শাহরাস্তির রায়শ্রী দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তারের মারধরের শিকার হয়ে ৫ দিন পর মারা গেলেন তার পিতা আব্দুল মতিন (৮১)।
মরহুমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধা ৭টায় উপজেলার ঠাকুরবাজারের শাহরাস্তি টাওয়ার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল মতিন মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না..রাজিউন)। ২৮ মার্চ ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার তার পিতাকে মারধর করে। আহত অবস্থায় শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে ভর্তি করা হয়। এরপর ২৯ মার্চ বিকেল ৩টায় তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বাড়িতে নেয়ার পরও তিনি শারীরিক অসুস্থতা বোধ করেন। গতকাল ২ এপ্রিল তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত শাহরাস্তি টাওয়ার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে সন্ধ্যা ৭টায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে ইউনিয়ন জুড়ে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। এদিকে সন্তানের আঘাতে পিতার মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে দেখা গেছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় তার জানাজা শেষে পরিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
জানা গেছে, গত ২৮ মার্চ শনিবার দুপুর পৌনে ১টায় উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের বেরকী গ্রামের জয়নাল আবেদীন (৬০)কে তুচ্ছ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার রাস্তার উপর পেটাতে থাকেন। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যানের পিতা আব্দুল মতিন বাড়ি থেকে বের হলে তাকে মারতে দেখে ছেলে আব্দুস সাত্তারকে ডেকে জয়নাল আবেদীনকে মারধর করতে নিষেধ করেন। পিতার নির্দেশ উপেক্ষা করে জয়নালকে আরো পেটাতে থাকলে এক পর্যায়ে পিতা আবদুল মতিন পুত্র আব্দুস সাত্তারকে সরিয়ে নিতে চাইলে আব্দুস সাত্তার বয়োবৃদ্ধ পিতার গলা টিপে ধরে উপর্যুপরি কিল, ঘুষি, লাথি মেরে রাস্তার উপর থেকে ফেলে দেয়। এ সময় আব্দুল মতিনের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ছেলের বেদম মারধরে পিতা আব্দুল মতিনের নাক ফেটে যায় এবং হাতের ডানায়, বুকে, পিঠে ও পায়ে নীলাফুলা জখম হয়। ২০১৪ সালের জুলাই মাসেও উক্ত চেয়ারম্যান তুচ্ছ ঘটনায় তার পিতাকে বেদম মারধর করেছিল।
এদিকে চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তারের ছোট ভাই মাহবুবুল আলম পিতার চিকিৎসার জন্য শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসার সময় আব্দুস সাত্তার তার ছোট ভাই মাহবুবুর রহমানের মোটর সাইকেলটি অবৈধ বলে থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে। পুলিশ মোটর সাইকেলটি আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মাহবুব মোটর সাইকেলটির বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে থানা থেকে সেটি ছাড়িয়ে নেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বিতর্কিত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে স্ত্রী, পুত্র, এলাকার বয়োবৃদ্ধ, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নিজ পিতাকে বহুবার মারধরের অভিযোগসহ রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, এসএসসি পরীক্ষার ছাত্রী নিয়ে পলায়ন, স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর ঝাড়ু মিছিল, স্থানীয় জনতা কর্তৃক বেশ কবার গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আদালতে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

