শাহরাস্তিতে এক খন্ড জমিকে ২বার বিক্রি – দ্বিতীয় ক্রেতার জবর দখল এমন পেশী শক্তি প্রদর্শণ মূলক ঘটনা ঘটেছে । ঘটনাটি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের কুলশী গ্রামে ঘটে। জানা যায়, ওই গ্রামের কোনার বাড়ির মৃত মোঃ মোস্তফা কামালের পুত্র মোঃ ওমর ফারুক ওরফে মানিক ২০১২ সালে পৈত্রিক সূত্রে মালিক হয়ে হালে ১৩৩২, ১৩৩৫ ও ১৩৩৬ তিন দাগে ২ দলিলে মোট ২২ শতক জায়গা বিক্রি করেন- পাশ্ববর্তী গ্রাম টামটা পশ্চিম পাড়া মিয়াজি বাড়ির মৃত আঃ মান্নানের পুত্র ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাইফুল ইসলাম দুলালের কাছে। সাইফুল ইসলাম ওরফে দুলাল সাব কবলা মূলে ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে ওই জায়গায় মাটি ভরাট সহ ভোগ দখল দারিত্ব করেন। এ বিষয়ে জায়গার দ্বিতীয় বিক্রেতা মোঃ মোক্তার হোসেন প্রথম ক্রেতার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-০৩/১৫।এ ব্যাপারে প্রথম বিক্রেতা মোঃ ওমর ফারুক মানিক বলেন, পিতার মৃত্যুর পর সন্তান ওই পিতার স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তির মালিক হয় ওয়ারিশ সূত্রে। এ নিয়মানুযায়ী আমি বিবাদমান জায়গার মালিক হয়ে ২০১২ সালে বিক্রি করি এবং ক্রেতা সাইফুল ইসলাম দুলালকে তার দখল শর্ত বুঝিয়ে দেই। বর্তমানে দ্বিতীয় বিক্রেতা মোঃ মোক্তার হোসেন ভূয়া দলিল সৃষ্টি করে রাতের অন্ধকারে গোপনে ওই জায়গা বিক্রি করেন একই বাড়ির ছালামত উল্লার স্ত্রী শাহিন সুলতানার কাছে। যা এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অবহিত নন। এ ঘটনায় স্থানীয় সালিশে সালিশদারদের গৃহীত সিদ্ধান্ত অবমাননা করেন-গোপন বিক্রেতা ও দ্বিতীয় ক্রেতা গং। তিনি আরও বলেন, আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় কিভাবে জোর পূর্বক জায়গা দখল করেন তা আইনের দিকমালা নাকি পেশী শক্তি প্রয়োগের নমুনা। অন্যদিকে দ্বিতীয় বিক্রেতা মোঃ মোক্তার হোসেন বলেন, বিবাদমান জায়গা টুকুর আংশিক আমার পিতা আজগর আলী আমাকে দান কবলা করেন আর আংশিক আমার নিজ নামে সাব কবলা মূলে খরিদা জায়গা। কাগজের সত্যতা আর পৈত্রিক সূত্রে মালিক হয়ে ২০১৪ সালে শাহিন সুলতানার নিকট বিক্রি করি। যা আজ সরেজমিনে ক্রেতার শর্তানুযায়ী দখল বুঝিয়ে দেই। প্রথম ক্রেতা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাইফুল ইসলামের পক্ষে পাওয়ার অব এটর্নি প্রাপ্ত মোঃ শাহজাহান লিটন বলেন, উক্ত জায়গা ক্রয়ের পর দখল শর্ত বুঝে নেয়ার সময় দ্বিতীয় বিক্রেতা কোনরুপ বাঁধা প্রদান করেন নি। এছাড়াও নিচু জমিতে মাটি ভরাটের মাধ্যমে উচু করার সময় ওই জায়গা তার এমন কোন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। যে কারনে অত্র এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে উক্ত জায়গার উন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টা করি। জবর দখলের আগের দিন সন্ধ্যায় গোপন বিক্রেতা ও ক্রেতাগং জড়ো হয়ে প্রকৃত ক্রয়কারীগংদের লাঠি সোটা নিয়ে তাড়া করেন এবং সাইফুল ইসলাম দুলালের সাইন বোর্ডটি ভাংচুর করে অন্যত্র ফেলে দেয়। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে ৫ জনকে বিবাদী করে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি। যার নং-৫২৯ তাং- ১৪/০৬/২০১৫ ইং।
দ্বিতীয় ক্রেতা শাহিন সুলতানার পক্ষে নেতৃত্ব দানকারী একই বাড়ির মৃত মৌলভী মোঃ লোকমান গনির পুত্র মোঃ সফি উল্লা বলেন, ক্রেতা আমার ভাবী। আমি ওনার পক্ষে বিক্রেতা মোক্তার হোসেনের কাছ থেকে দখল শর্ত বুঝে নেই। আমরা খরিদা সূত্রে সাব কবলা মূলে উক্ত জায়গার মালিক হই। কার সাথে কি ঝামেলা তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই।
এলাকাবাসি বলেন, বিবাদমান জায়গাটি মূলত কার তা কাগজে প্রমাণ করবে। তবে স্থানীয় সালিশে প্রতিয়মান হয় যে, উক্ত জায়গার মালিক ওয়ারিশ সূত্রে ওমর ফারুক মানিক। তাছাড়া এ জায়গা টুকু বিক্রির প্রাক্কালে বিক্রেতা মানিক এবং ক্রেতা দুলাল এলাকার মুরব্বী শ্রেণির লোকজনের সাথে শলা পরামর্শ মোতাবেক ক্রয় বিক্রয় করেন। বর্তমানে জবর দখলের ঘটনায় দ্বিতীয় বিক্রেতা তার ক্রেতাকে শুধুমাত্র আঙ্গুল ইশারায় জায়গার দখল বুঝিয়ে দেন। যা শুধু লোক দেখানো আর নিজের দখল দারিত্ব অন্যকে বোঝানোর জন্যই করেছেন তিনি।
শিরোনাম:
রবিবার , ১৭ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

