শাহরিয়ার হোসেন কৌশিক ॥ চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম স্ত্রী হত্যার অভিযোগে হত্যা মামলার আসামী হয়েছেন।
প্রথম স্ত্রী কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও চাঁদপুর মহিলা আওয়ামীলীগের সাবেক আহবায়িকা,ফরিদগঞ্জ গল্লাক কলেজের অধ্যক্ষ শাহিন সুলতানা ফেন্সি’কে হত্যার অভিযোগে তার বড় ভাই ফোরকান আহম্মেদ খাঁন বাদী হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ হত্যা মামলায় এ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম ও তার ২য় স্ত্রী জোলেখা বেগম (২৮) কে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। মামলাটি চাঁদপুর গোয়েন্দা পুলিশকে হস্তান্তর করলে তারা প্রথম আসামী এ্যাডভোকেট জহির ও ২য় স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চাঞ্চলকর কিছু তথ্য পেয়েছেন বলে জানা যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে গোয়েন্দা পুলিশ সাদা একটি হাইস গাড়িযোগে এ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম ও তার ২য় স্ত্রীকে আদালতে নিয়ে আসে। এর কিছুক্ষণ পরেই প্রিজম ভ্যানে উঠিয়ে তাদেরকে জেলা কারাগারে নিয়ে যায়। এ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামকে এক নজর দেখার জন্য উৎসুক জনতা আদালত প্রাঙ্গণে ভির জমায়। মামলার অপর আসামীরা হলেন নয়ন মিজি ও বোন রানু বেগম । চাঁদপুর মডেল থানার মামলা নং-১০/০৫-০৬-১৮,মামলাটি তদন্ত করছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিন।
এলাকাবাসী জানায়, এসপি অফিস সংলগ্ন শেখ বাড়ী সড়কে নিজ বাড়ীর ২য় তলায় বসবাস করতেন এ্যাডভোকেট জহির ও তার প্রথম স্ত্রী শাহিন সুলতানা ফেন্সী। তাদের দুজনের প্রায় দিনই দাম্পত্য ঝগড়া ঝাটি হইতো, এ্যাডভোকেট জহির এর স্ত্রী শাহিন সুলতানা ফেন্সী উগ্রমেজাজের ও অহংকারী মহিলা ছিলো। এ্যাডভোকেট জহির ছিলো ভদ্র নম্র সদআলাপী এবং মিশুক প্রকৃতির লোক।এলাকার ছোট-বড় দলমত র্নিভিশেষে সকলের সাথে ছিলে এডঃ জহিরের মধুর সর্ম্পক।এলাকার অনেকেই বলতেছে যে এটা কি হত্যা না আত্মহত্যা,এ খবর নিয়ে গুঞ্জন চলছে।
এলাকাবাসী জানায় এ্যাডভোকেট জহির তারাবী নামাজ আদায় করে পাঁকা মসজিদের সামনে একটি চায়ের দোকেন চা ও সিগেরেট পান করে বাসায় প্রবেশ করে ঘটনার পরেই চাঁদপুরের পুলিশ সুপার সামছুন নাহার,অতিরক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান (এ্যাকশান এন্ড ক্রাইম),ডিবি পুলিশ,মডেল থানা পুলিশ,পিবিআই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত করেন। এ ঘটনায় সোমবার রাতেই এ্যাডভোকেট জহিরকে আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে।
অ্যাড. জহিরুল ইসলামের সহকর্মী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. আহছান হাবীব জানান, অ্যাড. জহির সোমবার এশা এবং তারাবীহের নামাজ জামাতে ষোলঘরস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মসজিদে আদায় করেন। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অ্যাডঃ আহছান হাবীবসহ অন্য মুসল্লিরা শুনতে পান, অ্যাডঃ জহিরুল ইসলামের স্ত্রী খুন হয়েছেন। এমন খবর শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
মামলার বাদী ফেন্সীর বড় ভাই ফোরকান আহম্মেদ খান জানায়, ফেন্সীর সাথে এ্যাডভোকেট জহির প্রায় সময় খারাপ আচরণ ও মারধর করত। হত্যার ঘটপনাটি তারা পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে। এ্যাডভোকেট জহির নিজেই তার প্রথম স্ত্রী ফেন্সীকে হত্যা করেছে বলে পুলিশকে জানান। এদিকে এ্যাডভোকেট জহিরের ৩ মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে পদ্ম ও পাপড়ী বিদেশে থাকার কারনে ফেন্সিকে ফ্রিজিং গাড়ীতে রাখা হয়েছে। তারা দেশে ফেরার পর জানাজার শেষে লাশ দাফন করবে বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন।
