
স্টাফ রিপোর্টার:॥ বাংলাদেশের জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে দেশ থেকে দারিদ্র মোচন করতে এই প্রথম কাজের বিণিময়ে টাকা (কাবিটা) ইজিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যেগ নেয়। এই প্রকল্পে ৪০ দিনের মধ্যে শুধুমাত্র শ্রমিক দিয়েই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। সেই আলোকে সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুর হাইমচরে ইজিপিপি প্রকল্প কাজে শুরুতেই ব্যপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে ইজিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পিআইও ফিল্ড সুপার ভাইজার (এফএস), ট্যাগ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ইউপি চেয়ারম্যানরা কাজের এ অনিয়ম করে যাচ্ছে বলে জানা যায়। হাইমচর উপজেলার ৫ নং ইউনিয়নের ৭টি প্রকল্পে রাস্তা নির্মাণ বাস্তবায়নের জন্য ২১ লক্ষ ৪ হাজার টাকা বরাদ্ধ হয়। ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত সরকার তার প্রকল্পে ৩টি রাস্তা গত ১ মাসের মধ্যে এসকেব্যাটার (ভেকু মেশিন) দিয়ে তরিঘড়ি করে ১ম ধাপের রাস্তার কাজ করিয়ে নেয়। সে কাজের বিল উত্তোলনের জন্য তিনি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজস চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানাযায়, ইজিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়ম অনুযায়ী ৫ নং হাইমচর ইউনিয়নে ৭টি প্রকল্পের মধ্যে জাহান শরীফের বাড়ী থেকে খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে ৯৫জন শ্রমীক নির্ধারন হয়। বকি ৬টি প্রকল্পে মধ্যে ২য় রাস্তাটি শরীফ গোলদারের বাড়ী থেকে ফারুক সরকারের বাড়ী পর্যন্ত, ৩য় রাস্তাটি বিল্লাল রাড়ির বাড়ী থেকে স‘প্রাবি পর্যন্ত, ৪র্থ রাস্তাটি গিয়াসন উদ্দিনের বাড়ী থেকে সাজু খানের বাড়ী পর্যন্ত, ৫ম রাস্তাটি এ্যলেটমেন্ট গুচ্ছগ্রাম থেকে আশ্রায়ন প্রকল্প পর্যন্ত, ৬ষ্ঠ রাস্তাটি ৩নং ওয়ার্ড মসজীদ থেকে আলম সরদারের বাড়ী পর্যন্ত ও ৭ম রাস্তাটি আশ্রায়ন প্রকল্প থেকে স্বপন সরদারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তার জন্য ২৮ জন শ্রমিক কাজ করার জন্য নিযুক্ত করা হয়। প্রতি শ্রমিকের নামে ব্যাংক একাউন্টে সে টাকা সরকার প্রদান করবে। ইউপি চেয়ারম্যান সরকারের ইজিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের এ মহতি উদ্যেশ্য নস্যাৎ করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে শ্রমিক দিয়ে কাজ না করিয়ে ভেকু মেশিন দিয়ে প্রকল্পের প্রথম ধাপ কাজ শেষ করে। গত রবিবার প্রকল্পের ১ম ধাপের কাজ শেষ করে বিল উত্তোলনের পায়তারা চালাচ্ছে ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত সরদার। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়,হাইমচরের ৫ নং হাইমচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঢাকা থেকে ভেকু মেশিন ঘন্টা হিসেবে ভাড়া এনে গত ১মাস যাবৎ প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণের ১ম ধাপের কাজ শেষ করে। এ সময় ঐ ইউনিয়নের গ্রাম্য পুলিশ বাবুল মিয়াজী জানায়, আশ্রায়ন প্রকল্পের সামনের রাস্তাটিসহ দুটি রাস্তা গত ১ মাসের মধ্যেই ভেকু মেশিন দিয়ে খুব দ্রুত করিয়ে ফেলেছে। এ রাস্তা নির্মাণ কোন শ্রমিক কাজ করেনা। এ প্রকল্পে বঞ্চিত কয়েকজন শ্রমিক জানায়, ইউপি চেয়ারম্যান নিজের স্বার্থ হাসিল করতে শ্রমিকদের দিয়ে রাস্তা নির্মানের কাজ না করে, ভেকু দিয়ে কাজ সম্পন্ন করে। সে কাজের টাকা তুলতে উল্টো শ্রমিকদের নামে এ্যকাউন্ট করেছে। তার মনোনিত লোকদের দিয়েই সে টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেয়ার পায়তারা করছে। এতে করে হাইমচরের দরিদ্র শ্রমিকরা কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এই ব্যাপারে হাইমচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইজিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ও কাজের দেখবাল করতে পিআইও ,ফিল্ড সুপার ভাইজার (এফএস), ট্যাগ কর্মকর্তা কাজ করবে। ৫নং হাইমচর ইউনিয়নের কাজের তদারকি করতে ট্যাগ কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মাহাবুবকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। এই ইউনিয়নে ইজিপিপি প্রকল্পে শ্রমিক দিয়ে কাজ না করে ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তা নির্মাম করা হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাইমচর উপজেলা পিআইও আমিনুর রশিদের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি, বলেন আমাদের কাছে এই ধরনের কোন অভিযোগ কেউ করেনি। আমি কিছুই জানিনা বলে তার মোবাইলটি কিছুক্ষন পর বন্ধ করে দেয়।
ইজিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নে ট্যাগ কর্মকর্তা উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মাহাবুব জানায়, আমি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে শুধু কাগজে কলমে আছি। আমাকে সেখানে যেতে দেয়নি। আমার কোন স্বাক্ষর নেয়নি। আমি এই প্রকল্পের কাজের বিষয়ে কিছুই জানিনা।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজের বিষয়ে ৫নং হাইমচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাদাত সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৭টি প্রকল্পে মধ্যে ১টি রাস্তা শ্রমিক দিয়ে কাজ না করে ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি গুলোর রাস্তা শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হবে। প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজের টাকা এখনো পায়নি।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিক গিয়ে ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার ছবি, ভিডিও ফুটেজ নেওয়ার খবর পাওয়া ও চেয়ারম্যান শাহাদাত সরকারকে ফোন করে এই অনিয়মের কথা জানতে চাওয়ার পরেই চেয়ারম্যানের জনৈক পতিনিধি (গ্যাটিস)বিভিন্ন ভাবে তববির করতে শুরু করে। কাজের বিণিময়ে টাকা (কাবিটা) ইজিপিপি প্রকল্প্রে এই অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ না করতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে ফোন করে ম্যেনেজ করার চেষ্টা করে।
