয়ে স্থায়ী ভাবে এদেশের কোন সরকারই সঠিক কোন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেনা এদের জন্য। এরা শত-শত থেকে হাজার- হাজার হয়েছে, হাজার হাজার থেকে লক্ষ- লক্ষ হলেও এদের বাসস্থানের জায়াগার পরিধি তেমন বারেনি। তারপরেও এরা স্থায়ী ভাবে ভূমির মালিক হতে পারেনি শত শত বছরেও। এদেশে অসংখ্য সরকার ব্রিটিশ-পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ৪৭ বছরে এদেশ পরিচালনা করতে গিয়ে বহু সরকার এসেছে। কিন্তু এদের নিয়ে কোন সরকার ভাবতে দেখা যায়নি সঠিক ভাবে। বিগত কয়েক সরকারের সময় পত্র-পত্রিকায় এদের অসহায় জীবন-যাপন নিয়ে লেখালেখির পর রাষ্ট্রিয় বরাদ্ধ দিলেও সে বরাদ্ধ প্রান্তিকরা সঠিক ভাবে পাচ্ছেনা বলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মানুষেরা ও তাদের নেতাদের সাথে আলাপকালে জানা যায়। তার মধ্যে আবার এদের মাসিক মজুরি বা দিন মজুরি আনুপাতিক হারে বারেনি। যার ফলে এরা এদের সন্তানদের নিয়ে জীবন যাপন করতে মারাত্বক হিমশিম খেতে দেখা যাচ্ছে। এরা সরকারের সঠিক দিক নির্দেশনার মাধ্যমে সুন্দর জীবন যাপন করতে চায়। তাই তারা বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের সরকারের কাছে তাদের দাবী তাদেরকে সরকারি খাস জমি বরাদ্ধ দিয়ে সঠিক জীবন যাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং এদের জন্য এদেশের অন্য শ্রমিকের মতো দিন মজুরি ও মাসিক মজুরি বৃদ্ধি করে জীবন যাপনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রান্তিক সংখ্যালঘু নেতারা।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর রেলওয়ে হরিজন কলোনির শ্রী শ্রী মহাবীর রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক বিধান চন্দ্র দাস (জনি) হরিজন জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মধ্যে হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজনরা বিগত ব্রিটিশ আমল থেকে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত ও বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশে এর পূর্বেও সরকারি কলোনি যেমন পৌরসভার মাধ্যমে, রেলওয়ে কলোনির মাধ্যমে, সরকারি জায়গাতে বসবাস করে আসছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী হরিজনরা কোথায়ও এখন পর্যন্ত খাস জমি বরাদ্ধ পায়নি। তবে হরিজনদের প্রানের চিরকালের সর্ব প্রথম দাবী হরিজনরা যেখানে যে অবস্থায় আছে সরকারি এ কলোনিগুলো তাদের নামে খাস জমি হিসেবে বরাদ্ধ দিলে হরিজনরা বর্তমান সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। চাঁদপুরে প্রান্তিক হরিজন জনগোষ্ঠির কেহ কোন খাস জমি পায়নি। রেলওয়ে হরিজন কলোনির কেহই পায়নি খাস জমি আমার জানামতে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠি সরকারি কোন জায়গা বরাদ্ধ পায়নি এবং পাওয়ার প্রক্রিয়া আজও তারা জানেনি। তবে তারা আগামীতে খাস জমি পাওয়ার জন্য প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠি উপকৃত হবে এবং সুযোগ সুবিধা পাবে বলে তাদের ধারনা। বর্তমান সমস্যার মূল বিষয় হচ্ছে প্রকৃত পক্ষে চিন্তা করতে গেলে, বাংলাদেশ সরকারের সংবিধান অনুযায়ী সরকার প্রত্যেক নাগরিককে তার মৌলিক অধিকার পাওয়ার জন্য সহযোগীতা করবে, এটা সরকারের মূল দায়িত্ব। এ পর্যায়ে প্রান্তিক হরিজনরাই সরকারের এ দায়িত্ব নিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রেখে জনগণকে সুন্দর জীবন যাপনে সহযোগীতা করে যাচ্ছে। মূলত বিষয় হচ্ছে হরিজনরা নিজ বসবাস করা সরকারি জায়গাতে ২শ’ হতে আড়াইশ বছর বসবাস করছে। গত ৪ জানুয়ারি ২০১৮ সালে চাঁদপুরে সরকারি উন্নয়ন মেলাতে ভিডিও কনফরেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবতার কণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মহোদয়কে