স্টাফ রিপোর্টার: ॥
চাঁদপুর সদরের ফরাক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের এইসএসসি পরীক্ষার্থীরা ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা পরীক্ষা চলাকালীন অবৈধ সুযোগ-সুবিধা অর্থাৎ নকল বা অসদোপায় অবলম্বনের সুযোগ না পেয়ে কেন্দ্রে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিষেক দাসের গাড়ি ব্যাপক ভাংচুর করেছে। তাঁর ব্যবহৃত গাড়ির সামনে, পেছনে ও দুই পাশের সব গ্লাস চূর্ণবিচূর্ণ করেছে। গতকাল শনিবার পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে ফরক্কাবাদ কলেজের কিছু এইচএসসি পরীক্ষার্থী এ ঘটনা ঘটায়।
ফরাক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে ফরাক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়। এবারো এই কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ফরাক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। গতকাল শনিবার ছিলো ইংরেজি ২য় পত্র বিষয়ের পরীক্ষা। গতকাল এ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন সদর অ্যাসিল্যান্ড অভিষেক দাস। তিনি সকাল ১১টা থেকে এ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে এক ঘন্টা কেন্দ্রে ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা। তাঁরা দুজন সার্বক্ষণিক কেন্দ্রের ভেতর কেন্দ্রে ছিলেন। সুচারুরূপে দায়িত্ব পালনের কারণে হয়ত নকলবাজ ছাত্ররা নকল করতে বা অবৈধ সুযোগ-সুবিধা পায়নি। যার কারণে তারা ক্ষিপ্ত হয় কর্মরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক দাসের উপর। এতেই তারা তাঁর গাড়ির ওপর চড়াও হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রের বাইরে গেইটের সামনে থাকা গাড়িটির উপর চড়াও হয়ে তারা বড় বড় ইট দিয়ে গাড়ির সব গ্লাস চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা ও ফরাক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ গভর্নিংবডির সভাপতি সুজিত রায় নন্দী। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়।
এ ঘটনার খবর পেয়ে বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে এ প্রতিনিধি যান। কেন্দ্রের ভেতরে অর্থাৎ ফরাক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে তখন দেখা গেলো জেলা প্রশাসক, সদর ইউএনও, সদর অ্যাসিল্যান্ড ও সুজিত রায় নন্দীসহ আরো অনেককে। সে সময় স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার অনেক সাংবাদিকও উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক তখন বলেন, পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করাসহ অবৈধ তৎপরতা বন্ধ করতে সরকারের নির্দেশনায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে। যে ঘটনা এখানে ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক এবং ন্যাক্কারজনক। আমরা সদর ইউএনওকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফরাক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ গভর্নিংবডির সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ঘটনা খুবই নিন্দনীয়। অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের পার পাওয়ার উপায় নাই। সিসি ক্যামেরার ফুটেজেই তাদের শনাক্ত করা যাবে। সরকার ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা যাবে না। পরীক্ষায় সকলে ফেল করুক, তাতেও কোনো আপত্তি নেই। এ ধরনের ঘটনাকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।
সদর অ্যাসিল্যান্ড অভিষেক দাস এ বিষয়ে বলেন, পরীক্ষার শুরু থেকে ১১টা পর্যন্ত সদর ইউএনও ম্যাডাম কেন্দ্রে ছিলেন। আমি ১১টায় কেন্দ্রে আসার পর ম্যাডাম চলে যান। আমি ১১টা থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করি। দুপুর ১টায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কেন্দ্র থেকে পরীক্ষার্থীরা বের হয়ে এ ঘটনা ঘটায়।
এ দিকে এ ঘটনার নিন্দা জানান এলাকাবাসী। তবে ঘটনার সময় বাজারের লোকজনের নীরব ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ।
উল্লেখ্য, গত বছর এইসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সদর উপজেলার মধ্যে সেরা ফলাফল করে ফরাক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ। তখন এটি নিয়ে বেশ আলোচনা হয় যে, চাঁদপুর সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ ও পুরাণবাজার কলেজসহ আরো কিছু নামীদামী কলেজকে ছাড়িয়ে ফরাক্কাবাদ কলেজ কীভাবে সেরা ফলাফল করে। আর গতকালকের ঘটনায় ভালো ফলাফলের নেপথ্য বিষয় অনেকের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়।
পরীক্ষায় হল সুপারের দায়িত্বে আছেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক কামরুল হাসান আর কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে আছেন ফরাক্কাবাদ কলেজের সহকারী অধ্যাপক দিলীপ চন্দ্র দাস। অধ্যক্ষ ছুটিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ফরাক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ড. মোঃ হাসান খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গ্রীষ্মকালীন ছুটি এবং পরীক্ষা উপলক্ষে কলেজ এখন বন্ধ। তাই আমি শুক্রবার ঢাকা চলে এসেছি। তাছাড়া আমার ভগি্নপতি অসুস্থ, তাই ঢাকা এসেছি। ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমি কেন্দ্র সচিবের সাথে কথা বলেছি। ঘটনা কেন্দ্রের ভেতরে ঘটেনি, বাইরে ঘটেছে। এখন ঘটনা কি পরীক্ষার্থীরা ঘটালো, নাকি বাইরের লোকজন ঘটিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে। দোষীদের অবশ্যই শাস্তি হবে।
