স্টাফ রিপোর্টার:॥ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর এলাকায় স্বর্ণের চেইন বিক্রয়কে কেন্দ্র করে মাসুদ রানা (২৭) নামে যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অপরাধে ৩ যুবককে মৃত্যুদন্ড এবং প্রত্যেককে ১লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। বুধবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মামুনুর রশিদ এই রায় দেন।
মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তরা হচ্ছেন: উপজেলার শাহবাজকান্দির (রসুলপুর) গ্রামের শাহজাহান শাহজাহান শিকদারের ছেলে সুফিয়ান আহম্মেদ ওরফে শিবির (২২), দক্ষিন ফতেপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজন (২৩) ও একই গ্রামের মোশারফ সরদারের ছেলে মো. শরীফ হোসেন (২০)। হত্যার শিকার মাসুদ রানা মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিন ফতেপুর গ্রামের বেপারী বাড়ীর আঃ মান্নান ওরফে মুন বেপারীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন।
মামলার বিবরন থেকে জানাযায়, ২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী উল্লেখিত আসামীরা একটি স্বর্ণের চেইন মাসুদ রানার কসমেটিকস্ এর দোকানে বিক্রির উদ্দেশ্যে জমা রেখে ২০০০ টাকা দাবী করে। তবে মাসুদ রানা চেইনটি স্বর্ণের কিনা তা যাচাই করে টাকা দিবে বলে তাদেরকে ১৫০০ টাকা দেয়। ৫শ’ টাকা বাকী রাখে। পরে চেইনটি স্বর্ণের নয় সন্দেহ হলে তাদের কাছ থেকে ১৫শ’ টাকা ফেরৎ চায়। তারা টাকা দিবে বলে সময় ক্ষাপন করে। এরপর ওই দিন রাত ৮টার দিকে মাসুদ রানা দোকান বন্ধ করে চলে যায়। এরপর থেকে মাসুদ রানা নিখোঁজ হয়। পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি গ্রামের এরশাদ বেপারীর পুকুর পাড়ে মাসুদ রানার মরদেহ ভাসতে দেখে লোকজন ডাক চিৎকার করে। পরে থানায় বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়।
মামলার বাদী মো. ফারুক বেপারী জানান, আসামীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আমার ভাইকে ঘটনাস্থলে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় ৯টি আঘাত করে হত্যা করে। আদালত তাদেরকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড প্রদান করায় আমাদের পরিবার সন্তোষ্ট।
এই ঘটনায় মাসুদ রানার বড় ভাই মো. ফারুক বেপারী উল্লেখিত আসামীদের বিবাদী করে মতলব উত্তর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন সময়ের মতলব উত্তর থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) খন্দকার মো. ইব্রাহীম ২০০৯ সালের ৩০ মে আদালতে চার্জশীর্ট দাখিল করেন।
সরকার পক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি মো. সাইয়েদুল ইসলাম বাবু জানান, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর মামলা চলমান অবস্থায় আদালত ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষী গ্রহন করেন। আসামীরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় তাদের উপস্থিতিতে ৩০২/৩৪ দন্ডবিধিতে আসামীদের প্রত্যেককে মৃত্যুদন্ড এবং একই সাথে প্রত্যেককে ১লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। সরকার পক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপ) ছিলেন এড. দেবাশীষ করম মধু। আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন ইকবাল বিন-বাশার ও সেলিম আকবর।
