চাঁদপুর নিউজ রিপোর্ট
রহমতের মাস পবিত্র মাহে রমজান। মুসলমানরা যখন শেষ রাতের সেহরী খেয়ে পবিত্র রোজা পালন করে, তখন স্বভাবতই মানুষ মাত্র সকলের মাঝেই সৃষ্টি হয় রহমত, দয়া ও অপরের প্রতি ভালোবাসা। কিন্তু ভালোবাসা সৃষ্টি হয় না এক শ্রেণির সমাজ বিরোধী বিপথগামী, পথভ্রান্ত যুবকের মাঝে। তাদের মারমুখী অন্যায় আচরণের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে ইবাদতরত মুসল্লিদের সকল চিন্তা-চেতনা।
গত ১৯ জুন শুক্রবার রাতে মুসল্লিরা যখন তারাবীহ নামাজ পড়ার জন্যে ওজু করে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখনই পুরাণবাজার মেরকাটিজ রোড, নতুন রাস্তার মোড়, খালের দক্ষিণ পাড়, মধ্য শ্রীরামদী এলাকাসহ আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে সরকার দলীয় নামধারী যুবকদের আধিপত্য বিস্তারের মহড়া। তারা দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নিজেদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্তব্ধ হয়ে যায় মুসল্লিদের নামাজের পরিবেশ। ক্ষোভ জানান অনেক মুসল্লি। তারা ক্ষোভের সাথে বলতে থাকেন, আজ ২/৩ বছর ধরে রোজা আসলেই এ সকল সন্ত্রাসীর উৎপাত বেড়ে যায়। তারা নিজেরাতো নামাজ পড়েই না, অন্যকেও শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করতে দেয় না।
গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর সরকার দলীয় নামধারী রাসেল, দেলু, খালেক, ফজলু গংয়ের মারমুখী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ওই এলাকাসহ আশেপাশের মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্তব্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক জীবন। তাদের দফায় দফায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়ি-ঘর, মোটর সাইকেল, রিক্সাসহ কিছু যানবাহন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ এনায়েত উদ্দিন, সেকেন্ড অফিসার মোঃ মনির সহ সঙ্গীয় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা আপ্রাণ চেষ্টা করেন। সন্ত্রাসীদের ছোড়া ইটে আহত হন পুরাণবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুব মোল্লাসহ আরো ২/১ জন পুলিশ সদস্য। পুলিশকে সহায়তা করার লক্ষ্যে সাহসী ভূমিকা রাখেন চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ও জেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন মোঃ বাবর। শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় আরো এগিয়ে আসেন পৌর প্যানেল মেয়র ছিদ্দিকুর রহমান ঢালী, পৌর কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আলী মাঝি, ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা ফজল বেপারী, মোহাম্মদ আলী কুট্টি প্রমুখ।
পুলিশের আন্তরিকতায় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহায়তায় রাত প্রায় ১২ টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু উভয়ের মাঝে বিরাজ করে থমথমে অবস্থা। অনেকের মাঝেই প্রশ্ন জাগে, পবিত্র রমজান মাসে এরা এ ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার সাহস পায় কোথায়, কারা জোগান দেয় তাদেরকে এ ধরনের সাহস, কোথায় পায় তারা অর্থ, তাদের অর্থ সংগ্রহের উৎস কী।
