শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার , ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
হাসানুজ্জামান
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশার কারন চরম জন বল সংকট- এমনই বক্তব্য দিয়েছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানিক লাল মজুমদার। সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নতি থাকলেও রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবায় যথাযথ ব্যক্তি না থাকায় নিশ্চিত চিকিৎসা ব্যহত হচ্ছে। প্যাথলজি বিভাগে সামান্য কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা গুলো প্রাইভেটে করাতে হয়। যদিও ওই সকল পরীক্ষার মেশিন হাসপাতালে রয়েছে। জানা যায়, শাহরাস্তি এই হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে স্থানিয় সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মহোদয়ের ঐক্যান্তিক প্রচেষ্টায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নিত হয়। অথচ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মিত হলেও প্রায় দীর্ঘ ২০ বছর যাবত ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে প্রতিদিনের কার্যক্রম। হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ কোনো মতে চললেও ওয়ার্ড চালাতে হিমশম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, শতভাগ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে শতভাগ জনবল প্রয়োজন। সেখানে প্রায় ৪০ ভাগ জনবল নিয়ে হাসপাতালটি চালিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন সময় রোগীর অভিভাবকদের নানান কথা শুনতে হচ্ছে। অথচ এই হাসপাতালে জনবল সংকট দীর্ঘ বছরের। বহুবার স্থানিয় সংসদ সদস্য মহোদয়কে এই বিষয়টি অবহিত করেছি। সর্বশেষ গিনি কিছু দিন পূর্বে হাসপাতালের এই সমস্যাটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উক্ত সমস্যাটি সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে একক্সে মেশিন রয়েছে যা বর্তমানে অচল আর ইসিজি মেশিন থাকলেও জনবল সংকটের দরুন প্রয়োজনে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যেখানে ২২ ডাক্তার থাকার নিয়ম সেখানে বর্তমানে সর্বসাকূল্যে ১০ জন ডাক্তার রয়েছে। হাসপাতালের স্বাস্থ্য বিভাগে সব মিলে ডাক্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারী ৭৬ জন থাকার কথা থাকলেও সেখানে রয়েছে মাত্র ৩৬ জন। যা ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জনবল থেকেও কম। এছাড়া নিজ জেলাসহ পাশের দুই জেলার মোট ৬ টি উপজেলা থেকে রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা হয় এখনে। যেখানে এখনও ৩১ শয্যার সরকারী সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি সেখানেই প্রতিদিন বহিঃবিভাগে গড়ে আড়াইশ আর আন্তঃবিভাগে গড়ে ৭৩ জন রোগীর সেবা প্রদান করছি। তাই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানিয় এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এলাকাবাসী ও রোগীর অভিভাবকরা বলেন, আমরা অসহায় ও বিপদে পড়েই হাসপাতালে ছুটে আসি। এখানে ব্যক্তি বিশেষের সুচিকিৎসা হলেও সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় অবহেলা লক্ষিত হয়। এছাড়া জরুরী বিভাগে টাকা ছাড়া কোনো চিকিৎসা করেন না তারা। হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগে প্রতিনিয়ত এভাবে চলছে অনিয়ম। যা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উর্দ্ধতন মহলের নজরদারিতা একান্ত প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
