
রফিকুল ইসলাম বাবু ॥
নাম মোঃ ওমর ফারুক বয়স ৯ কি ১০। বাবা মারা যাওয়ার সাথে সাথে পর মা দ্বিতীয় সংসার পেতে ঢাকায় বসবাস করছেন। দাদার বাড়ি শাহরাস্তি উপজেলার শিবপুর মুন্সিবাড়িতে ঠাঁই মিললেও ভরণ পোষণ ঠিকভাবে চলছে না তার। তাই দাদা আরব আলী স্থানীয় লস্কর হাজী হাফেজিয়া মাদ্রসায় ভর্তি করে দেন। ৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মোবাইল চুরির অভিযোগ এনে ২ঘন্টা ব্যাপী পাশবিক নির্যাতন চালায় শিক্ষক ফয়েজ উল্লাহ। এমন নির্যাতন করা হয় যে, শরীরের পা থেকে মাথা পর্যন্ত আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। ইতোমধ্যে আঘাতের স্থান কালো হয়ে গেছে। পরে স্থানীয় বেরনাইয়া বাজারে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। ঘটনার পর থেকে শিক্ষক ফয়েজ উল্লাহ পলাত রয়েছেন। মোবাইল চুরির মিথ্যে অভিযোগ এনে এ নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ করে ওই ছাত্রের স্বজনরা। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। স্থানীয় খিলা বাজার পুলিশ ফাঁড়ি বিষয়টি অবগত থাকলেও অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়। অবশ্য খবর পেয়েই রোববার বিকেলে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে শিশুটিকে দেখতে যান। আহত শিশু ওমর ফারুক জানায়, হুজুর আমাকে রাত তিনটা থেকে রাত চারটা পর্যন্ত হাত পায়ে রশি বেঁধে নির্যাতন চালায়। মোবাইল নিয়েছি এ কথা স্বীকার না করলে তিনি মারতেই থাকবেন। আমি আঘাত সহ্য করতে না পেরে চুরি করেছি বলে দিই। তাপর আমাকে বেঁধে ফেলে রাখে। পরদিন সকালে খবর পেয়ে ফারুকের মামা সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বেরনাইয়া বাজারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করায়। ফারুকের চাচী নাজমা বেগম, দাদা আরব আলী, স্থানীয় সুফিয়া বেগমসহ আরো অনেকেই জানান, একটা কুকুরকেও মানুষ এভাবে মারে না। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পাষ- শিক্ষককে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী মোঃ আবু হানিফ জানান, আমি এই প্রথম শুনলাম। বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে সঠিক বিচারে সহযোগীতা করবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব। যেহেতু শিশুটির বাবা মা নেই যে কেউ তার পক্ষে অভিযোগ দিলেই আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবে। তাপরেও যদিও কেউ না থাকে তবে পুলিশের পক্ষ থেকেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জানান, যেহেতু শিশুটির বাবা মা নেই, সেহেতু যে কেউ তার পক্ষে অভিযোগ দিলেই আমরা ব্যবস্থা গ্রহনণ করবো। তাপরেও যদিও কেউ না থাকে তবে পুলিশের পক্ষ থেকেই ব্যবস্থা নেয়া হবে
