প্রান্তিক হরিজনদের চাকুরীর ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম চাঁদপুরে মানছেনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ॥ ৩টি কলোনির শত-শত যুবক সরকারি চাকুরী থেকে বঞ্চিত
অতি কষ্টে এরা জীবন যাপন করছে
শওকত আলী ঃ
চাঁদপুরে প্রান্তিক হরিজন আধিজাত সুইপাররা শতশত থাকার পরও তারা তাদেরকে চাকুরী থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। সুইপার পদে হরিজন যুবকরা সার্টিফিকেট সহ আবেদন করার পরও সরকারের যথাযথ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদেরকে তাদের ন্যায্য অধিকারমতো শতকরা ৮০ ভাগ চাকুরী দিচ্ছেনা বলে হরিজন নেতারা অভিযোগ করে জানান। এতে করে চাঁদপুরে প্রান্তিক হরিজনদের ৩টি কলোনির প্রায় ৩শতাধিক যুবক চাকুরী না পেয়ে বেকার জীবন যাপন করছে অতি কষ্টে। তাদের ভাষ্যমতে তাদেরকে সরকারি নিয়মানুযায়ী তাদের কোঠা অনুযায়ী চাকুরী দেওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন হলে তারা বেকার থাকতে হতোনা। চাঁদপুরে যে পরিমান প্রান্তিক হরিজনদের চাকুরী রয়েছে, তাতে তাদেরকে শতকরা ১০ ভাগ হরিজন চাকুরী পেয়ে চাকুরী করে যাচ্ছে। এদের মধ্যে যে সব যুবকরা বেকার তারা স্থানীয় পৌরসভায় চাকুরী করলেও প্রতি মাসে তারা বেতন পাচ্ছে ৬শ’ থেকে ৯শ’ টাকা পর্যন্ত। এ সামান্য অর্থ দিয়ে তাদের জীবন যাপন করতে অতি কষ্ট শিকার করে বাঁচতে হচ্ছে। যারা পৌরসভায় চাকুরী পায়না তারা আবার স্থানীয় আবাসিক বাসা বাড়িতে ও বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও প্যাথলজিতে সামান্য বেতনে চাকুরী করে তাদের সন্তান ও পরিবার পরিজন নিয়ে মারাত্বক কষ্টে অর্ধাহারে অনাহারে জীবন কাটাতে দেখা যায়। চাঁদপুরে যে সব প্রান্তিক হরিজনরা বসবাস করে থাকে তাদের সাথে কথা বললেও তাদের ধর্মীয় নেতাদের সাথে কথা বলে যা জানাগেলো। আমাদের এই বাংলাদেশে স্বাধীনতা অর্জন করার পূর্বে এদেশটি ছিলো পূর্ব পাকিস্তান। তখনও এদেশে এসব সুইপার বা ক্লিনাররা কাজ করেছে। এতে করে সমস্য হয়নি। এদেশের মানুষের নৃত্য দিনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য এসব প্রান্তিক হরিজন জাত সুইপার এ কাজটি করে যেতো। তখন দেশের জনসংখ্যা ছিলো ৭ কোটি, বর্তমানে আমাদের জনসংখ্যা দাড়িয়েছে প্রায় ১৬ কোটি। এসব জাত সুইপার তাদের আধি আবাসন ছিলো ভারতে মাদ্রাজ (চেননাই) প্রদেশে। এদেশটি একসময় শাসন করতো বৃটিশরা, তারা প্রায় ২শ’ বছর এদেশটি পরিচালনা করে। বৃটিশ সরকার তখন এদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা তথা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য ভারত থেকে এদেরকে এদেশে এনে পরিশ্চন্নতার কাজে ব্যবহার করতো। এক সময় এই সুইপাররা এদেশের নাগরিক হয়ে যায়। যার ফলে এদেশের ৬৪টি জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জগুলোতে এদের বসবাসের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় স্থানীয় একটি জায়গার উপর। তারা নিত্যদিন কাজকর্ম শেষে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সেখানে বসবাস করতো। তখন পরিষ্কার পরিশ্চন্ন কর্মি যা ছিলো তা