ওমর ফারুক
গত ১৫ মে দুপুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে। অথচ গত ২০ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, দর্শনার্থীদের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে দেখতে হবে। প্রয়োজনে ন্যাশনাল ডাটাবেইসের সঙ্গে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ বিবরণ ও পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে দেখতে হবে। রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ ছাড়া কোনো দর্শনার্থীকে দেখা করার সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সেদিনই দায়িত্ব দেওয়া হয় কারা অধিদপ্তরকে। কিন্তু কারাগারে গিয়ে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মানছে না কারা কর্তৃপক্ষ!
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত আইজি প্রিজনস কর্নেল ইফতেখারুল ইসলাম গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দিদের সঙ্গে যারা দেখা করতে আসে তাদের নাম-ঠিকানা রেজিস্টারে লিখে রাখা হয়।’ সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা দেখতে না পাওয়ার কথা জানালে তিনি বলেন, ‘এমন হওয়ার কথা নয়। বিষয়টা জেনে বলতে হবে।’ যে কারারক্ষী গত ১৫ মে স্লিপ দিচ্ছিলেন তাঁর কাছে দর্শনার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করার নির্দেশনা না মানার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো নির্দেশনার কথা তাঁর জানা নেই।
এ বিষয়ে জানার জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র সুপার ফরমান আলীর মোবাইল ফোনে গত দুই দিন কয়েকবার চেষ্টা করেও ফোনটি চালু পাওয়া যায়নি।
এক কারা কর্মকর্তা জানান, নিয়মানুযায়ী কোনো বন্দির সঙ্গে দেখা করতে চাইলে দর্শনার্থীকে জেল সুপারের কাছে আবেদন করতে হবে। জেল সুপারের অনুমতিক্রমে বন্দির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ মিলবে। এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আসলে এত মানুষ দেখা করতে আসে, যে কারণে সব নিয়ম মানা সম্ভব হয় না। তবে দাগি ও জঙ্গিদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হয়। সব নিয়ম তো মানাই হয়, সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সামনে তাদের দেখা-সাক্ষাৎ করানো হয়।’
কারাগারগুলোতে বিরাজমান অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে গত ২০ এপ্রিল এক সভা অনুষ্ঠিত হয় স্বরাষ্ট্রসচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমদের সভাপতিত্বে। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, ড. শওকত মোস্তফা, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সেই সভায় গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, কারাগারে সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে যায় তাদের আত্মীয়স্বজন। কিন্তু জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে দেখা করতে যায় অপরাধজগতের সন্ত্রাসী বা তাদের সহযোগীরা। ওই সময় আইজি প্রিজনস বলেন, দর্শনার্থীদের জন্য রেজিস্টার সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হয়, তাতে দর্শনার্থীদের নাম-পরিচয় লিপিবব্ধ করে রাখা হয়। তখন স্বরাষ্ট্রসচিব বলেন, দর্শনার্থীদের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে তবেই দেখা করতে দেওয়া সমীচীন হবে। ওই সভায় কারাগারে বন্দিদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়েও অলোচনা হয়। এক কর্মকর্তা বলেন, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে জ্যামার রয়েছে। এটি সচল রাখার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন। কিন্তু লোডশেডিং হলে জ্যামার কাজ করে না। তবে শক্তিশালী ব্যাকআপযুক্ত জেনারেটর থাকলে জ্যামার সার্বক্ষণিক চালু রাখা সম্ভব। ভয়ংকর সন্ত্রাসীরা কারাগারের অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনকে দিয়ে তাদের সুবিধামতো সময়ে লোডশেডিংয়ের ব্যবস্থা করার অপচেষ্টা চালিয়ে থাকে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সভায় আইজি প্রিজনস জানান।
শিরোনাম:
সোমবার , ২২ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
