শাহরিয়ার খান কৌশিক ॥
চাঁদপুর পৌরসভাধীন ১৪নং ওয়ার্ড খলিসাডুলি গ্রামে চাঁদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের লাইব্রেরী সহকারী নুরুনাহারকে স্বাসরুদ্ধ ও নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় আটকৃত ৩ আসামীকে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করেছে।
আজ সোমবার আটকৃতদের বিরুদ্ধে আদালতে রিমান্ড শুনানী করা হবে। গত ২২ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ২৩ তারিখ দুপুরের মধ্যে যেকোন সময় নুরুনাহার কে হত্যা করে খলিসা ডুলি রাস্তার পাশে খালে ফেলে রেখে চলে যায় দুবৃত্তরা। খবর পেয়ে ২৩ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাসটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসে এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে খলিসা ডুলি গ্রামের মৃত জব্বার গাজীর ছেলে কুদ্দুছ গাজী (৬০), তার ছেলে সালাহউদ্দিন ওরপে সুজন গাজী(২৫) ও স্ত্রী নুরজাহান ওরপে মনোয়ারা বেগম (৫০) কে আটক করেছে। ২৪শে ডিসেম্বর মঙ্গলবার নিহত নুরুনাহারের ছেলে মোস্তফা বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩৬ তাং-২৪-১২-১৪ইং ধারা-৩০২/২০১/৩৪। পুলিশ আটকৃতদের ৩ জনের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরন করে। হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করতে আদালত তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ড মঞ্জুর করলে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে সম হবে। উল্লেখ্য, বিগত কয়েকবছর জায়গা সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে নিহত নুরজাহানের পরিবারের সাথে তার চাচা সেরাজুল মিজির মেয়ে আসামী মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা চলমান অবস্থায় মৃত নুরুনাহারের বাবা বিষ্ণুদীর
কাদের মিজি মারা যায়। বিগত ১৪ বছর যাবত নুরুনাহার চাঁদপুর সরকারি কলেজের সহকারী হিসেবে চাকরী নেয়। ঘটনার দিন ২২ শে ডিসেম্বর সোমবার দুপুর ১২টায় নুরজাহান তার ছোট মেয়ে নুসরাত আক্তার (৮) ও নাতনী সামিয়া আক্তার (৮) কে নিয়ে অসুস্থ জেঠি মনোয়ারা বেগমের মা জোবেদা খাতুন কে দেখতে আসে এসময় প্রথিমধ্যে তার ছোট বোন রোকেয়া বেগমের বাড়িতে যান। সেখানে মেয়ে ও নাতনীকে রেখে দধির পাতিল নিয়ে জেঠি জোবেদা খাতুনের বাড়িতে যায়। কিন্তু সেখান থেকে বোনের বাড়িতে না ফেরায় বোন রোকেয়া বেগম জেঠি জোবেদা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে খবর নেয়। এসময় জেঠি জোবেদা খাতুন ও তার মেয়ে মনোয়ারা বেগম জানায়, নুরনাহার বাড়িতে এসে কিছুন থাকার পর চলে যায়। তারপর থেকে নুরুনাহারকে কোথায় না পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়রী করা হয়। জিডি নং-৯১০ তাং-২২-১০-২০১৪। পর দিন ২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার খলিসাডুলি গ্রামের চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার তদন্ত ওসি চন্দ্রনের বাড়ির সামনে খালে মৃত অবস্থায় নুরুনাহারকে পথচারী স্থানীয় কবির প্রধানিয়া দেখতে পেয়ে পুলিশ কে খবর দেয়। খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হয়ে সুরতাল শেষে ময়নাতদন্ত করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

