
ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ড. মাওলানা একেএম মাহবুবুর রহমান জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৬-এর জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান (মাদ্রাসা) নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা, চাঁদপুর জেলা ও চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে ৮টি বিভাগ ও ঢাকা মহানগরীর শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন। শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে গতকাল ২৮ মে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন ঢাকায় জাতীয়ভাবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদের পক্ষ থেকে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ ড. একেএম মাহবুবুর রহমানকে সম্মাননা প্রদান করেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে অভিজ্ঞতা, গবেষণা ইত্যাদি বিষয়ে অনন্য অবদানের জন্যে তাঁকে মাদ্রাসা অঙ্গনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের সম্মানে ভূষিত করা হয়।
জীবন বৃত্তান্ত : ড. মাওলানা একেএম মাহবুবুর রহমান চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার ডাটরা শিবপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন দেশ বরেণ্য আলেমেদ্বীন ও দীর্ঘ দিনের ইউপি চেয়ারম্যান এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলার মানুরী সিনিয়র (ফাযিল) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মরহুম মাওলানা আব্দুল হক (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)। ড. মাহবুব ফরিদগঞ্জ উপজেলার মানুরী সিনিয়র (ফাযিল) মাদ্রাসা থেকে দাখিল, আলিম, ফাযিল এবং ঢাকা মাদ্রাসা-ই-আলিয়া থেকে কামিল হাদিস ও ফিকহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ সম্মান, মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৫ সালে ঢাকার মিরপুর কাজীপাড়া ছিদ্দিকীয়া ফাযিল মাদ্রাসায় তিনি উপাধ্যক্ষ, ১৯৮৭ সালে রেডিও তেহরানের অনুবাদক, উপ-পরিচালক ও পরিচালক এবং ১৯৯২ সাল থেকে ইরান এম্বেসীর ফিল্ম সেকশনের দায়িত্ব পালন করেন। ফার্সি ও আরবি থেকে ১৩টি ফিল্ম ও ২টি সিরিয়াল তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন। যেগুলো বিটিভিতে সম্প্রচারিত হয়। ১৯৯৪ সাল থেকে ঢাকা তেজগাঁওয়ের রহমতে আলম ইসলাম মিশন পরিচালিত মদীনাতুল উলুম মহিলা কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস এবং পরবর্তীতে উপাধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘ ১৪ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সাবেক সভাপতি মরহুম মাওলানা এমএ মান্নান (রঃ) প্রতিষ্ঠিত এবং বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের বর্তমান সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক আলহাজ্ব এএমএম বাহাউদ্দিন পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসায় ২০০৮ সাল থেকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়াও তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে দীর্ঘ ১০ বছর খ-কালীন প্রফেসর হিসেবে অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে তিনি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কমিটির সদস্য, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা কমিটির সদস্য ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার পরীক্ষা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের যুগ্ম মহাসচিব, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত চাঁদপুর জেলার সভাপতি, আঞ্জুমানে সিরাজাম মুনীরা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, উলুমুল কোরআন ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান, হজ্ব ফাইন্যান্স কোম্পানীর শরীয়া কাউন্সিলের সদস্য ও দারুল ইরফান দরবার শরীফের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
তাঁর গবেষণা কর্ম অত্যন্ত ব্যাপক। তিনি ফার্সি, বাংলা, ইংরেজি অভিধান, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ৯ম-১০ম শ্রেণীর আকায়েদ ও ফিকহ বইয়ের লেখক। এছাড়াও তাঁর ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ও কেন? শবে বরাত, শবে কদর ও রমজানুল মোবারক, চাঁদের তারিখ নির্ভর সকল ইবাদত একই তারিখ ও বারে পালন সম্পর্কিত ফাতওয়া, মদীনার জামাতের হাদীয়া শরীফসহ ১০টি বই প্রকাশিত। ৪০টি গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। জাতীয় পত্র পত্রিকা ও গবেষণা জার্নালে ৬০টি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এ পর্যন্ত ৮টি আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও বক্তব্য পেশ করেছেন। তাঁর এ অনন্য স্বীকৃতির জন্যে তিনি মহান রাব্বুল আলামিন ও প্রিয় নবী রাহমাতুলি্লল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে শোকরিয়া আদায় করেন। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
