প্রতিনিধি
হাজীগঞ্জে স্ত্রী’র দায়ের করা মামলায় ভূয়া সাংবাদিক হাবিবুর রহমান অবশেষে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। গতকাল ৬ আগস্ট বুধবার ভোর ৪টায় তার প্রথম শ্বশুর বাড়ি থেকে আটক করেন থানার এএসআই মোঃ নাছির উদ্দিনসহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স।
জানা যায়, শাহ্রাস্তি উপজেলার আদর্শ ইছাপুরা গ্রামের নোয়া বাড়ির ছেফায়েত উল্যাহ্র ছেলে হাবিবুর রহমান ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে একই উপজেলার দোপল্লা গ্রামের মোল্লা বাড়ির মোঃ আলী আহম্মদের একমাত্র মেয়ে শিরিনা আক্তারকে ইসলামী শরীয়াহ্ মোতাবেক ২য় বিয়ে করেন। তার শ্বশুর পক্ষ মেয়ের সুখ-শান্তির কথা চিন্তা করে মেয়ের জামাইকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা যৌতুক হিসেবে দিয়ে থাকেন। হাবিব ২য় স্ত্রী শিরিনাকে নিয়ে ১ম শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করতেন। বিয়ের পর ওই বাড়িতে থেকেই হাবিব বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে শিরিনার উপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন। বিদেশে যাবে বলে শিরিনাকে ৩ লাখ টাকা তার বাপের বাড়ি থেকে এনে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এ টাকা স্ত্রী শিরিনা শ্বশুর বাড়ি থেকে এনে দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয় হাবিবকে। এর পর পরই চলে শিরিনার উপর অমানুষিক নির্যাতন। ওই সময় নরপশু হাবিব শিরিনার পেটে লাথি মেরে শিরিনার গর্ভে থাকা ৮ মাসের সন্তান নষ্ট করে ফেলে।
এ সকল ঘটনায় শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে গত ২০ মে চাঁদপুর জেলা জজ আদালতে ৪ জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগটি আদালত আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ৩০ ধারার অপরাধ আইনে মামলা হিসেবে রেজিস্ট্রিভূক্ত করা হয়। ওই সময় আদালত ৪ জন আসামীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন।
আসামীরা হলেন ঃ স্বামী হাবিবুর রহমান, শ্বশুর ছেফায়েত উল্যাহ্, শ্বাশুড়ি আয়েশা বেগম ও হাবিবের প্রথম স্ত্রীর মা সাজুদা বেগম। দীর্ঘদিন আসামীরা পলাতক থাকার পর অবশেষে পুলিশ হাবিব ও তার প্রথম শ্বাশুড়ি সাজুদা বেগমকে আটক করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। গতকাল আটককৃতদের চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করে থানা পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে হাবিবের ২য় স্ত্রী শিরিনা আক্তার চাঁদপুর বার্তাকে বলেন, বিয়ের সময় আমার পরিবারের কাছে অনেক তথ্য গোপন রেখে হাবিব আমাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ওই গোপন তথ্যগুলো ফাঁস হয়। ওই থেকে আমাকে যৌতুকের টাকা বাপের বাড়ি থেকে এনে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু এ টাকা তাকে এনে না দেয়ায় আমার উপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে থাকে। এক পর্যায়ে হাবিব আমার পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তানটি মেরে ফেলে। তাই আমি সু-বিচার কামনা করছি আদালতের কাছে। একটি সূত্রে জানা যায়, হাবিব ইতোমধ্যে বাবুরহাটসহ পার্শ¦বর্তী উপজেলায় আরো ২টি বিয়ে করেন।
হাবিবুর রহমান সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন গ্রামে সহজ-সরল লোকদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়াও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করবে বলে বিভিন্ন লোকদের কাছে টাকা নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিরোনাম:
মঙ্গলবার , ২৬ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চাঁদপুর নিউজ সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
