এবার পুরো অগ্রহায়ণ মাসে শীতের দেখা নেই। পৌষ মাস শুরু হয়ে শেষের দিকে যাচ্ছে, তাও শীত তেমন একটা নেই। আবহাওয়ার এমন বৈপরীত্যের কারণে নানা রোগবালাই দেখা দিতে পারে এমন আশঙ্কা ছিলো মানুষের। কারণ, বাংলাদেশের ঋতুর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে শীত পড়বে, গরমকালে গরম পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। এর বিপরীত যখন ঘটে তখনই আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব দেখা দেয়। কিন্তু পৌষের শেষদিকে এসে হঠাৎ শৈত্য প্রবাহ দেখা দেয়ায় তাপমাত্রা ৩/৪ ডিগ্রি কমে তীব্র শীত পড়া শুরু করে। আর শীতটা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় অসহায় ছিন্নমূল মানুষগুলো বিপাকে পড়ে যায়। শীতবস্ত্রের অভাবে তাদের শীত নিবারণ করতে কষ্ট হচ্ছে।
গত ৩ জানুয়ারি, ২০ পৌষ বুধবার থেকে হঠাৎ শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়। এদিন থেকেই তাপমাত্রা কমার সাথে পাল্লা দিয়ে শীতও বাড়তে থাকে। এখন প্রতিদিনই তাপমাত্রা কমছে। শৈত্য প্রবাহ শুরু হওয়ার আগের দিনের তাপমাত্রার সাথে বর্তমানের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি ব্যবধান। গতকাল শনিবার চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসে যোগাযোগ করে জানা গেছে, ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ চাঁদপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সর্বনিম্ন ছিলো ১৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৩১ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সর্বনিম্ন ছিলো ১৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১ জানুয়ারি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৫.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন ছিলো ১৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২ জানুয়ারি সর্বোচ্চ ছিলো ২৭.৭ আর সর্বনিম্ন ছিলো ১৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৩ জানুয়ারি তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ছিলো ২৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সর্বনিম্ন ছিলো ১৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মূলত এদিন থেকেই শীত পড়তে শুরু করে। পরদিন ৪ ডিসেম্বর তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দুটাই আরো কমে যায়। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সর্বনিম্ন ছিলো ১২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিনের ব্যবধানেই তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি কমে যায়। ৫ জানুয়ারি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৪.৫ ডিগ্রি আর সর্বনিম্ন ছিলো ১২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন আবার বাতাসের আদ্রতা বেড়ে ৮৫ পর্যন্ত পেঁৗছায়, তাই শীত বেড়ে যায়। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সর্বনিম্ন ছিলো ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা জানান, তাপমাত্রা আরো কমতে থাকবে। আর তাপমাত্রা কমলেই শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকে। তাছাড়া চলতি শৈত্য প্রবাহ আরো সপ্তাহখানেক থাকতে পারে বলে তারা জানান।
এদিকে হঠাৎ শীত বেড়ে যাওয়ায় অসহায় ছিন্নমূল মানুষগুলো বিপাকে পড়ে গেছে। শীতবস্ত্রের অভাবে তাদের শীত নিবারণ করতে কষ্ট হচ্ছে। চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্যরা শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও তা এখনো পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া ফরিদগঞ্জে শিল্পপতি এমএ হান্নানসহ স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। এর বাইরে এবার এখনো বড় আয়োজনে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