ভূমিহীনদেরকে ভূমির আওয়াতায় আনার জন্য গুরুত্ব সহকারে তালিকা করার জন্য নির্দেশ দেন। বর্তমান সরকারের ইস্তেহার মোতাবেক কৃষকের কৃষি কাজে ব্যাপক সহায়তা এবং প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে একজনের চাকুরীর ব্যবস্থা করবে এ অঙ্গিকার সরকারের থাকার পরেও হরিজন সম্প্রদায়ের শিক্ষিত যুবকরা চাকুরী থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তারা তাদের কোঠা অনুযায়ী পর্যন্ত চাকুরী পাচ্ছেনা। সরকারের উন্নয়নের প্রসার ধারাবাহিকতা ঘটলেও চাঁদপুর হরিজনদের নিজস্ব ভূমির ক্ষেত্রে তাদের ৩টি কলোনি খাস জমির মাধ্যমে প্রদান করলে আমি ব্যাক্তিগত ও হরিজনদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে চীর কতৃজ্ঞ থাকবো। সরকার সচেতন হলে আমরা খাস ভূমি পাওয়ার আশা করতে পারি। আশা করি প্রশাসন এ ব্যাপারে সহযোগীতা করবে আমাদের পাশে থেকে এবং এ সমস্যা সমাধানে সুযোগ করে দিবে। এক্ষেত্রে হরিজনরা উদ্যোগ নিলেও সরকার সহযোগীতা করলে প্রান্তিকরা ভূমি প্রাপ্তিতে সহজ হবে। খাস জমি প্রাপ্তিতে হরিজনদের সব সময় উৎস উদ্যোগ মোটামুটি রয়েছে, এখন শুধু সবাই প্রক্রিয়া মতো ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চেষ্টা করলেও সরকার দিলে তা তারা পাবে।
এ ব্যাপারে হরিজন সমাজ উন্নয়ন সংস্থার চাঁদপুরের সাধারণ সম্পাদক হিরা সরকার মুন্না বলেন, হরিজনরা খাস জমি বরাদ্ধ পেতে সরকারি ঘোষনা সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। কিন্তু খাস ভূমি পাওয়ার কোন উপায় পাচ্ছেনা। চাঁদপুরে হরিজন সম্প্রদায়ের লোকেরা কোন ভূমি এ পর্যন্ত সরকার থেকে বরাদ্ধ পায়নি। এরা দীর্ঘদিন ভূমি পাওয়ার জন্য প্রতিক্ষায় রয়েছে। বর্তমান সময়ে প্রান্তিক ভূমিহীন জনগোষ্ঠি জমি প্রাপ্তিতে উদ্যোগ রয়েছে। আমরা এখন ৫ হাত জায়গায় আছি, যদি ১০ হাত জায়গা বা বড় একটি জায়গা পাই তাহলে আমাদের বসবাস করতে ভালো হবে। এতে আমাদের প্রান্তিক হরিজনদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি প্রান্তিকদের ভূমি পাওয়ার ক্ষেত্রে। তবে প্রশাসন প্রান্তিকদের ভূমিপ্রাপ্তিতে দীর্ঘবছর যাবত শুধু আশ^াসই দিয়ে যাচ্ছে। প্রান্তিকদের শহর থেকে দূরে ভূমি ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করলে তারা সমস্যায় পরতে হবে। তাই তাদেরকে পৌর এলাকার কাছাকাছি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভালো হয়। সমস্যা হচ্ছে হরিজনদের গ্রামগঞ্জে বাসস্থান করে দিলে তারা নিরাপত্তাহীনাতায় থাকতে হবে। আমার জানামতে একজন প্রান্তিক হরিজন পরিবার শহর তলীর লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়নে বাসস্থানের জায়গা পেয়ে নিজ খরচে ঘর নির্মান করে সেখানে নিরপত্তা হীনতায় থাকতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে হরিজনরা যে জায়গায় রয়েছে, সেখানে সরকার বহুতল ভবন করে দিলে এরা নিরাপত্তার মধ্যে সকলে এক হয়ে বসবাস করতে পারবে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় বাসস্থান দিলে তারা বিচ্ছিন্ন ভাবে থাকতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হবে। স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও এদেরকে নিয়ে কোন সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। হরিজনরা খাস জমি প্রাপ্তিতে প্রশাসনিক সহযোগীতা নেই। খাস জমি পাওয়ার জন্য হরিজনদের ব্যাপক উৎসাহ উদ্যোগ রয়েছে। তারা আশাবাদী তারা ভূমিহীন হিসেবে খাস জমি বরাদ্ধ পাবে এজন্য সরকারের আন্তরিকতার প্রয়োজন রয়েছে।
