বাবা মারা গেছে। মারা যাবার আগে একই বাড়ির অন্য লোকের কাছে সামান্য জমি বিক্রি করবে বলে কিছু টাকা নেয়। বাকি টাকা চাইতে গিয়ে নিগৃহীত হলেন মেয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রোববার হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব রাজারগাঁও গ্রামের পাচৈইর বাড়িতে।
মমতাজ আক্তার রিনা (৪০) জানান, আমার বাবা আলী আরশাদ বেপারী মারা যান গত জানুয়ারিতে। তিনি মারা যাবার আগে একই বাড়ির মৃত মাওলানা হাফিজুর রহমানের ছেলে সদ্য প্রবাস ফেরৎ নেছার মিয়ার কাছে জমি বিক্রয় করবে বলে তার কাছ থেকে ২১ হাজার টাকা নেন। বাবা মারা যাবার পরে ঐ জমির বর্তমান বাজার দরে এলাকাবাসী ৭০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। পরে ঐ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করা হয়। আর ঐ ৫০ হাজার টাকা থেকে আমার মা ১০ হাজার টাকা চাইতে গেলে ঘটে বিপত্তি।
মমতাজ আক্তার আরো জানান, মিলাদ উপলক্ষে আমরা সকল বোন গত শনিবার বাবার বাড়িতে আসি। মাকে নেছার গালাগালি করে বিধায় আমরা বোনেরা তাতে বাধা দেই। আর এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিকেলে ঝগড়া বাঁধে। আছরের নামাজের পরে হঠাৎ করে কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই নেছার আমাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এ সময় সে আমার নাকের ও কানের মিলিয়ে মোট সাড়ে ৩ আনি স্বর্ণের জিনিস নিয়ে যায়। আর এতে করে আমার কান ও নাক ছিদ্র হয়ে রক্ত পড়া শুরু করে। পরে মা ও বোনেরা এগিয়ে এসে তার হাত থেকে আমাকে রক্ষা করে।
মমতাজের মা আঙ্গুরী বেগম বলেন, হঠাৎ করে নেছার ঘর থেকে বেড়িয়ে আমার মেয়েটাকে মারধর শুরু করে। এ বিষয়ে আমরা মামলা করবো।
এদিকে গতকাল রাতেই নেছারকে আসামী করে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি নিচ্ছে মমতাজের পরিবার। আর চিকিৎসার জন্য মমতাজকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নেছারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি তাকে মেরেছি এটা ঠিক, কিন্তু সেও তো আমাকে মেরেছে।