দিয়ে এদেশের মানুষের পরিপূর্ণ সেবা হতো না। যার ফলে অনেকে অতিরিক্ত কাজ করতে হতো এবং এদেরকে তখন ভালোভাবে মূল্যায়নও করা হতো। এরা একদিন পরিষ্কার পরিশ্চন্নতার কাজ না করলে চলাচলে মারাত্বক বেগাত সৃষ্টি হতো। যার ফলে প্রশাসন এদের কথা শুনতো অতি গুরুত্ব দিয়ে। কালের পরিবর্তনে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এদেশের মানুষের কর্ম কমে যায়। যুবকরা বেকার জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এদিকে হরিজন প্রান্তিকদের ও ২শ’ আড়াইশ বছরের জনসংখ্যা অনেক গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। এদেশের মুসলিম সম্প্রদায় ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু পরিবারের যুবকরা এ কাজ করার জন্য বেকুল হয়ে পরেছে এবং এ পরিষ্কার পরিশ্চন্ন কর্মীর কাজে নিয়োজিত হয়ে পরেছে। এতে করে প্রকৃত জাত ও আধি সুইপারদের কাজ দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রান্তিক হরিজনরা তাদের আধিপুরুষের সুইমিং পেশার কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এদেশের সরকার এদের জন্য শতকরা ৮০ ভাগ কোঠার বিধান রাখলেও এদেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দপ্তর এদেরকে বাদ দিয়ে এদেশের অন্য সম্প্রদায়ের মানুষদের এ কাজে নিয়োজিত করে যাচ্ছে বলে জাত সুইপার নেতাদের অভিযোগ। এছাড়া এদেশের মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের যুবকরা কোন কর্ম না পেয়ে নিয়োগ নিয়ে নিজেরা কাজটি না করে জাত সুইপারদের অল্প বেতনে কাজ করায়। আর ওই সব যুবকরা সরকারি বেতনের বেশি অংশ নিজেরা নিয়ে যায়। এছাড়া সরকারি সকল সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছে। গত ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ রেলওয়ে সুইপার পদে ২শ’ ১২ জন বিভিন্ন পর্যায়ের যুবক নিয়েগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। গত ১৪ মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সে নিয়োগের ফলাফল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দিচ্ছেনা। এ ২শ’ ১২জন সুইপার নিয়োগ হলে চাঁদপুরের হরিজন তাদের ৮০ভাগ কোঠা হিসেবে ১৮৫ জন মেডিকেল ক্লিনার পদে চাকুরী পেয়ে তাদের বেকারত্ব দুর হতো।
এছাড়া হরিজন পল্লীর প্রান্তিক হরিজন সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, আমাদের হরিজন নেতারা হরিজন ঐক্যপরিষদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন আন্দোলন ও ধারাবাহিক ভাবে সরকারের কাছে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরে চাহিদার কথা বলে। পুরোপুরি না হলেও সামান্য হলেও দাবী আদায় করতে সক্ষম হয়েছে হরিজন ঐক্যপরিষদ। তবে তারা জানান, তারা পুরোপুরি ও শতকরা ৮০ভাগ লোকের চাকুরীর মাধ্যমে সুফল পেতে চায়।
