
প্রতিনিধি : চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান অনেক নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখছেন। জনহিতকর এসব কাজে তিনি সফলতাও পাচ্ছেন।
এবার তিনি ‘ত্রাণ যাবে বাড়ি’ নামে কার্যক্রম শুরু করেছেন। আর এ জন্যে তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপ তৈরি করেছেন। যাদের মাধ্যমে হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য দ্রব্য পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। আর এ কাজে ৪১ জনের মোটরসাইকেল চালনা গ্রুপ তৈরি করে তাদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন। গত ২দিন যাবত চাঁদপুরে এ কার্যক্রম শুরু হয়ে চলছে ।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান,কয়েক দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর এ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হলো। যারা হট লাইনে ফোন দিয়েছেন তাদের মধ্য থেকে ৪১ জনকে বাছাই করে আমাদের ভলান্টিয়াররা খাদ্যপণ্য নিয়ে ইতিমধ্যে রওয়ানা দিয়েছেন।
অশেষ কৃতজ্ঞতা সুন্দর মনের অধিকারী ভলান্টিয়ার, স্কাউট ও রোভারদের, যারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে প্যাকেট করা এবং খাদ্যপণ্য বাড়ি বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কাজটি করছেন। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খানের নির্দেশক্রমে এ মানবিক কাজটি অব্যাহত থাকবে। জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যার যার বাড়ি থাকুন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করুন।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সকলকে বাড়ি থাকতে হবে। বাড়ি থেকে বের হওয়া যাবে না। চাঁদপুর জেলায় সরকারি এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে গত ২৪ মার্চ থেকে। কিন্তু দীর্ঘ এ সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষগুলো খুবই বিপাকে পড়েছে। তাদের জীবন-জীবিকা খুবই কঠিন অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে। এমতাবস্থায় তারা নিরূপায় হয়ে পড়েছিল। আর তখনি জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান ‘ত্রাণ যাবে বাড়ি’ নামে একটি প্রোগ্রাম চালু করেন। এর জন্যে ৪১টি স্বেচ্ছাসেবী মোটরসাইকেল চালনা গ্রুপ প্রস্তুত করা হয়। এই গ্রুপ যারা সরাসরি ত্রাণ পাওয়ার উপযোগী এবং জেলা প্রশাসনের হটলাইনে কল করবে, তাদের বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিবে। গতকাল থেকে এই কার্যক্রম জোরদারভাবে শুরু করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হটলাইনে মোট ১৮৫টি কল রিসিভ করা হয়। এর মধ্যে ১০৭টি পরিবারকে ভলান্টিয়ার দিয়ে তাদের বাড়িতে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হয়। প্রতি প্যাকেটে ছিলো ৫ কেজি চাল, ১ কেজি আলু, ১ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি লবণ, আধা কেজি ডাল, এক প্যাকেট গুঁড়ো দুধ ও ১টি হাত ধোয়ার সাবান। দুইশ’ ২৬ পরিবারের বাড়ীতে ত্রান পৌছে দিলে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন
চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘ত্রান যাবে বাড়ি’ কার্যক্রমের আওতায় বৃহস্পতি ও শুক্রবার দু’দিনে হট লাইন কল পেয়ে ২শ’ ২৬ পরিবারকে ভলান্টিয়ার দিয়ে তাদের বাড়ীতে ত্রান পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত হট লাইনে কল এসেছে কল রিসিভ করা হয়েছে ১৯৩টি। এর মধ্যে ১১৯ পরিবারের মাঝে ত্রান পৌঁছানো হয়েছে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত হট লাইনে কল রিসিভি করা হয়েছে ১০৫টি। এর মধ্যে ১০৭ পরিবারের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবীরা বাইক দিয়ে ত্রান পৌঁছে দিয়েছে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান তাঁর নিজস্ব ফেসবুকে লিখেছেন আজ শুক্রবার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার এম.এ.ওয়াদুদ এর ছেলে রাসেল ওয়াদুদ ‘ত্রান যাবে বাড়ী’ প্রোগ্রামে ২৭৫ কেজি আলু, ১২৫ কেজি ডাল ও ৫০ কেজি সয়াবিন তেল দান করেছেন।
এছাড়াও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একজন অফিস সহকারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ১০০ কেজি আলু ও ৭৫ প্যাকেট লবন দান করেছেন। এর আগেও চাঁদপুরের লবন ব্যবসায়ী মালিক সমিতি জেলা প্রশাসক এর ত্রান ভান্ডারে ১৫শ’ কেজি লবন অনুদান হিসেবে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান বলেন, আসুন সবাই নিজ নিজ ঘরে থেকে করোনা বিস্তার রোধ করি। আপনারা সরকারের নির্দ্দেশ যথাযথ ভাবে পালন করে করোনা প্রতিরোধ করুন,আমরা জেলা প্রশাসন থেকে আপনাদের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌছে দেওয়ার চেস্টা অব্যাহত ভাবে চালিয়ে যাব। আপনাদের পাশে জেলা প্রশাসন সার্বক্ষনিক ভাবে আছে।
