শাহরিয়ার খান কৌশিক,
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধা মৃত আলী আশ্রাফ পাটোয়ারীর ২টি নামফলক ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটেছে।
রাতের আধারে মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির প্রধান ফটকে গেটের তার নাম নিশানা মুছে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদপুর মডেল থানায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা আলী আশ্রাফ পাটোয়ারী ছেলে নাসির আহমেদ পাটোয়ারী জানায়, দীর্ঘদিন যাবৎ বাড়ির কিছু লোকজন সম্পত্তিগত বিরোধ নিয়ে পরিবারের সাথে ঝামেলা করে আসছে।
নিজেদের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে তারা বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাবা আলী আশ্রাফ পাটোয়ারী দেশকে স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধ করেছে।
তিনি মারা যাওয়ার পর ৭ নং ওয়ার্ডের তার নামে একটি রাস্তাটি আলী আশ্রাফ পাটোয়ারী সড়ক নাম করণ করা হয়েছে।
এছাড়া সোনালী ব্যাংক থেকে তিন লক্ষ টাকা লোন নিয়ে বাড়ির প্রধান গেট, কবরস্থান ও শহীদ মিনার সহ দুটি নামফলকের কাজ করা হয়েছে।
বাড়ির প্রতিপক্ষরা ক্ষিপ্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধা আশ্রাফ পাটোয়ারীর নাম নিশানা মুছে দেওয়ার জন্য তারা নামফলক ভেঙ্গে দিয়েছে।
তাতেও তার আক্রান্ত না হয় বাড়ির প্রধান গেটের মুক্তিযোদ্ধা আলী আশ্রাফ পাটওয়ারীর নামটি রং মেখে মুছে ফেলে দিয়েছে। এছাড়া শহীদ মিনারে কাদা দিয়ে মেখে শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা করেছে।
যারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু হানিফ জানায়,মুক্তিযুদ্ধার নামফলক ভাঙচুর ও তার নাম নিশানা মুছে ফেলার ঘটনায় শহীদ পাটোয়ারী, খোরশেদ পাটোয়ারী ও ওমর আলী পাটোয়ারী নামে তিনজনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যারা এই ঘটনাটি করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে।
এদিকে আলী আশ্রাফ বাড়ির বাড়ির লোকজন জানায়, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা মুক্তিযোদ্ধার নাম নিশানা মুছে দিয়ে তার উপর কাদা মেখে দিয়েছে । ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক এটি শহীদদের প্রতি অবমাননা করার শামিল।বেশ কিছুদিন যাবৎ আলী আশরাফ পাটোয়ারী ছেলেদের সাথে সম্পত্তিগত বিরোধ নিয়ে ওমর আলী পাটোয়ারী গংদের সাথে বিরোধ চলে আসছে।তবে নাম নিশানা মুছে ফেলার ঘটনায় তারা জড়িত থাকতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছে।
যারা এই ঘটনাটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
