
শাহারিয়ার খান কৌশিক ॥
চাঁদপুর জেলাকে মাদক মুক্ত করার লক্ষ্যে পুলিশ সুপার সামছুন্নাহারের নির্দেশে পুলিশ প্রশাসন সাড়াশি অভিযান চালিয়ে শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে মাদক নির্মুল করার চেষ্টা চালায়। চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার এলাকা মাদক বিক্রি বিখ্যাত স্পট হিসাবে খ্যাত ছিল। পুরানবাজারকে সম্পূর্ণ রূপে মাদক মুক্ত করতে পুরানবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম নিরসলভাবে চেষ্টা চালিয়ে গাজা, ইয়াবা ও বিভিন্ন মাদক সহ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী সেবনকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন। আটকৃতদের মধ্যে কিছু সংখ্য মাদক ব্যবসায়ী জেল থেকে বেরিয়ে এসে পুনরায় গোপনে মাদক বিক্রি করে আসছে। এদের মধ্যে পুরানবাজার মেরকাটিজ রোডের কোহিনুর হলের সামনে নুরু মিজির ছেলে ২৮ মাদক মামলার আসামী বাবা বাচ্চু তার আপন বোন রহিমা বেগম, বৌ-বাজার এলাকার গাজা ব্যবসায়ী ইউনুছ মিজি ও মোহাম্মদ আলী এলাকায় থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক বিক্রি করে। এতে করে এলাকার যুব সমাজ দিন দিন মাদকাসক্ত হয়ে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। পুরানবাজারের আট থেকে বারো বছরের শিশুদের দিয়ে ইয়াবা বিক্রির কাজে ব্যবহার করছে। এসকল শিশুরা মরন নেশা ইয়াবায় আসক্ত হয়ে চাঁদপুর শহরে বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল চুরি, ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। পুরানবাজার ফাঁড়ি পুলিশ ইয়াবা সেবন ও মোবাইল চুরির অপরাধে এ যাবত কালে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন শিশুকে আটক করার পর তাদের কাছ থেকে ইয়াবা বিক্রি, সেবন ও চুরির লোহমর্ষক ঘটনা জানতে পারে পুলিশ। ইয়াবা বিক্রি ও পাচারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতিকালে বৌ-বাজার এলাকার বিখ্যাত মাদক সম্রাট ফজল বেপারী ওরফে ফজলার বাড়ির পাশে সিএনজি চালক সুমকে হত্যা করে পুকুর পাড়ে ফেলে রাখে। সেই ঘটনায় পুলিশ ফজল বেপারী তার স্ত্রী টগরী বেগম ছেলে সোহেল বেপারীকে আটক করে জেলা কারাগারে প্রেরন করেন। তারা হত্যা মামলায় একই পরিবারের ৩জন আটক হওয়ার পর থেকে মেরকাটিজ রোডের মাদক ব্যবসায়ী বাবা বাচ্চু তার বোন রহিমা বেগম ও বৌ বাজারের ইউনুছ ও মোহাম্মদ আলী সক্রিয় হয়ে উঠে। পুরানবাজারকে মাদক মুক্ত করার লক্ষ্যে এসকল মাদক ব্যবসায়ীদের এলাকা থেকে উচ্ছেদ করার জন্য পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের বারাবর স্মারক লিপি প্রদান করে। অবশেষে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় পুরানবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম মাদক মুক্ত পুরানবাজার গড়ার লক্ষ্যে মাদক ব্যবসায়ী বাবা বাচ্চু তার বোন রহিমা বেগম, ইউনুছ ও মোহাম্মদ আলীকে এলাকা থেকে উচ্ছেদ করেন। তারা পুলিশের কাছে অঙ্গীকার করেন পুরানবাজার এলাকায় আর কখনো আসবে না কখনো এই এলাকায় মাদক বিক্রি করবে না। শনিবার দুপুরে এলাকাবাসীর তোপের মুখে মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়ির মালিক তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পুলিশ ও এলাকাবাসীর মহতী উদ্যোগে এসকল মাদক ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করায় জনমনে সত্বি ফিরে এসেছে। পুরানবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানায়, দিনরাত পরিশ্রম করে শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। এদের মধ্যে গুটি কয়েকজন গোপনে মাদক বিক্রি করে। তাদেরকে এলাকাবাসী সোচ্চার হয়ে এলাকা থেকে উচ্ছেদ করেছেন। যেখানে শতভাগ মাদক বিক্রি হতো সেখানে মাত্র ৫% নেমেছে এসেছে। পুলিশ সুপার সামছুন্নাহারের নির্দেশে সকল পুরানবাজারকে মাদক মুক্ত করার জন্যই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর যারা এ মাদকের সাথে জড়িত থাকবে তাদের কে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূরক শাস্তি প্রদান করা হবে।
