
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রেমিকার বিয়ের সংবাদ সইতে না পেরে এক যুবক আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। মঙ্গলবার ২১জুলাই উপজেলার সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কেশরাঙ্গা গ্রামের পূর্বপাড়া ভূঁইয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ এ প্রেমিক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে বুধবার ২২জুলাই সকালে ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।
নিহত যুবকের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও থানা পুলিশ সূত্র জানায়, ওই বাড়ির মৃত শাহজাহানের পুত্র রহমত উল্লাহ (২২) লেখাপড়া বন্ধ করে নিজ বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। ৩বছর পূর্বে সূচীপাড়া উত্তর ইউপি’র শোরসাক গ্রামের ময়ূর বাড়ির ইমাম হোসেন ভান্ডারীর কলেজ পড়ুয়া মেয়ে সানজিদা (১৮) সঙ্গে নিজ বাড়িতে তার বড় বোনের বাসায় পরিচয় হয়। ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে মুঠোফোন নাম্বার বিনিময়ে হয়। এ থেকে সানজিদা ও রহমত কথোপকথনে এটি ভালোবাসায় রূপ নেয়। এভাবে ভবিষ্যতে নূপুরকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে রহমত। ওই হিসেবে সানজিদা যাবতীয় লেখাপড়ার খরচ যোগান ও তাকে দেখবাল শুরু করে সে।
তারপর সানজিদা আরো কাছে পেতে নিজের যোগ্যতা ও সামর্থ্য অর্জনে রহমত সম্প্রতি ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি জুটিয়ে নেয়। ওই চাকরির সুবাধে বর্তমান লকডাউন শিথিলে সে ঢাকায় অবস্থান করছিল।
এদিকে গত ১৯ জুলাই রহমতের অনুপস্থিতিতে নূপুরের পরিবার উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউপির জনৈক এক যুবকের সঙ্গে তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। ওই বিয়ের সংবাদ সানজিদা চাচাতো বোন রহমতের মুঠোফোনে জানিয়ে দেয়। ওই সংবাদে সে বাড়িতে এসে সোমবার ২০জুলাই সারাদিন নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়ে নিজ বাড়িতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। পরদিন মঙ্গলবার কোন এক সময় বিমর্ষ রহমত নূপুরকে হারিয়ে ফেলার বেদনা সইতে না পেরে বাড়ির পাশে গাছের সঙ্গে নিজেকে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার পথে পা বাড়ায়।
ছেলে রহমতকে হারিয়ে মা রেজিয়া বেগম (৬০) এ কষ্টের কথা গুলো বলে কেবলেই বিলাপ করছিলেন। পরে স্থানীয়দের ওই সংবাদের ভিত্তিতে শাহরাস্তি থানা পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মান্নান সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে রহমতের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে শাহরাস্তি থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয় ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী (মেম্বার) এ ঘটনায় শাহরাস্তি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি থানা পরিদর্শন তদন্ত আব্দুল মান্নান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক ভাবে এটি প্রেম ঘটিত কারন বলে বিবেচিত হচ্ছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নূপুরের পরিবার থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
