
নিজস্ব প্রতিনিধি
চাঁদপুর পুরানবাজার ও ফরিদগঞ্জে জামান হোমিও হলের সাইনবোর্ড দিয়ে প্রতারণার
ফাঁদে পড়েছে অনেক রোগী। ভুয়া চিকিৎসা দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ করেছে রোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে কাগজপত্রবিহীন ভুয়া লাইসেন্স নিয়ে ফরিদগঞ্জে বাস ষ্ট্যন্ড ও পুরাণবাজার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা বটগাছের মোড়ে এমএইচ কবিরের মিয়াজী ভবনে নিচের তলায় বিগত ২ বছর যাবৎ অবৈধভাবে প্রতারণা করে রোগীদের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। শহরের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে নিচের তলায় খ্যতিমান ডাঃ এস.জামান পলাশ এর জামান হোমিও হলের সুনাম ও খ্যাতি ব্যাবহার কওে সাইনবোর্ড টানিয়ে এই প্রতারক চক্র তাদের ব্যবসা চালিয়ে আসছে।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, জামালপুর জেলার ইউসুফ মোল্লার ছেলে মিজাম (৩০) পুরাণবাজারে এইচএম কবিরের যোগসাজসে মিয়াজী ভবনে দু’বছর পূর্বে জার্মান হোমিও হল নামে প্রতিষ্ঠানটি চালু করে। বিগত কয়েক মাস যাবৎ তার নাম পরিবর্তন করে চাঁদপুরের পুরানো প্রতিষ্ঠিত জামান হোমিও হলের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করে রোগীদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কাগজপত্র লাইসেন্সবিহীন ভূয়া লাইসেন্স তৈরি করে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা এভাবে অবৈধ ব্যবসা করে আসছে বলে এলাকাবাসী জানায়।
ভুক্তভোগী কয়েকজন রোগী জানায়, জামান হোমিও হলের মিজান ও নামধারী ডাঃ ঠাকুরগাঁও জেলার ইসমাইল হোসেন তাদের প্রতিষ্ঠানের একটি কে ভূয়া ঔষধ তৈরি করে রোগীদের দিয়ে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের ঔষধ খেয়ে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বেশ কয়েকজন রোগী তাদের ঔষধ খেয়ে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানের মালিক মিজাম মিয়াজী ভবনের মালিক কবির হোসেনকে পাটনার নিয়ে অবৈধভাবে আরেক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ব্যবসা করে আসছে। চাঁদপুরে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের প্রতিষ্ঠিত জামাল হোমিও হল মালিক ডাঃ এস.জামান পলাশ জানান, তার প্রতিষ্ঠানের নাম বিক্রি করে ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে প্রতারণা করে রোগীদের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। চাঁদপুরে শুধুমাত্র লাইন্সেধারী জামান হোমিও হল রয়েছে। পুরাণবাজারের এই প্রতারক চক্রটি জামান হোমিও হলের নাম ব্যবহার করে রয়েজ রোডে ও ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা মোট ২টি প্রতিষ্ঠান দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। একই নামের দু’টি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করার অনুমতি সরকার কাউকে দেয়নি। এদিকে পুরাণবাজারের জামান হোমিও হলের অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়। ইসমাইল হোসেন নামে এক লোক চেম্বারে বসে রোগী দেখছেন। তাদের ভেতরের কে নিজেরাই হোমিও ঔষধ তৈরি করে রোগীদের দিচ্ছেন। জামান হোমিও হলের কাগজপত্র ও একই নামের দু’টি প্রতিষ্ঠান কেন হয়েছে তা জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের মালিক নিজাম বলেন, তারা জানতেন না, জামান হোমিও হল নামে চাঁদপুরে আরেকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যদি জানতো তাহলে এই নামটি ব্যবহার করতেন না। কাগজ-পত্রের যে জটিলতা রয়েছে অকপটে স্বীকার করে। কিছুণ পর মিয়াজী ভবনের মালিক কবির হোসেন এসে এ প্রতিবেদকের সাথে উত্তেজিত হয়ে বলেন, নিবন্ধন কি বুঝেন? জেলা প্রশাসক আমাদের নিবন্ধন দিয়েছে তাই ব্যবসা করছি। মামলা করলে করেন, কিছুই ভয় পাইনা। আমাদের ব্যবসা আমরা করবই।
এ সব ডাক্তারদের নাই নুন্যতম ডি.এইচ.এম.এস ডিগ্রী,নেই রোগী দেখার রেজিষ্ট্রেশান,ট্রেডলাইসেন্স,টিএন সার্টিফিকেট ,তারপর ও তারা অবৈধ ভাবে চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করছে।এ ছাড়া তথাকথিত ডাক্তারদের প্রচার চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ ক্যাবল টিভি চ্যানেলে দিন-রাত ২৪ ঘন্টা প্রচার করা হচ্ছে তাদের এ অপচিকিৎসার বিজ্ঞাপন।
এলাকার কয়েকজন ব্যক্তিরা জানান, জামান হোমিও হলের মালিক মিজান কবির হোসেনকে সাথে নিয়েই অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এভাবে ব্যবসা করে আসছে। এ প্রতিষ্ঠানে যে ডাক্তার রয়েছে তার কোন সার্টিফিকেট ও অভিজ্ঞতা নেই। অবৈধ ও ভূয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অনেকাংশ কমে যাবে প্রতারণা। মুক্তিপাবে রোগীরা।
শিরোনাম:
মঙ্গলবার , ২৬ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
