
ষ্টাফ রিপোর্টার ॥
চাঁদপুরে বিষেশজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে কথিক নার্সের ভূল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত ২৪ জানুয়ারী শহরের হাজি মহসিন রোড়স্থ ডিএন উচ্চ বিদ্যালয়ে পেছনে ফাতেমা খাতুনের চেম্বারে এই ঘটনা ঘটে। নবজাতকের মা শহরের পুরানবাজারস্থ রগুনাথপুর এলাকার আয়শা বেগম এবং পিতা ফরিদগঞ্জ রুপসা খাজুরিয়া এলাকার মো. নাসিম হোসেন।
হতভাগী আয়শার ভাই সোহেল জানায়, গত ২৪ জানুয়ারী সকালে সে তার বোনকে নিয়ে মাতৃঙ্গল হাসপাতালে যায়। সেখানে আয়শার অবস্থা আশংখ্যাজনক দেখে হাসপাতাল কতৃপক্ষ তাদের বিশেসজ্ঞ চিকিৎসেকের কাছে নিয়ে যেতে বলেন। পরে তারা কোনো এক আত্মিয়ের কথায় তারা ডা. ফাতেমা খাতুনের বাড়িতে (চেম্বারে) নিয়ে যায়। সেখানে ডা. ফাতেমা খাতুনের ছোট ইয়াসমিন আক্তার বেবী তাদের বলেন ডাক্তার ওমরাহ হজ্ব করতে দেশের বাইরে রয়েছেন এবং তিনি এই রোগির ডেলিবারি করাতে পারবেন বলেন এবং বেশ কিছু পরিক্ষা করান। রাত আনুমিন সাড়ে ১০টায় আয়শা সন্তান প্রসব করার দু’এক মিনিটের মধ্যে সে মারা যায়। কি কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে তা ডাক্তারের বোন বেবী বেগম সঠিক করে বলতে পারেনি।
এ বিষয়ে ডা. ফাতেমা খাতুনের ছোট বোন অভিযুক্ত ইয়াসমিন আক্তার বেবী বলেন, আপা না থাকায় আমি প্রথমে তাদের অন্যত্র চলে যেতে বলেছিলাম। পরে রোগির অবস্থা স্বাভাবিক দেখে এবং তাদের অনুরোধে ডেলিবারি করাই। কিন্তু শিশুটি প্রসব হওয়ার ১০ মিনিট পরে ভাগ্যক্রমে সে মারা যায়। কোনো চিকিৎসক রোগির মৃত্যু চায়না। তিনি আরো বলেন, এর আগেও আমি এক হাজারেরও বেশী গর্ভবতি রোগির প্রসব করিয়েছি। ‘২০টা কাজ করলে ১টা তো মরবোই’। আর আল্লার মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে’ এখানে আমাদের তো দোষ নেই। আপনার চিকিৎসক সনদ বা নার্স হওয়ার সনদ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কোনের সার্টিফিকেট নেই তবে অনেক বছর ধরে আমি এ কাজ করে আসছি, এবং আমার আপার সাথে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। তবে চিকিৎক না হয়ে এই কাজ করা টা অনিয়ম বলে তিনি স্বিকার করে নেন। এ বিষয়ে ভারপ্রপ্ত চাঁদপুর সিভিল সার্জন ডা. সফিকুল ইসলাম এর সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, চিকিৎসক না হয়ে ডেলিবারি করানোটা অন্যায়। তবে একজন প্রশিক্ষন প্রাপ্ত নার্স হলে নরমাল ডেলিবারি সে করাতে পারে। যেহুতো এই রোগিটা সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ফেরত এসেছে সেখানে এই ডেলিবারি তিনি করাতে পারেন না। আর কেউ যদি সরকার অনুমোধন ছাড়া বাড়িতে হাসপাতাল গড়ে তোলেন তবে তদন্ত সাপেক্ষ অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
