রিফাত কান্তি সেন:-
দারিদ্রতা শিশুকে ঘর ছাড়তে করেছে বাধ্য! রিফাত কান্তি সেন:- হোসেন- বয়স নয় কি দশ! নিন্মবিত্ত ঘরের সন্তান। বাবা নেই,অনেক আগে ই মারা গেছেন। সংসারে মা ও বোন রয়েছে। মায়ের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। ছোট বোনটা ও নাকি মাধ্যমিকের দাড়গোড়ায় (ষষ্ঠ শ্রেনী)তাই সুদূর হাজীগঞ্জ থেকে জীবিকার টানে ছুটে এসেছে চাঁদপুর।
না কর্ম নয়,খুঁজছেন টাকা( ভিক্ষাবৃত্তি)কারন হিসেবে সে আখ্যায়িত করেছে কে দেবে চাকরি? যে বয়সে হাতে থাকার কথা বই,সে বয়সেই জীবিকার তাগিদে হাত পাততে হচ্ছে মানুষের দ্বারে দ্বারে। প্রতিদিন সকালে ই সে এসে ভিড় জমান চাঁদপুর মাদ্রাসা ঘাট লঞ্চ স্টেশনে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যা টাকা পান তা দিয়ে ই চলে তার টানাটানির সংসার।
জানতে চেয়েছিলাম তার কাছে, বড় হয়ে কি হতে চাও? হোসেন:- যেখানে দুবেলা দুমুঠো ভাত জুটে না,সেখানে আবার বড় হয়ে কি আর হবো!তবে ব্যবসা করার খুব ইচ্ছা। প্রতিবেদক:- স্বপ্ন দেখো? হোসেন: হ্যা,দেখি। অনেক বড় হতে চাই। সংসারের অভাব দূর করতে চাই। প্রতিবেদক:- পড়ালেখা করতে ইচ্ছা করে না তোমার? হোসেন:-প্রবল ইচ্ছা,কিন্তু কে চালাবে পড়ালেখার খরচ? এর পর হয়তো আর কোন প্রশ্ন থাকে না,হোসেন দের জীবনে ও রয়েছে অনেক স্বপ্ন,রয়েছে বুক ভরা আশা। লক্ষ্য নেই তবু এরা এগিয়ে চলছে,প্রতিনিয়ত ই করছে জীবনের সাথে যুদ্ধ। এমন হোসেন দের মত আমাদের আশে পাশে রয়েছে হাজারো শিশু।
যারা প্রতিনিয়ত জীবিকার টানে ছুটে চলে। এরা স্বপ্ন দেখে,হয়তো পরিসমাপ্তি ঘটে না স্বপ্নের।ইতি টানা হয় না স্বপ্নের। স্বপ্নের সারথী ও হতে চান না কেউ ই। এদের সাথে ই আবার অনেক বিবেকবান মানুষ করেন চড়ম দূর্ব্যাবহার। সমাজে অনেক বিত্তবান ই রয়েছেন যাদের অঢেল টাকা,পয়সা। ইচ্ছে আর মনবলের জোড়ে পাশে দাড়াতে পারেন এসব অবহেলিত শিশুদের। বিপথে তো আমরা অনেক অর্থ ই ব্যায় করি,সুপথে না হয় কিছু অর্থ ব্যায় করে, ঐ সব শিশুদের জীবন থেকে দারিদ্রতার অভিশাপ মুক্ত করি। সমাজের অন্য দশটা শিশু যখন আনন্দ আর উল্লাস নিয়ে বেড়ে উঠছে, ঠিক তখন এদের বেড়ে উঠাটা একটু ভিন্নধর্মী। শিশু লেখা পড়া আর খেলতে, খেলতে বড় হবে এটা ই স্বাভাবিক, কিন্তু ঐ শিশুগুলোর কপালে জোটে না এই বাস্তবতা। আর তাই প্রতিনিয়ত ই পর্দার অন্তরালে নির্যাতিত হচ্ছে শিশু।

