ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ইউনিটের ২৩ জন নেতা-কর্মীকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে চাঁদপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আতোয়ার রহমানের আদালতে আসামীরা স্বেচ্ছায় হাজির হলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। আসামীদের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানার এসআই মমিনুল হক ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(১) (ক) ও (খ) তৎসহ ১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৫০/১৫১/১৫২/১৫৩/৩৩২/১৮৯ দ-বিধি ধারায় মামলা করেছেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতেই আসামীদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
জানা গেছে, ফরিদগঞ্জে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে ফরিদগঞ্জে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ এবং পুলিশের সাথে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় (জিআর৬/১৮) ৫৪ জন আসামী আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হন। এদের মধ্যে বিএনপির ২৩ নেতা-কর্মীর জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
জামিন না মঞ্জুর হওয়া ২৩ জন হলেন : ফরিদগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমানত গাজী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাছির পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টিপু, ইউপি চেয়ারম্যান বাছির আহাম্মদ, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুর রহমান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হারুণ পাঠান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আলী ওরফে সবুর পাটওয়ারী, পৌর বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রাজু আহমেদ পাটওয়ারী, সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রুবেল হোসেন, বিএনপি ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতার মধ্যে বিল্লাল কোম্পানী, পেয়ার আহমেদ, কামরুল ইসলাম, সবুজ, সুমন মেম্বার, হেলাল, ইব্রাহীম, মুসলিম বেপারী, হান্নান পাটওয়ারী, সুজন মৃধা, আলমগীর দেওয়ান, ফারুক খান, শাহাদাত ও টেলু।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জানুয়ারি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার গাজী ভবনের দ্বিতীয় তলায় ছাত্রদল ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখার আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফ মোঃ ইউনুছসহ ৭৮ জনকে নির্দিষ্ট করে এবং ১২ শতাধিক অজ্ঞাত নেতা-কর্মীকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। এ মামলায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার শর্তে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেন। সোমবার চাঁদপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আতোয়ার রহমানের আদালতে ৫৪জন বিএনপি নেতা-কর্মী হাজির হন। আদালত উল্লেখিত ২৩ নেতা-কর্মীর জামিন না মঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করে এবং অন্য ৩১ জনের জামিন মঞ্জুর করেন। আসামীদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডঃ কামরুল ইসলাম, অ্যাডঃ সেলিম আকবর, অ্যাডঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডঃ বাবর বেপারী, অ্যাডঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খান, অ্যাডঃ শামছুল ইসলাম মন্টু, অ্যাডঃ আবদুর রহিম পরান, অ্যাডঃ মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত ইকরামসহ আরো ক’জন আইনজীবী।
এ মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী অ্যাডঃ আবদুর রহিম পরান জানান, মামলাটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা। ছাত্রদলের প্রোগ্রামে ছাত্রলীগ হামলা চালিয়ে তারাই মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এ মামলায় যাদেরকে বিবাদী করা হয়েছে, তাদের অনেকেই এ ঘটনার সময় ছিলো না।
