প্রতিনিধি
চাঁদপুরের সদর উপজেলার ইচলী চৌরাস্তা থেকে ফরিদগঞ্জের গল্লাক পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার সড়কটি যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা চলছে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারের পর সরকার বদলালেও সড়কটির অবস্থা বদলাচ্ছে না।
গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, ইসলামপুর, কৃষ্ণপুর, একতা বাজার, মুন্সিরহাট, কামতা বাজার, গল্লাকসহ সড়কটির বিভিন্ন স্থান খানাখন্দে ভরা। কিছু কিছু জায়গায় পিচ ঢালাইয়ের অবশিষ্ট অংশ দেখা গেলেও অনেক জায়গায় এর কোনো চিহৃ নেই। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও শুধু ইট, আবার কোথাও শুধু মাটি দেখা যাচ্ছে।
ঠিকাদার শরীফ মো. ইউনুস জানান, বিএনপি সরকারের সময় তিনি (শরীফ মো. ইউনুস) ১৯৯১ সালে এই সড়কের ওই ২৬ কিলোমিটার এলাকা পাকা করেন। এতে সে সময় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল।
চাঁদপুরের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ থেকে সওজ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ২০১৩ ও ২০১৪ সালে চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ অংশে কিছু কিছু এলাকায় পাঁচ/সাত লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজ করা হয়। এ ছাড়া বড় ধরনের কোনো কাজ হয়নি।
গল্লাক কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম জানান, এ সড়কটি দিয়ে ঢাকা ও চাঁদপুরের লোকজন নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও রামগঞ্জে যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু ২০০১ সাল থেকে সড়কটির এতই বেহাল অবস্থা যে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া আগে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করত, এখন সড়কটির অবস্থা খারাপ হওয়ায় কেউ আসতে চান না।
ফরিদগঞ্জের পশ্চিম সুবিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হানিফ মিয়া জানান, দুই উপজেলার দুই থেকে তিন লাখ মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতেন। কিন্তু ভয়ে এখন অধিকাংশ মানুষ বিকল্প পথে চলেন। এ রাস্তার দুরবস্থার বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতা, আওয়ামী লীগের সাংসদ এবং জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে। কোনো সরকারের আমলেই এর কাজ হচ্ছে না।
ফরিদগঞ্জের মুন্সিরহাট এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগম ও তোফায়েল আহমেদ জানান, তাঁরা সড়কের এ ভয়াবহ অবস্থার কারণে বাকিলা বা হাজীগঞ্জ হয়ে চাঁদপুরে যাওয়া-আসা করেন। এতে তাঁদের সময় ও টাকা বেশি ব্যয় হচ্ছে। ফরিদগঞ্জের সাচনমেঘ গ্রামের আবদুর রব মাস্টার জানান, রাস্তা খারাপ হওয়ায় অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের ভাড়া দুই-তিনগুণ বাড়ানো হয়েছে।
এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী অটোরিকশা চালক মো. বাদল ও মো. দুলালসহ বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেন, সড়কের পাশে বিভিন্ন এলাকায় ১৫-২০টি ইটভাটা তৈরি হওয়ায় এবং এসব ইটভাটার মালামাল ও ইট ট্রাক্টরে করে আনা- নেওয়ার কারণে এ সড়কের এই দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সওজ চাঁদপুরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাহ্রুল আমিন জানান, প্রাথমিকভাবে এই সড়কের ২৪ কিলোমিটার পর্যন্ত উন্নয়নের আওতায় এনে ১০ কিলোমিটার এলাকায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে খুব শিগগির কাজ শুরু করা হবে। এরপর বাকি অংশে ধীরে ধীরে কাজ করা হবে।
শিরোনাম:
বুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
