
প্রাণঘাতী করোনার আগ্রাসনে চাঁদপুরের পশ্চিমে পদ্মা-মেঘনা নদীর চরাঞ্চলের ছোটবড় দুগ্ধজাত খামারী ও দুধেল গাভী পালনকারীরা উৎপাদিত তরল দুধ নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। চাঁদপুর জেলার প্রায় শতাধিক মিষ্টি ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় এ সমস্যা হচ্ছে বলে জানা যায়। পাশাপাশি দুগ্ধ খামারী ও ক্ষুদ্র দুধেল গাভী পালনকারীদের দাদন দিয়েছেন যেসব ব্যবসায়ী তারাও এখন অনিশ্চয়তার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ টাকা লোকসান গুণছেন।
চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরাঁয় প্রায় ৮শ’ মণ তরল দুধ প্রতিদিন সরবরাহ হয় বলে জানান দুধ সরবরাহকারীদের একজন শরীয়তপুর জেলার উত্তর তারাবুনিয়ার মাতবরকান্দির মোঃ ফারুক মাতাব্বর। প্রতিদিন চাঁদপুর শহরের দুই-তিনটি মিষ্টির দোকানে তিনি প্রায় ৬/৭ মণ দুধ সরবরাহ করেন। এজন্যে চর এলাকার দশ-বারোজন দুধেল গাভী পালনকারীর কাছে তার প্রায় বিশ লাখ টাকা দাদন হিসেবে বিনিয়োগ রয়েছে বলে জানান। চলমান করোনার আগ্রাসনের জন্য বিনিয়োগকৃত অর্থ ওঠে আসা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। এরকম প্রায় ২০জনের কয়েক কোটি টাকা চাঁদপুর ও শরিয়তপুরের চরাঞ্চলের খামারী ও গাভী পালনকারীদের কাছে দাদন হিসেবে লগ্নি রয়েছে বলে কয়জন দুধ ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়। চাঁদপুর শহরের মেঘনা নদীর পশ্চিমে চেয়ারম্যান ঘাটা, মাস্টার ঘাট, আফা মোল্লার বাজারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অধিকাংশ দুধ চাঁদপুর শহর, হাইমচর ও হাজীগঞ্জে সরবরাহ হয় বলে কয়জন মিষ্টি উৎপাদনকারী জানান। এছাড়াও কচুয়ার সাচার, মতলবের বিভিন্ন চরাঞ্চর থেকেও অনেক তরল দুধ সরবরাহ হয়। গোখাদ্য ও প্রতিদিনের উৎপাদিত দুধ নিয়ে লোকসান গুণছেন গাভী পালনকারী ও খামারীরা। বর্তমানে চর এলাকায় প্রতি লিটার দুধ ৩০/৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান খুচরা দুধ ব্যবসায়ী আফাজউদ্দিন মোল্লা। তার অধিকাংশ দুধ বাকিতে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে করোনা ভাইরাসের দাপটের মধ্যেও চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে তরল দুধ। যার গুণগত মান পরীক্ষার নেই কোনো ব্যবস্থা। শুধুুমাত্র পুরাণবাজারে প্রতিদিন কয়েকশ’ লিটার দুধ আমদানি হয় পাশর্^বর্তী নদী তীরবর্তী চাঁদপুর সীমানার চরাঞ্চল থেকে। পূর্বে এ সকল দুধ পরীক্ষায় পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ প্রায়ই ঝটিকা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে দুধের গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চিত হতেন। বর্তমানে সে রকম নজরদারি না থাকায় দুধের মান পরীক্ষা ছাড়াই হরদমে বিক্রি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আনা পানি মিশ্রিত এসব দুধ। দেখা যায়, চরাঞ্চল থেকে আগত দুধের বেপারীদের বাইরেও কয়েকজন দুধের বেপারী রয়েছেন যারা প্রথমে দুধবাজারে বসেন, সেখানে বিক্রি না হলে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ফেরি করে তা বিক্রি করেন। উড়ন্ত ধূলো-বালির মধ্য দিয়েই তারা দুধ নিয়ে একবাড়ি হতে অন্য বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