পুরানবাজার হরিজন যুব ক্লাবের সভাপতি শ্যামল হরিজন জানান,বর্তমান সরকার ভুমি যাদের আছে,তাদের সেখানে সরকার ঘর তুলে দিবে। যাদের ভুমিনাই,তাদের মধ্যে গুচছ গ্রাম,আশ্রায়ন প্রকল্পে ঘর করে দিচেছ। প্রান্তিক দলিত হরিজনদের জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। গুচছ গ্রাম ও আশ্রায়ন প্রকল্পে ঘর করে দেয়নি। কেউ সরকারী হাসপাতাল,কেউ পৌরসভার জায়গায় ও রেলওয়ের জায়গায় বসবাস করছে। স্থায়ীভাবে সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। যারা পরিস্কার-পরিচছন্ন রাখে অফিস আদালত,শহর,নগরসহ সকলস্থান তাদের জন্য সরকারের কোন পরিকল্পনাই। আমার জানা মতে প্রান্তিক হরিজন কেহ খাসজমি বরাদ্ব পায়নি। যে কোন নাগরিক,বিদেশীরা বাংলাদেশে এসে জমির মালিক হতে পারতেছে। কিন্তু এ দেশে জন্ম যে হরিজনদের তাদের জন্য কোন জায়গা নেই। তারা একখন্ড জমির মালিক হতে পারেনি। তারা পরাধীন ভাবে বাস করছে। সরকার খাস জমি যদি প্রান্তিকদের দেয় তাহলে আমরা নিতে ইচছুক। হরিজনদেরকে জমি দেওয়া হচেছনা।হরিজনরা এক খন্ড জমির মালিক হতে চায়। প্রশাসন সব সময় হরিজনদেরপক্ষে ন্যায়-নীতি ভাবে কাজ করে। হরিজনদের জন্য কোন প্রকল্প সরকার গ্রহন করেছে কিনা তা আমরা জানতে পারিনা। অনেক বার আবেদন করেও পাইনি। পরিস্কার-পরিচছন্নতার চাকরীর ক্ষেত্রে ৮০/ঃ ভাগ চাকরী হরিজনদের জন্য গেজেট হলেও তা বাস্তবায়ন যথাযথ রুপ পায়নি। অন্য লোকেরা পরিস্কার-পরিচছন্নতার চাকরী পাচেছ। আমরা খাস জমি পাওয়ার জন্য সব সময় উৎসাহ-উদীপনায় থাকি। কিন্তু তা পাইনা। তবে পাওয়ার জন্য আমাদের উদ্যোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে হরিজন সমাজ উন্নয়ন সংস্থার চাঁদপুরের সভাপতি আকাশ দাস বলেন,বাংলাদেশে যাদের ভূমি নাই। যাদের ভূমি আছে তাদের জন্য সরকারের অতান্ত ভাল উদ্যোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সকলে ভূমি পেলেও প্রান্তিক হরিজনরা এ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। চাঁদপুরে হরিজন কেহ খাস জমি পেয়েছে,এমন রেকর্ড সরকারী ভাবে নেই আমার জানা মতে। হরিজনরা এক্ষেত্রে বঞ্চিত রয়েছে। এদের জন্য সরকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। চাঁদপুরে প্রান্তিক ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর কেহ এক খন্ড ও জমি পায়নি। হরিজনরা বর্তমান এ সমাজে সব চাইতে একটি অবহেলিত জনগোষ্ঠী। তারা সব সময় অধির আগ্রহে থাকে। যদি সরকার তাদের কে এক খন্ড জমি বরাদ্ব দেয়,তানিয়ে একটু শান্তিতে জীবন যাপন করতে পারবে। তবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাস জমি প্রাপ্তিতে ব্যাপক উদ্যোগ রয়েছে। এ দেশের প্রশাসন সব সময় যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তার দিকে তাদের আগ্রহ থাকে। সে সরকারের আদেশ নির্দেশ পালনে প্রস্তুত থাকে। সরকার নির্দেশ দিলে তারা হরিজনদের জন্য পক্ষে সকল প্রকার সহযোগিতা করবে। তবে প্রশাসন সব সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যানে কাজ করার জন্য এক মতবলে হরিজনদের বিশ^াস। প্রান্তিকরা ভূমি পেতে চাইলে উপর মহল থেকে নির্দেশ না পাওয়ায় নানা জটিলতা দেখান হয় এবং বিলম্বে করে তাদের আবেদন বাতিল করা হয়। এ সমস্যা সমাধানে বর্তমান মুক্তিযুদ্বের সরকার যদি পক্ষে থেকে সুপারিশ করে তাহলে,এ খাস ভূমি বরাদ্ব পাওয়া সম্বব হবে। সে ক্ষেত্রে প্রশাসন এ ব্যাপারে শত ভাগ সহযোগিতা করলে বলে বিশ^াস রয়েছে আমাদের। প্রান্তিক হরিজন জনগোষ্ঠী যেখানে একেবারেই ভূমিহীন। সেক্ষেত্রে তারা এক খন্ড খাস জমি প্রাপ্তিতে সব সময় উৎসাহ-উদ্যোগ নিয়ে প্রস্তুত থাকে। তবে তারা এক খন্ড জমি পেলে সকলে এক সঙ্গে নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে চান।
মোহাম্মদ শওকত আলী,
চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধ,
দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ এবং শারি’র দলিত এন্ড মাইনরিটি হিউম্যান রাইটস মিডিয়া ডিফেন্ডার ফোরামের সদস্য।
০১৭১২১৯৫৯৪২।
