সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একাত্তরের বিজয়কে আমারা সংকটমুক্ত করতে পারিনি। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে পাকিস্তানি চেতনার সংঘাত চলছে। মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির এখন একজোট বিএনপি-জামাতের পতাকাতলে। তারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসীদের শত্রু ভাবে। এটা জাতির জন্য বড়ই দূর্ভাগ্যজনক। একটা দেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকতেই পারে, শত্রুতা থাকতে পারে না।
মহান স্বাধীনতার মাস সামনে রেখে মোহাম্মদ আবু তাহেরের সম্পাদনায় স্মৃতিসৌধ, ভাষ্কর্য ও চিত্রকলায় মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক অ্যালবাম ‘চেতনায় একাত্তর’-এর প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমনটাই বললেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ অ্যালবামের প্রকাশনা উৎসব। ওবায়দুল কাদের অানুষ্ঠানিকভাবে ‘চেতনায় একাত্তর’ অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন।
তিনি বলেন, শিল্পকলা একটি জাতির মনন, ঐতিহ্য ও ইতিহাস বহন করে। শিল্পকলার অন্যতম মাধ্যম হলো স্মৃতিসৌধ ও ভাস্কর্য। আমাদের দেশের সর্বত্রই মুক্তিভিত্তিক স্মৃতিসৌধ ও ভাস্কর্য গড়ে ওঠেছে। দেশের নানাপ্রান্তের এসব নিদর্শনকে একত্রিত করে ‘চেতনায় একাত্তর’ অ্যালবামটি বড় একটি কাজ করলো।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, চলতি বছরই সোহরওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ ভাষণের সেই ঐতিহাসিক স্থানটিতে স্বাধীনতা স্তম্ভ উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, স্বাধীনতা প্রাপ্তিই বাঙালির বছরের সবচেয়ে বড় অর্জন। স্বাধীনতার পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি সেই অর্জনে আঘাত করার ষড়যন্ত্র করছে। এখন তারা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার নের্তৃত্বে একজোট হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত এ মানুষ তাদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মেরে আর বোমা মেরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করা কোনোভাবেই সম্ভব না।
বরেণ্য আইনজীবি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এডভোকেট মোল্লা মোঃ আবু কাওসার এবং এসএমএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন।
‘চেতনায় একাত্তর’ অ্যালবাম প্রসঙ্গে সম্পাদক মোহাম্মদ আবু তাহের জানান,স্বাধীনতার পর শিল্পের যে শাখাটি সবচেয়ে বেশি চর্চিত ও বিকশিত হয়েছে; তা হলো স্মৃতিসৌধ ও ভাস্কর্যশিল্প। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাসকে ধারণ করে দেশের নানাপ্রান্তে গড়ে তোলা হয়েছে স্মৃতিসৌধ, নিরেট কনক্রিটে শিল্পীরা প্রাণের স্পর্শে তৈরি করেছেন ভাস্কর্য। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়েছে ‘চেতনায় একাত্তর’ নামের এ অ্যালবামটি।

