নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলা এলাকায় গৃহবধূ রূপা রাণী দাসের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ১৮ দিন পার হয়ে গেলেও মিলেনি প্রাথমিক ময়না তদন্তের রিপোর্ট। প্রাথমিক অবস্থায় রূপার মৃত্যুর ঘটনাটি শ্বশুর বাড়ির লোকজন আত্মহত্যা বলে প্রচার করলেও ইদানীং ওই ঘটনা ক্রমেই ঘনীভূত হতে চলেছে। মতলব উত্তর উপজেলার হানিরপাড় গ্রামের গ্রাম-পুলিশ বিষ্ণু চন্দ্র দাসের কনিষ্ঠা কন্যা রূপা রাণী।
রূপার পরিবারের দাবি, তাকে নির্যাতন ও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর ওড়না দিয়ে বেঁধে ঘরের ফ্যানের হুকের সাথে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে অপমৃত্যু মামলায় নিহত রূপার স্বামী রূপার মানসিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করলেও তাতে দ্বিমত পোষণ করে রূপার বড় ভাই বাপ্পী চন্দ্র দাস জানান, আমার বোন কখনোই মানসিক রোগী ছিলো না। এটা প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের। পরিকল্পিতভাবে তারা আমার বোনকে হত্যা করে সেটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চাইছে। তাছাড়া আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে ২ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায়। অথচ পুলিশকে ফোন দেয়া হয় রাত ২টায়, আমাদেরকে খবর দেয়া হয় রাত ৮টার পরে। মৃত্যুর খবর এতো পরে দেয়ার বিষয়টিও অনেকটা রহস্যের সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয়, ময়না তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরও তাদের পক্ষাবলম্বন করছে। ১৮ দিন অতিবাহিত হলেও আমরা ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাইনি। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আমার বোনের হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৯/১ জামতলা হীরা কমিউনিটি সেন্টারের পেছনের মহল্লার আলী আকবর মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত রমেশ চন্দ্র দাসের ছেলে রঞ্জিত চন্দ্র দাস বিগত ৭ বছর পূর্বে সুদূর মতলব উত্তর উপজেলার হানিরপাড় গ্রামের গ্রাম পুলিশ বিষ্ণু চন্দ্র দাসের কনিষ্ঠা কন্যা রূপা রাণী দাসকে ভালোবেসে বিয়ে করে। বিয়ের ২ বছর পর তাদের সংসারে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। যার নাম তনুশ্রী দাস (৫)। কন্যা সন্তান জন্মদানের পর থেকেই রূপার উপর নেমে আসে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের পাশবিক নির্যাতন। স্বামী রঞ্জিত, ননদ বকুল রাণী, ননদের স্বামী বিপ্লব দাস এবং ভাসুর মানিক চন্দ্র দাস ও ভাবী রূপা দাস প্রতিনিয়তই তাকে কারণে-অকারণে বেদম মারপিট করতো। তারই ধারাবাহিকতায় ২ মার্চ রাতে রূপা রাণীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ফ্যানের হুকের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়।
রূপা রাণীর মৃত্যু আত্মহত্যা না হত্যা তার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
