প্রতিনিধি

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুসারে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ তারিখ হলেও গতকাল শনিবার পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ ও মহিলা পদে কেউই মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন নি। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, তারা ইতিমধ্যেই নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করে নিয়ে এসেছেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬২ হাজার ৬শ� ১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩০ হাজার ৫শ� ৫৮জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৩২ হাজার ৬১জন। উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্র সংখ্যা ১০৫টি। বুথ করা হবে ৭৪৫টি।
এদিকে নির্বাচন কমিশন তাদের সকল কর্মকাণ্ড গুছিয়ে আনলেও যাদের নিয়ে এতো আয়োজন বস্তুত তাদের নড়াচড়া না দেখতে পেয়ে হতাশ ভোটাররা। তবে ভেতরের খবর নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বড় দুই দলের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা লবিংয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে এবার ফরিদগঞ্জে ৩৫ বছর পর আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য থাকায় তারা উপজেলা চেয়ারম্যানসহ তিনটি পদে একক প্রার্থী দিচ্ছেন একথা নিশ্চিত করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্র। সহসাই তারা এনিয়ে আনুষ্ঠানিক বসবেন বলে জানা গেছে। ২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তিনজন প্রার্থী থাকায় তাদের সম্মিলিত ভোটের দ্বিগুণের ভোট কম পেয়ে নির্বাচিত হয়ে চমক দেখান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাজী মোজাম্মেল। তাই আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবছর আর সেই ভুল করতে নারাজ। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কারণে দলের নির্দেশ কে কতটুকু পালন করে তাই দেখার বিষয়।
এ পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন ঃ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকার, ইতিপূর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আঃ বারী মিয়াজী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক নজির আহাম্মদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান রানা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান। ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি হাজী সফিকুর রহমান, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের সাবেক সম্পাদক জিএস তছলিম, জেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম হারুন, ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ও উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিগত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রিনা নাসরিনের নাম শোনা যাচ্ছে।
ভিন্ন ব্যানারে বা নামে যেভাবেই হোক বিএনপি নির্বাচনে যাবে এই সংবাদে অনেকটা মাজায় গামছা বেঁধে অনেকটা আড়ালেই মাঠে নেমেছে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এখানে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হচ্ছেন জেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির বর্তমান সহ-সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শরীফ মোঃ ইউনুছ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টিপু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফেরদৌস পাটওয়ারী, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা হুমায়ুন কবির বেপারী এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বুলবুল। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিগত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান দুলাল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান রেবেকা সুলতানার নাম শোনা যাচ্ছে। জামায়াত ইসলামী জেলা আমীর এএইচএম আহাম্মদ উল্লাও উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান পারভেজ মোতালেবও নির্বাচন করতে পারেন। জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে এই মূহূর্তে কারো নাম না শোনা গেলেও সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া মাইনুল ইসলাম মানু চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দানের শেষ দিনে অনেক নূতন মুখ বেরিয়ে আসতে পারে।
