
শাহরিয়ার খান কৌশিক ॥
অভয়াশ্রম চলাকালীন সময়ে পদ্মা মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে চর আলেকজেন্ডার পর্যন্ত কোন ধরণের মাছ ধরা, সরবরাহ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে সরকার। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করে অসাধু জেলেরা আইন না মেনে অবাধে জাটকা ইলিশ নিধন করে বিক্রি করছে। হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী কাটাখাল খুরশার মোড় পশ্চিম পাশে মেঘনা নদীর পার থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬টি ট্রাক বোঝাই জাটকা পাচার হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। জানা যায়, চরভৈরবী বালিয়ার চর ৯নং ওয়ার্ডের রুহুল আমিন মেম্বার, হুমায়ুন প্রধানিয়া, নজু ফকির, শিমুল চোকদার ও পুলিশের সোর্স গিয়াস উদ্দিন মোল্লা, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন রাতে এ জাটকার বড় চালান ট্রাক বোঝাই করে পাচার করে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে ট্রাকগুলো সারিবদ্ধভাবে নদীর পারে অবস্থান করার পর দ্রুত আরৎদাররা গাড়িতে মাছ লোড করে ফেলে। পরে একই সাথে চরভৈরবী হায়দারগঞ্জ হয়ে রায়পুর থানার সামনে দিয়ে লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী নিয়ে বিক্রি করে। একটি সূত্র জানায়, হাইমচর চর ভৈরবীর উল্লেখিত ব্যক্তিরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই জাটকার চালান পাচার করে। তারা গাড়ি প্রতি নির্ধারিত টাকা প্রশাসন ও পুলিশের সোর্সদের দিয়ে জাটকা চালান পাচার করে। হাইমচরের সাংবাদিকরা বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুর রহমানকে এদের বিরুদ্ধে ব্যবসস্থা নেয়ার জন্য বললেও তারা কর্ণপাত করে নি। এ ছাড়া হাইমচর ও চরভৈরবী থেকে আড়ৎদাররা প্রতিদিন স্পীড বোট বোঝাই করে ঢাকায় নিয়ে জাটকা মাছ বিক্রি করে।
একটি সূত্র জানায়, হাইমচর নিলকমল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুর রহমান পুলিশ পাহাড়া দিয়ে আড়ৎদাররা ব্যবসায়ীদের জাটকা পাচারে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া সচেতন ব্যক্তি ও স্থানীয় সাংবাদিকরা জাটকা মাছ নিধন বিক্রি ও ট্রাক বোঝাই করার সময় তাকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বললে সে জাটকা ব্যবসায়ীদের মোবাইলে ফোন করে সচেতন করে দেয়।
পুলিশের সোর্স গিয়াস উদ্দিন মোল্লা পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিদিন জেলেদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া জাটকা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পুলিশকে দিয়ে এ জাটকা পাচারে সহযোগিতা করে।
