
প্রতিনিধি
বিয়ের মাত্র সাতমাসের মাথায় যৌতুকের বলি হলেন নাসরিন আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূ। গতকাল শুক্রবার সকালে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন রান্ধুনীমুড়া গ্রামে বাপের বাড়িতে রাগে-ক্ষোভে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনেয়া হলে পুলিশ সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনাসরিনকে দেখতে আসলে তার স্বামী ইকরামুল কবিরকে (৩২) আটক করে। নাসরিনের মৃতদেহ থানায় রাখা হয়েছে। নিহত নাসরিন হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন আবুল খায়েরের বড় মেয়ে।
নিহত নাসরিনের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে শাহরাস্তি উপজেলার ইছাপুরা গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে ইকরামুল কবিরের সাথে নাসরিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্যে কবিরের মা কাজল আক্তার বিভিন্ন সময়ে তাকে অত্যাচার নির্যাতন করতো। গত একমাস আগে নাসরিনের বাবা কাজল আক্তারকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। কবির বিদেশ যাওয়ার জন্যে আরো ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন।
নাসরিনের বাবা আবুল খায়ের রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। আবুল খায়ের বলেন, রাজমিস্ত্রীর কাজ করে মেয়েকে বিএ পাস করিয়েছি। আমার মেয়ে বিয়েতে বসতে চায় নি। কবির বিদেশে থাকেন, সুখে শান্তিতে থাকবেন এ আশায় জোর করে তাকে বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্যে আমার মেয়েকে জামাই ও শাশুড়ি নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন করতো। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে ৩০ হাজার টাকা আনার জন্যে আমার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু আমি টাকা জোগাড় করতে পারি নি।
আবুল খায়ের আরো বলেন, সকালে আমি কাজ করতে চলে গিয়েছি। পরে শুনি আমার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। জামাই ও শাশুড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমার মেয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। আমি আমার মেয়ের উপর অত্যাচার ও নির্যাতনের বিচার দাবি করছি।
সকাল ১১টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েগিয়ে দেখা যায়, নাছরিনের শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্বামী নাসরিনকে দেখার জন্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েএসে কান্নাকাটি করে। অবস্থা বেগতিক দেখে শ্বশুর-শাশুড়ি সটকে পড়েছে। তবে স্বামী কবিরকে পুলিশ কৌশলে আটকে ফেলেছে।
কবির জানান, আমি কখনো আমার স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করি নি এবং এক টাকাও নেই নি। আপনার মা টাকা নিয়েছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে কবির বলেন, এ বিষয়ে মা ভালো বলতে পারবেন। আমি দুবাই যাওয়ার জন্যে ভিসা টিকেট রেডি করেছি।
নিহত নাসরিনের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইন উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। কবিরকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। ওসি স্যার আসলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
