১২ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ

শাহরাস্তি উপজেলার উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের কুরকামতা গ্রামে বেস্নড দিয়ে গৃহবধূর গলা কেটে হত্যা চেষ্টার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গৃহবধূ নিজের অপকর্মের কথা জানালেন পুলিশি জেরার মুখে। তার দেয়া তথ্যমতে গলাকাটায় ব্যবহৃত বটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনার প্রাথমিক বিবরণে প্রকাশ, ঘটনার দিন ওই গ্রামের বেপারী বাড়ির রাহাতের
স্ত্রী শাহীনকে (২৫) অজ্ঞাত দুই দুর্বৃত্ত বসতঘরের পেছনের দরজা দিয়ে
প্রবেশ করে হাত-মুখ বেঁধে পাশবিক নির্যাতনের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। এক
পর্যায়ে ওই গৃহবধূ চিৎকার দিতে গেলে তারা বেস্নড ভেঙ্গে ওই গৃহবধূর মুখের
ভেতর ঢুকিয়ে স্কচটেপ এঁটে দেয় এবং বেস্নড দিয়ে তার গলা কেটে ফেলে। সকাল
৯টার সময় ওই গৃহবধূর শাশুড়ি ছকিনা বেগম তাকে ডাকতে গেলে পুত্রবধূর গলা কাটা
দেখে চিৎকার দেন। এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ভিকটিমকে হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার সাথে সাথে পুলিশের একটি টিম হাসপাতালে ওই গৃহবধূকে দেখতে আসে।
সেখানে গৃহবধূর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কর্মরত চিকিৎসক তার মুখে স্কচটেপ
অাঁটার কোনো চিহ্ন দেখতে না পেয়ে এঙ্-রের মাধ্যমে গলার ভিতরের বেস্নড
শনাক্ত করতে চেষ্টা করে। এঙ্-রেতে অস্বাভাবিক কিছু ধরা না পড়ায় চিকিৎসক
তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
সাথে সাথেই হাজীগঞ্জ ও কচুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন ও
শাহরাস্তি থানা অফিসার ইনচার্জ শাহ্ আলমের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
সেখানে ক্রাইম স্পট পরিদর্শনে ঘটনার সাথে গৃহবধূর বক্তব্যের মিল না পেয়ে
বাড়ির লোকজনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে ভিকটিমের শ্বশুর ইউনুছ
মিয়া ও শাশুড়ি ছকিনা বেগম জানায়, পারিবারিক কলহের কারণে বেশ কয়েকদিন ধরেই
তাদের পুত্রবধূ বলে সে অনেক ভুল করেছে, তাকে যেনো ক্ষমা করে দেয় (ঘটনার
তদন্তের স্বার্থে যা গতকালের সংবাদে প্রকাশ করা হয়নি)।
ইতঃমধ্যে পুলিশের উপ-পরিদর্শক আব্দুল আউয়াল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে গেলে কর্মরত চিকিৎসক জানান, গৃহবধূ আশঙ্কামুক্ত হওয়ায় সে
চিকিৎসাশেষে হাসপাতাল হতে ছাড় নিয়েছে। বিকেলের মধ্যেই ওই গৃহবধূ তার
পিত্রালয় শাহরাস্তি পৌরসভার ছিখুটিয়া গ্রামে উঠে। পুলিশ সেখানে ঘটনার
পুনঃবিবরণ জানতে চাইলে গৃহবধূ অসংলগ্ন কথা বলতে থাকে। এক পর্যায়ে সে
আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে এ কাজ করেছে বলে জানায়। এ ব্যাপারে সে অনুতপ্ত ও
ক্ষমাপ্রার্থী বলেও জানায়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্বশুর বাড়ি হতে পুলিশ
গলাকাটায় ব্যবহৃত বটি উদ্ধার করে।
শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ্ আলম জানান, আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে
ভিকটিম নিজেই তার গলায় বটি চালিয়েছে। প্রাথমিকভাবেই বিষয়টি আত্মহত্যার
চেষ্টা সন্দেহ হওয়ায় আমরা বিষয়টি চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান
পিপিএমকে জানাই। তাঁর নির্দেশনা মোতাবেক পুলিশ ঘটনার রহস্য উন্মোচনে সক্ষম
হয়।
হাজীগঞ্জ ও কচুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন জানান,
মানসিকভাবে হতাশা ও স্বামী পরিবারকে চাপে ফেলতে গৃহবধূ এ কা- ঘটিয়েছে।
যেহেতু সে হতাশাগ্রস্ত, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে আইনী
পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
