ফরিদগঞ্জে যৌতুক নিয়ে বিয়ে করার প্রতিবাদ করায়
বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে পিটিয়ে ঘরে বন্দি করলো নিষ্ঠুর ছেলে ॥ পরে উদ্ধার
প্রতিনিধি
সরেজমিনে গিয়ে ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধা মা পেয়ারা বেগম (৬০) জানান, গত সোমবার তাদের ছোট ছেলে শরীফ পাঠান (২২) পার্শ^বর্তী ষোলদানা গ্রামে পাত্রী দেখতে যায় বড় ছেলে লিটন পাঠানসহ বাড়ির লোকজন। পাত্রী পছন্দ না হওয়ায় আমি ও আমার স্বামী আঃ রশিদ পাঠান (৭০)সহ পরিবারের লোকজন ওই বিয়েতে রাজী হইনি। কিন্তু তারা যৌতুক নিয়ে বিয়ের করার বিপক্ষে থাকলেও বাড়ির কিছু লোক ও বড় ছেলে লিটন পাঠানের প্ররোচনায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা যৌতুক নিয়েই ওই মেয়েকে বিয়ে করে।
গত শুক্রবার বিকেলে বিয়ে শেষে দুই ছেলে কনে নিয়ে বাড়িতে আসার পর আমরা ঘরের দরজা সিটিকিরি দিয়ে ভিতরে বসে ছিলাম। কিন্তু বাড়ির লোকজন ও ওয়ার্ড মেম্বার নূর হোসেনের উপস্থিতে আমার বড় ছেলে ও কতিপয় লোক ঘরে প্রবেশ করে আমাদের উপর হামলা চালায়। এসময় হামলায় আমার বৃদ্ধা স্বামী, মেয়ে মরিয়ম বেগম ও মেয়ের জামাই মনির হোসেন আহত হয়। তিনি জানান, কনে পক্ষের কাছ থেকে যৌতুক নিতে নিষেধ করায় আমাদের উপর এই হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। পরে তাকে তার স্বামী ও মেয়েকে ঘরে বন্দী করে রাখে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওই ওয়ার্ডের মেম্বার নুর হোসেন বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলেছি। তবে তার উপস্থিতিতে মারধরের কথা অস্বীকার করেন।
এদিকে ঘটনার ব্যাপারে দু’ ভাই শরীফ পাঠান ও লিটন পাঠানকে বাড়িতে গিয়ে খুজে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার এসআই সুমন জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার সন্ধ্যায় তিন জনকে ঘর থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
