
চাঁদপুর সংবাদদাতা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পূর্ব ষাটনল কন্দু সরকার কান্দির কাতার প্রবাসী আলমগীর প্রধানের স্ত্রী রেখা বেগম (২০) গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে বসতঘরের আড়ার সাথে ওড়না দিয়ে ফাঁস দেয়।
শনিবার দুপুরে মতলব উত্তর থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। অভিযোগ পাওয়ার পর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ারুল হক কামাল, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুফল চন্দ্র সিংহ ও সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নিহত রেখা বেগম (২০) মাদারীপুর জেলার কালকিনির সিদ্দিক হাওলাদারের মেয়ে। আত্মহত্যাকারী রেখা বেগমের শ্বশুর মো. তবদিল হোসেন প্রধান জানান, প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার রাতের খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে ফজর নামাজ পড়ার জন্য আমার স্ত্রী পুত্রবধূ রেখা বেগমকে ডাকতে গিয়ে দেখতে পান তিনি বসত ঘরের এক কোনে আড়ার সাথে ফাঁস দিয়ে ঝুলে রয়েছে। সাথে আশ-পাশের লোকজনদের বিষয়টি জানানো হয়।
নিহত রেখা বেগমের শ্বশুর তবদিল প্রধান বাদি হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। তবে রেখা বেগমের আত্মহত্যা করার পেছনের কারন জানা যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুফল চন্দ্র সিংহ জানান, লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর হোসেন ঢাকার মীরপুর এলাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করাকালীন মাদারীপুরের রেখা আক্তারের সাথে পরিচয় হয়। রেখা আক্তার তার ভাইয়ের বাসায় থাকত। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক হয়। তারা পরিবারের অমতে বিয়ে করে। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি নেমে আসে। এক পর্যায়ে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। কয়েকমাস বিচ্ছিন্ন থাকার পর পুনরায় তারা একত্রে বসবাস শুরু করলে সামাজিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়। এরপর থেকে রেখা বেগম শ্বশুর বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার পূর্ব ষাটনল কন্দু সরকার কান্দি গ্রামে বসবাস শুরু করে। গত দুই থেকে আড়াই মাস আগে আলমগীর হোসেন প্রধানকে বড় ভাই কাতার নিয়ে যায়।
প্রতিদিনই রেখা ও আলমগীরের সাথে মুঠোফোন ও ইন্টারনেট কলে কথা হতো। শুক্রবারও তাদের মধ্যে কথা হয়।
