
স্টাফ রিপোর্টার ॥
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮নং বাগাদী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড হাজরা গ্রামের (সাহেব বাজার) প্রায় দেড় শাতাধিক পরিবার নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। দেড় মাস ধরে প্রায় ২ হাজার গজ এলাকা নিয়ে প্রতিদিনই ভাঙ্গছে ওই এলাকা। এ পর্যন্ত প্রায় আধা মাইলের মতো ভেঙ্গে গেছে ফসলি জমি, ঘর বাড়ি সহ অনেক কিছু। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে নদী ঢুকে পরেছে স্থায়ী বাড়ির ভিতরে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় দুটি উচ্চ বিদ্যালয় (ডি.বি উচ্চ বিদ্যালয়, জনতা উচ্চ বিদ্যালয়), একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৭২নং পশ্চিম সকদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়), একটি কিন্ডার গার্টেন, দুটি মসজিদ, ১টি মাদ্রাসা (হাজরা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা), কবর স্থান সহ সাহেব বাজরের প্রায় দু’শতাধিক দোকান পাট ও দুটি স’মিল এবং দেড় শতাধিক বসত ঘর রয়েছে। প্রতিদিনই চিন্তায় থাকতে হয় ওই এলাকার সাধারণ মানুষের, কখন জানি ভেঙ্গে যায় তাদের শেষ সম্বল বসত ঘরটুকু।
ভাঙ্গন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা আলী আহমেদ, ইব্রাহীম, কালু, রফিকুল ইসলাম স্বপন, মিজান মিয়াজী, আরজু, রুবেল কাদের গাজী সহ অনেকেই জানান, দেড় মাস যাবত নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। আমাদেরকে দেখার যেন কেউ নেই। প্রায় আধা মাইলের মতো ফসলি জমি ভেঙ্গে গেছে। আমরা নদী পাড়ের মানুষ। আমাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায় কৃষি কাজের উপর। ভেঙ্গে যাওয়া ফসলি জমিতেই আমরা কৃষি কাজ করেছি। এ ফসলি জমিতে ধান, আলু ও পাট চাষ করতাম। এখন এই জমিগুলো ভেঙ্গে যাওয়াতে আমরা প্রায় সর্বচ্ছ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। এখন আমাদের ফসলি জমি না থাকাতে গ্রামের অধিকাংশ মানুষগুলো দিনমজুর সহ বিভিন্ন কাজ করে সংসার চালাচ্ছে।
ওই এলাকার মিজান মিয়াজী জানান, শনিবার দুপুরে আমার দশ বছরের নাতিন আমেনা আক্তার রিয়া নদীতে গোসল করতে যায়। সে পানিতে নামলে হঠাৎ করে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নদীতে ডুবে যেতে ছিলো। তখন তার সাথে থাকা অন্যান্যরা ডাক চিৎকার দিলে আমি দ্রুত পানিতে ঝাপ দিয়ে তাকে রক্ষা করি। এ ধরনের ভয়াবহ আতঙ্কে সবসময় আমাদের থাকতে হয়।
চাঁদপুর ৩ আসনের সফল এমপি ডাঃ দীপু মণি সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গন রক্ষায় জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবী জানান হাজরা গ্রামের ৩ হাজার বাসিন্দা।
শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চাঁদপুর নিউজ সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
