প্রতিনিধি যৌতুকের দাবী পূরণ করতে না পারায় স্বামী ও তার পরিবারের লোকজনের বেদম প্রহার ভোগ করতে হয়েছে এক অভাগী গৃহবধুকে। তাদের অমানবিক নির্যাতন আর মানসিক যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে পিত্রালয়ে আশ্রায় নিতে বাধ্য হয়েছে ওই গৃহবধু। এ ব্যাপারে গৃহবধুর পিতা পরিবার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-ঈজ-১১৯/২০১৬, তাং-০৫/১২/২০১৬ইং। ঘটনাটি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের বলশীদ পূর্বপাড়া ভূঁইয়া বাড়িতে ঘটে।
জানা যায়, ওই বাড়ির সিদ্দিকুর রহমানের পুত্র মোঃ হারুনুর রশিদের সাথে পাশ্ববর্তী কচুয়া উপজেলার গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নের খাজুরিয়া লক্ষীপুর গ্রামের বেপারীর বাড়ির মাওঃ আব্দুল মালেকের কন্যা আসমা আক্তার শিফার ২০০৫ সালের আগষ্টের ৮ তারিখে শরা-শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। বেশ চলছিলো তাদের সংসার। দাম্পত্য সুখ আর সাংসারিক স্বাচ্ছন্দতার মাঝখানে হঠাৎ দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় “যৌতুক” নামের এক ভয়ংকর দানব। যার অতৃপ্ততায় হারুন হয়ে উঠে রুক্ষ আর শিফার ভাগ্যে নেমে আসে অশান্তির অমানিশা। ধুকে ধুকে চলছে তবুও সংসার। শিফা তার পিতা ও ভাইদের সাথে আলাপ করে যখন যা পারছে তাই দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হারুনের এতো অল্পতে না হওয়ায় আরও বেশীর জন্য শুরু করলো জোড়ালো চাপ। যৌতুকের দাবী পূরণ করতে না পারায় চলে শারিরীক নির্যাতন ও মানসিক যন্ত্রণা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ আগষ্ট ২০১৬ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় ঘটে সর্বশেষ ঘটনা। ওই ঘটনায় শিফাকে দোষী সাভ্যস্থ করা হয়। একশ এক বেত্রাঘাতসহ সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখা হয়।
এ ব্যাপারে শিফা বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার স্বামী হারুনুর রশিদ বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করতো। এক পর্যায়ে তিনি গায়ে হাত দেয়া শুরু করেন। তখন শুধু কাঁদতাম। এভাবেই চলছে জীবন। ২ মাস স্বামীর বাড়ি থাকলে বাকি ১০ মাস বাপের বাড়িতে কাটাতে হতো। আমার ও সন্তানদের ভরণ-পোষন ঠিক মত চালাতো না। সর্বশেষ গত ২৫ আগষ্ঠ বৃহঃবার রাতে আমার বাবাকে ফোন করে আনা হয় বলশীদে। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে আমার স্বামী আমার বিরুদ্ধে অশ্লীল অভিযোগ তোলেন। সে সময় ওই অভিযোগের প্রমান দিতে তিনি ব্যর্থ হন। জোর পূর্বক আমাকে আমার শয়ন কক্ষে নিয়ে তিনি বলেন, তুই যদি এ দোষটি স্বীকার না করিস তাহলে তোকে সবার সামনে তালাক দিবো এবং তোর বাবার সাথে অপমান করে ঘর থেকে বের করে দিবো। বাবার সম্মান ও সন্তনদের মুখের দিকে তাকিয়ে স্বামীর এমন অন্যায় আবদার রক্ষা করতে গিয়ে আমি অপরাধি স্বীকার করি। অথচ আমার বিরুদ্ধে আনিত তার এমন অভিযোগের বাস্তবতা সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই। তবুও আমার স্বামী হারুনুর রশিদের মন নরম হয়নি। পরদিন থেকে চলছে আবারও শারিরীক নির্যাতন। একপর্যায়ে আর সহ্য করতে না পেরে বাপের বাড়িতে পাড়ি জমাই। বর্তমানে আমার স্বামী আমাকে বিভিন্ন জন দ্বারা হুমকি-ধমকি প্রদান করছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।
শাহরাস্তি গেইট দোয়াভাঙ্গায় নূর-ই-মোস্তফা হেফাজ খানায় আমাদের একমাত্র ছেলে রায়হান কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করছে। আমার স্বামী তাকে চুরি করার জন্য বহু চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি অসহায়-আইনি সহায়তাই আমার বেঁচে থাকার একমাত্র উৎস।
শিকার পিতা হাফেজ মাওঃ আবদুল মালেক বলেন, সন্তানের দিকে তাকিয়ে কখনও কিছু বলিনি। শিফাকে বিয়ে দেয়ার পর থেকেই হারুনের অত্যাচার শুরু হয়। যার খেসারত হিসেবে ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে আলাদতে একটি মামলা দায়ের করি। তখন উভয় এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ক্ষমা চেয়ে এবং এমন আচরণ আর না করার অঙ্গীকারে ওই মামলাটি তুলে নেই। অথচ যেই হারুন সেই হারুনই থেকে গেলো। সর্বশেষ ঘটনার রাতে আমার সামনে আমার মেয়েকে মুত্তাক দিয়ে পিটানো হয়েছিলো। আমার কাছ থেকে জোর পূর্বক সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখেছিলো। শিফার বিরুদ্ধে আপত্তিকর অভিযোগ তুলেছিলো- যার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি সে। শিফা ও তার পিতা পরিবার তখনই ভালো যখন তার আর্থিক চাহিদা পূরন হয়। আমি আলেম মানুষ কোথায় পাবো এতো টাকা আর এই টাকা না দেয়ার কারণেই আমার মেয়ের বিরুদ্ধে অশালীন অভিযোগ তুলে শারিরীক নির্যাতন করা হলো। যা আমি পিতা হয়ে সহ্য করতে পারিনি। যে কারণে আদালতের মাধ্যমে আইনের আশ্রায় নিতে বাধ্য হয়েছি।
হারুনুর রশিদ বলেন, আমার স্ত্রী শিফা আমার কথা মতো চলে না। তাকে ভালো কথা বললেও সে তার মন মতো চলে। আর এভাবেই হয় তার সাথে বাকবিতন্ডা। আসলে তেমন কিছুই নয়- যা নিয়ে সে আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। যাই হোক তবুও সে আমার স্ত্রী। আমি তাকে আবারও ফিরে পেতে চাই । কারণ আমার দুটি সন্তান রয়েছে।