তারা বলেন, সরকারের কাছে আমাদের এদেশের নাগরিক হিসেবে আংশিক নয় এখনো অনেক চাওয়া পাওয়া রয়েছে। এখন এদেশে ভাঙালী সুইপার ও উপজাতিরা সুইপারের কাজ বিভিন্ন ভাবে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে তারা তাদের কোঠা সঠিক ভাবে পাচ্ছেনা। সরকার হরিজন প্রান্তিকদের জন্য কোঠার কথা বলে দিলেও তার কোন সরকারি বাস্তবায়ন হতে দেখা যাচ্ছে না। তারা বলে সরকার তাদের ৮০ ভাগ লোক নিয়োগের নীতিমালা করলেও শতকরা ৩০ ভাগ লোকও আমাদের নেয় না। যে কোন স্থানে ১০ জন লোক নিলে তাদের মধ্য থেকে নেওয়া হয় ২ জন।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর রেলওয়ে হরিজন কলোনির শ্রী শ্রী মহাবীর রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক বিধান চন্দ্র দাস (জনি) হরিজন জানান, চাঁদপুর জেলায় প্রান্তিক হরিজনসহ বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হরিজনদের জন্য সুইপার, ঝাড়–দার ও পরিষ্কার পরিশ্চন্ন কর্মী পদে হরিজনদেরকে ৮০ ভাগ কোঠা প্রদান করেছে। কিন্তু বাস্তবরূপে এ কোঠাগুলো নিয়োগ অধিদপ্তর গুলোতে সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমরা অবগত আছি যে, সারা বাংলাদেশে হরিজন ঐক্য পরিষদ নামে একটি সংগঠন রয়েছে। তারা আন্দোলন ও ধারাবাহিকতার মাধ্যমে সরকারে কাছে মৌলিক চাহিদা কোঠাগত সুইপারের চাকুরী সহ সংগঠনের মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবী উপস্থাপন করা হয় এবং এর ফলে আংশিক সুফল আমারা পেয়েছি। এছাড়া আমাদের ন্যায্য পাওনা ও দাবী ধাওয়া সরকারের কাছে এখনো অনেক চাওয়া পাওয়া রয়েছে। হরিজন জাত সুইপারদের জন্য শতকরা ৮০ ভাগ কোঠা রয়েছে, সেটা আমরা যানি। কিন্ত তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমরা কোঠা অনুসরন করে আবেদন করে থাকি, কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় যে আমরা এখনো কোঠা অনুযায়ী আবেদন করা সত্বেও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকি। এ আবেদন করার ক্ষেত্রে হরিজন ঐক্য পরিষদের আধিজাত সুইপারের সার্টিফিকেট পেইডের মাধ্যমে দরখাস্তের সাথে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে চাঁদপুর জেলার ক্ষেত্রে হরিজনদের চাকুরীর ৩টি কলোনির আনুমানিক ২শ’ থেকে ৩শ’ যুবক বেকার রয়েছে। তার মধ্যে ১৫-২০ জন কোঠা প্রদানের পরে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে চাকুরী পেয়েছে, যা কোঠানুযায়ী খুবই কম, যা শতকরা ১০ ভাগ হিসেবে চাকুরী পেয়েছে। সরকারি তালিকানুযায়ী চাঁদপুর হরিজন কলোনিতে ৪শ’ যুবক বেকার রয়েছে। চাঁদপুর পৌরসভা কিছু প্রান্তিক যুবক চাকুরী করে তারা প্রতি মাসে ৯শ’ টাকা বেতন পায়। কিছু যুবক জীবন বাঁচাতে স্থানীয় ক্লিনিক, বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও আবাসিক বাসা বাড়িতে ময়লা পরিষ্কার করে সামান্য বেতন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। অনেকে পাশর্^বর্তী উপজেলায় ও কাজ করে থাকে। সর্বশেষ ব্যাক্তিগত ভাবে উক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে চাই যে, গত ৪ ডিসেম্বর ২০১৬ চাঁদপুর জেলার কোঠা হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামে মেডিক্যাল ক্লিনার হিসেবে সুইপার পদে পরীক্ষা দিয়ে আসে অনেক হরিজন যুবক। কিন্তু অদ্য পর্যন্ত এ পরীক্ষা চুড়ান্ত ফলাফল ১৪ মাস পরেও দেওয়া হয়নি। যে ফলাফলের মাধ্যমে ২শ’ ১২ জন সুইপার পদে শতকরা ৮০ ভাগ কোঠা হিসেবে প্রায় ১শ’ ৮৫ জন জাত হরিজন সুইপার চাকুরী পেতো এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো।
