কোথাও যেনো জনসমাগম না হয় সেজন্য প্রশাসন কঠোর অবস্থানে। ওয়াজ মাহফিলসহ
ধর্মীয় সভা-সমাবেশ, রাজনৈতিক মিছিল-মিটিং, সেমিনার, সমাবেশসহ এক কথায় এক
জায়গায় ২৫ জনের বেশি মানুষের উপস্থিতি যাতে না হয় সেজন্যে সব ধরনের জনসমাগম
নিষিদ্ধ করেছে সরকার। সরকারের এ নিষেধাজ্ঞা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করছে
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার সুযোগে পর্যটন ও বিনোদন স্পটগুলোতে যেনো
কেউ ঘুরতে না যায় সেজন্যে সরকার সে ব্যবস্থাও নিয়েছে। কঙ্বাজারসহ দেশের বড়
বড় পর্যটন স্পটগুলোতে সকল মানুষের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়ার পর এবার জেলা
পর্যায়ের পর্যটন ও বিনোদন স্পটগুলোতেও মানুষের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া
হয়েছে। চাঁদপুরের মেঘনার চর মিনি কঙ্বাজার এবং বড় স্টেশন মোলহেড এলাকাসহ
অন্য যেসব বিনোদন স্পট রয়েছে, সবগুলোতেও মানুষের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা
হয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ব্যাপারে খুব কঠোর অবস্থানে। মিনি
কঙ্বাজার যারা পরিচালনা করছে, সেই স্বপ্ন ট্যুরিজমের পক্ষ থেকেও প্রশাসনের
কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে মিনি কঙ্বাজারে যাতে কোনো পর্যটক না যেতে পারে সে
ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে।
গতকাল বিকেলে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন
তাঁর ফোর্স নিয়ে বড় স্টেশন মোলহেড এলাকায় অভিযান চালায়। তখন সেখানে
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা ঘুরতে গিয়েছে তাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং
কাউকে কাউকে কান ধরে উঠবস করানো হয়েছে। এদিকে বড় স্টেশন মোলহেড এলাকায়
ঘুরতে যেতে বাধা পেয়ে চাঁদপুর প্রেসক্লাব এলাকায় এবং প্রেসক্লাবের পেছনে
খোলা মাঠে গতকাল বিকেল থেকে শত শত ছেলে-মেয়েকে আড্ডা জমাতে দেখা যায়। খবর
পেয়ে মডেল থানার পুলিশ এসে এখানেও অভিযান চালায়। ওসি নাসিম উদ্দিন তাঁর
ফোর্স নিয়ে তাদের তাড়া করে। এ সময় প্রেসক্লাব ঘাটে আড্ডারতদের তাড়িয়ে দেয়
পুলিশ এবং সেখানকার দোকানগুলোতে যাতে কেউ কোনো আড্ডা না দিতে পারে সে
ব্যবস্থাও করে দেয়া হয়।
এদিকে চাঁদপুরের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ কঠোর পদক্ষেপকে সচেতন
মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। প্রশাসন থেকেও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানানো
হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তাদের সন্তানদের যেনো একান্ত প্রয়োজন ছাড়া
বাসার বাইরে যেতে না দেয়া হয়।
