সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংসের ঘৃণ্য তৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া।
সোমবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের পাঠানো এক বিবৃতিতে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, “গত ১ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে আমি পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে আক্রমণ চালিয়ে দেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংসের অপচেষ্টার কথা উল্লেখ করে দেশবাসীকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমি আবারো সেই আহ্বানের পুনরুল্লেখ করছি এবং সকলকে সম্মিলিতভাবে এ ধরনের ঘৃণ্য তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। ”
তিনি বলেন “ব্যর্থ ও গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পেশি ও অস্ত্রশক্তির ওপর নির্ভরশীল সরকারের ফ্যাসিবাদী নির্যাতন-নিপীড়ন এবং নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ যখন ফুঁসে উঠে প্রতিরোধের লড়াই শুরু করেছে, সেই মুহূর্তে বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের বেশ কয়েকটি ঘটনার কথা আমরা জানতে পেরেছি।”
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “আমি এসব ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িক ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি কঠোর হাতে এই অপতৎপরতা দমনের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
বেগম জিয়া বলেন, “এদেশের মানুষ ধার্মিক কিন্তু সাম্প্রদায়িক নয়। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ আবহমানকাল থেকে এদেশে পাশাপাশি শান্তিতে বসবাস করে আসছে। কিন্তু বিভিন্ন সময় গণবিচ্ছিন্ন শাসকেরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে জনগণের আন্দোলনকে বিপথগামী করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। স্বৈরশাসকদের এহেন ঘৃণ্য তৎপরতাকে নস্যাৎ করে দিয়ে অতীতে আমরা জনগণের আন্দোলনকে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছি। এবারেও তার ব্যত্যয় ঘটবে না ইনশাআল্লাহ্।”
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন,“আমি বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামাসহ ধর্মপ্রাণ নাগরিকবৃন্দ এবং দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সকল স্থাপনাকে যেকোনো আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসুন।”
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “দেশের কোথাও কোনো কুচক্রী মহলের উস্কানিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভাইবোনদের জীবন, সম্পদ ও সম্মান যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে আপনারা সজাগ থাকুন।”
তিনি বলেন, “আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, ধর্ম-গোত্র-সম্প্রদায় নির্বিশেষে এদেশে বসবাসরত প্রতিটি নাগরিকের জান-মাল-সম্ভ্রমের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অধিকারের সুরক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। এর ওপর কোনো আঘাত বরদাশ্ত করা হবে না। ইতোমধ্যে যে কয়েকটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে সেসবের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।”
গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঘৃণ্য তৎপরতার ব্যাপারে কোনো পূর্বধারণার বশবর্তী কিংবা মহলবিশেষের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরুন। প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করুন।”
বেগম খালেদা জিয়া বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে এই আত্মঘাতী ঘৃণ্য তৎপরতা থেকে বিরত থাকতে বলছি। সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে শান্তি বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে সফল করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