চাঁদপুর পুরান বাজার হরিজন যুব ক্লাবের সভাপতি শ্যামল দাস জানান, সরকারি চাকুরীর ক্ষেত্রে প্রান্তিকদের কোঠা বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। অবগত থাকলেও তার কোন সরকারি বাস্তবায়ন হতে দেখা যাচ্ছে না। হরিজন ঐক্য পরিষদের মাধ্যমে জাতিগত সনদের মাধ্যমে ৮০ ভাগ কোঠার জন্য প্রত্যেকে আবেদন করে, কিন্তু সে অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরা সে চাকুরী বিভিন্ন ভাবে নিয়ে যায়, তারা বাঙালী সুইপার। জাতি উপজাতি ও রয়েছে সেখানে। আমাদের শতকরা ৩০ ভাগ লোকও সরকারি চাকুরীতে নিয়োগ পায়নি। কোন জায়গায় ১০ জন লোক নিলে সেখানে আমাদের মধ্যথেকে চাকুরী পায় ২ জন। এক জরিপে দেখা যায়, আবেদনের মাধ্যমে আমাদের এখানে বসবসরত ২শ’ জনের মধ্যে ৭ জন চাকুরী পেয়েছে। বাকিরা চাকুরী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ পরিষ্কার পরিশ্চন্নতার চাকুরী উৎকোচ দিয়ে বা বিভিন্ন ভাবে সহায়তার মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এখানে বসবাসকারি ৩শ যুবক বর্তমানে বেকার রয়েছে। তার মধ্যে সরকারি চাকুরী করছে ১৫ জন। পৌর সভায় কাজ করছে ৫০টি পরিবারের মধ্যে ২শ’ ৫০ জন। অন্যরা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে স্বল্প বেতনে কাজ করছে। প্রাইভেটে চাকুর করে এরা ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা বেতন পাচ্ছে। বেকার রয়েছে প্রায় ৫০জন যুবক। পৌরসভার ড্রেইনে কাজ কররে প্রতিমাসে ৯শ’ টাকা, রাস্তায় কাজ করলে ৯শ’ টাকা ও ট্রাকে ময়লা পরিবহন করলে ৩ হাজার টাকা এবং ঠেলাগাড়িতে ৯শ’ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। সরকারি চাকুরী যারা করে তারা হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ জন। এরা বেতন পচ্ছে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে প্রায় ১৫-১৬ হাজার টাকা।
চাঁদপুর হরিজন সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিরা লাল সরকার মুন্না জানান, আমরা আমাদের কোঠা হিসেবে অবগত আছি। কার্যক্ষেত্রে বাস্তবায়ন নেই। বাঙালী সুইপার, ওহরিজন এ চাকুরী দখল করে নিচ্ছে, যার ফলে আমাদের বেকারত্ব দিন দিন বাড়ছে। সরকারি চাকুরীর ক্ষেত্রে শতকরা ৮০ ভাগ সম্পর্কে অবগত আছি। সরকারি ও আমলা তান্ত্রিক জটিলতায় এ সমস্যা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের কোন অগ্রগতি নেই। সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করছি। ৩টি কলোনিতে প্রায় ১ হাজার হরিজন পরিবার রয়েছে চাঁদপুরে। এদের মধ্যে বেকার যুবক রয়েছে প্রায় ৩শ’ জন। সরকারি চাকুরী করছে ৬০-৭০জন, বাকিরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কম বেতনে চাকুরী করছে। তারা বেতন পাচ্ছে প্রতিদিন হাজিরা হিসেবে ৩০ টাকা, সেই হিসেবে মাসে মাত্র ৯শ’ টাকা। এতে করে স্বল্প বেতনের কারনে বতর্মান দ্রব্য মূল্যের বাজারে জীবন যাপন দূর্বিসহ হয়ে পরেছে। সন্তানদের প্রকৃত ভাবে শিক্ষা দিতে পারছেনা