
রমজানের আগে চাঁদপুরের সর্বত্র বেড়েই চলছে নিত্যপণ্যের দাম : হতাশ ভোক্তারা দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সারা বছরের মুনাফা একমাসেই কামিয়ে নিতে চান কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা।
পাল্লা দিয়ে বাড়ানো হয় নিত্যপণ্যের দাম। আর এর প্রভাব চাঁদপুর জেলায়ও কম পড়েনি। সব্জির বাজার থেকে শুরু করে মাছ-মাংস, ডাল, পেয়াজের দাম নিম্ন বিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন চাঁদপুরের ভোক্তারা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজের দাম কদিন আগেও ছিল ৪০ টাকা কেজি। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। মহামায়া পূর্ব বাজারের আরিফ স্টোরে মূল্য তালিকা অনুযায়ী পেয়াজের কেজি ৬০ টাকা, রসুন ১২৫ টাকা, আদা ১৮০ টাকা, মশারী (মোটা) ৯০ টাকা, মশারী (চিকন) ১১৮ টাকা, ছোলা বুট ৬৮ টাকা, সয়াবিন (খোলা) ৮৫ টাকা, মোটা চাল ৪২ টাকা, চিকন চাল ৪৭ টাকা, বুটের ডাল ৪৩ টাকা, চিনি ৬৩ টাকা, চিড়া ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
অথচ একই বাজারে আরেকটি খুচরা দোকান মিলন স্টোরে পেয়াজের কেজি ৫৫ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, আদা ২৪০ টাকা, খেশারী ১০০ টাকা, মশারী (মোটা) ৯০ টাকা, মশারী (চিকন) ১২০ টাকা, ছোলা বুট ৭০ টাকা, সয়াবিন (খোলা) ৮৫ টাকা, মোটা চাল ৪২ টাকা, চিকন চাল ৫৩ টাকা, বুটের ডাল ৪৫ টাকা, চিনি ৬৫ টাকা, চিড়া ৬০ টাকা, মুড়ি ৬০ টাকা, জিরা ৪০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বাজারের সবচেয়ে বড় পাইকরী দোকান সলাউদ্দিন স্টোরে গিয়ে দেখা যায় পেয়াজের কেজি ৪৫ টাকা, রসুন ১১০ টাকা, আদা ১৭৫ টাকা, মশারী (মোটা) ৮৫ টাকা, খেশারী ৯২ টাকা, মশারী (চিকন) ১১৮ টাকা, ছোলা বুট ৬৮ টাকা, সয়াবিন (খোলা) ৮২ টাকা, মোটা চাল ৪০ টাকা, চিকন চাল ৪৭ টাকা, বুটের ডাল ৪৩ টাকা, চিনি ৬৩ টাকা, চিড়া ৫০ টাকা করে বিক্রি বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়াও মাছ-মাংস, কাঁচা বাজারসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও লাগামগহীনভাবে বেড়ে যাচ্ছে। দাম বাড়ার কারন হিসেব জানতে চাইলে অধিকাংশ ব্যবসায়ী বলেন, উৎপাদন কারখানা বন্ধের কারনে পণ্যসামগ্রী সংকট। আরেকদিকে করোনাভাইরাস এর এই দূর্যোগ মুুুহুর্তে ব্যাপকহারে ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে। সেই সাথে রমজানকে সামনে রেখে পণ্যের চাহিদা বেশি। এছাড়া মজুদকারীরা পণ্যের কৃত্তিম সংকট তৈরী করেছেন। চাহিদার তুলনায় বাজারে পণ্য কম আসছে। তাই পণ্যের দাম বেড়েছে।
নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান দৈনিক চাঁদপুর খবরকে জানান, বিভিন্ন জেলা লকডাউন থাকা সত্ত্বেও সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে এ সকল পণ্যের গাড়ি চলাচল লকডাউনের আওতা বহির্ভূত রেখেছে। এসব পণ্যের মজুদ স্বাভাবিক আছে। সুতরাং মূল্য বৃদ্ধির কোন যৌক্তিক কারন নেই। এরপরও কেউ যাতে মূল্য বৃদ্ধি করতে না পারে সেজন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।