অর্থের অভাবে হরিজন পরিবারের লোকেরা। আমাদের বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ নামে একটি সংগঠন রয়েছে। সেখান থেকে জাত হরিজন আধি পেশাজীবি জাত সুইপারদের সার্টিফিকেটের মাধ্যমে এ সংগঠানের রেজিষ্ট্রেশনকৃত সহায়তায় চাকুরীর আবেদন করা হয়। সরকারি চাকুরীর ক্ষেত্রে শতকরা ৮০ ভাগ কোঠা আধিজাত সুইপারদের বিধান থাকলেও শতকরা ১-২ জন চাকুরী পায়। আবেদন করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয় না, তা নাম মাত্র বাস্তবায়ন হয়। তাই হরিজনদের জীবন জীবিকার তাগিদে সরকারি ভাবে তাদের জন্য শতকরা ৮০ভাগ প্রকৃত জাত হরিজনদের চাকুরী দিয়ে বেঁচে থাকার বাস্তবায়ন চাচ্ছেন হরিজন নেতা হিরা লাল সরকার।
চাঁদপুর হরিজন সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আকাশ দাস হরিজন জানান, আমরা শতকরা ৮০ ভাগ চাকুরীর কোঠা পাব সে হিসেবে অবগত আছি যে, বতর্মান গণতান্ত্রিক সরকার বর্তমানে হরিজনদের পরিষ্কার পরিশ্চন্ন কর্মী হিসেবে শতকরা ৮০ ভাগ কোঠা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে সম্প্রদায়িক হিসেবে আমরা অবগত আছি সরকার তা ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু আমরা তা বাস্তবে পাইনা। শতকরা ৮০ ভাগ কোঠা হিসেবে চাকুরী দেওয়া হয় না। বর্তমানে যে নিয়োগ দিচ্ছে তা শতকরা ৫০ ভাগ হিসেবে গন্য করা হচ্ছে। বিগত দিনে ৮-১০ ভাগ সরকারি চাকুরী পেয়েছে কোঠা উল্লেখ সত্বেও। আমরা কোঠা অনুসরনে পরিশ্চন্ন কর্মী হিসেবে আবেদন করে থাকি, এ আবেদনের সাথে হরিজন ঐক্য পরিষদ পূর্ব থেকে জাত সুইপার হিসেবে পরিশ্চন্ন কর্মীর সনদ দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে জন প্রশাসন মন্ত্রনালয় জাত সুইপারদের নিয়ে দিধা দন্ধ থাকায় কেন্দ্রীয় ভাবে হরিজন ঐক্য পরিষদের সনদ বাতিল করে জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক মেয়র, কাউন্সিলরের মাধ্যমে জাত সুইপার সনদ দেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। তা বর্তমান হরিজন সম্প্রদায়ের লোকেরা ওই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে হতাশায় ভুগছে। এ পদ্ধতিতে তাদের ক্ষতি সাধন হবে বলে তারা মনে করে। ইতিমধ্যে আবেদনের প্রেক্ষিতে শতকরা ১০-১৫টি পরিবার চাকুরী পেয়েছে। বেকার রয়েছে ৩ কলোনির মিলে প্রায় ৩শ’ যুবক। এরা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে অল্প বেতনে চাকুরী করছে। এরা অনেকে পৌরসভায় চাকুরী করে প্রতি মাসে ৯শ’ থেকে ১২শ’ টাকা বেতন পাচ্ছে, আর প্রাইভেটে চাকুরী করে পাচ্ছে ১৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা। এতে তাদের পরিবারের ছেলে মেয়েদের শিক্ষার খরচ দিতে পারছেনা। অতিকষ্টে তাদের দিন যাপন করতে হচ্ছে। এজন্য পৌরসভা উদ্যোগ নিয়ে পৌরসভায় বেতন বৃদ্ধি, পড়াশুনার ক্ষেত্রে শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ প্রদান করা প্রয়োজন বলে হরিজন নেতা আকাশ দাস জানান।
মোহাম্মদ শওকত আলী, চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ এবং শারি’র দলিত এন্ড মাইনরিটি হিউম্যান রাইটস মিডিয়া ডিফেন্ডার ফোরামের সদস্য।
